৯ আশ্বিন ১৪২৫, সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৮:১৭ অপরাহ্ণ

এবার সর্বোচ্চ মামলার আসামী তৈমূর


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৪৩ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার


এবার সর্বোচ্চ মামলার আসামী তৈমূর

২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করার পর থেকেই কিছুটা অভিমান ছিল ওই সময়কার জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকারের। ৬৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদকে পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা করা হলে জেলা পর্যায়ের রাজনীতি থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিমুখি হলেও জেলার নাশকতার মামলা তাকে পিছু ছাড়েনি। একের পর এক রাজনৈতিক মামলায় জর্জরিত করেছে তাঁকে। বিএনপি থেকে একমাত্র প্রার্থী যিনি একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসন থেকে মনোনায়ন প্রত্যাশী। জাতীয় গণমাধ্যমের পরিচিত মুখ, বর্নাঢ্য রাজনৈতিক পথচলা ও নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয় হওয়ায় প্রতিপক্ষের টপ লিস্টে থাকেন সর্বদাই। তাই মামলা মোকাদ্দমা হজম করেছেন একাধিক।

গত কোরবানির ঈদের পর থেকে এ পর্যন্ত মামলা হজম করেছেন ৪টি। এর ভেতর রূপগঞ্জ থানায় ৩টি ও ফতুল্লা থানায় ১টি। নারায়ণগঞ্জ ১ ও ৫ আসনে মনোনায়ন প্রত্যাশী হওয়ায় রূপগঞ্জ ও সদর থানার নাশকতা মামলায় তার নাম পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশী।

গত ২৩ আগস্ট রূপগঞ্জে বেসরকারী টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দেন তৈমূর আলম খন্দকার। সাক্ষাৎকার দেয়া শেষেই শুরু হয় সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান। এসময় ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় জেলা ওলামা দলের সভাপতি মুন্সি শামসুর রহমান খান বেনু সহ ৪৪ জন।

১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকার সমাবেশে যোগ দেন তৈমূর। এসময় বিপুল সংখ্যক কর্মীদের উপস্থিতিতে অনেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির পুনরুত্থান বলে মন্তব্য করেন।

৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মো: শফিউল আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন, হাজী আ: কাদের ও ইসমাইল হোসেন। তাদের কাছ থেকে ৫টি ককটেল, ১৮ পিছ লোহার রড ও ১৯টি বাশের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তারা হলো জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আকরাম প্রধান, যুবদল নেতা সরকার আলম, জাহাঙ্গীর আলম, রানা মজিদ, সরদার আলম, আকরাম প্রধান, আবুল কালাম আজাদ, জাকির হোসেন, মাসুদুর রহমান মাসুদ, মো: আনোয়ার হোসেন, তারিকুল ইসলাম তারেক, পরান, জীবন, জাকির, শহীদুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম হাফিজ, মো: মিরাজুল ইসলাম, মো: আসলাম দেওয়ান, রহিম, মো: আক্কাস মিয়া, মো: কামাল, মো: জয়নাল আবেদীন, স. ম শহীদুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান শাহীন, মো: সেলিম মিয়া, জাহাঙ্গীর, সেলিম সর্দার, ছানোয়ার হোসেন, আলমগীর, মোখলেছুর রহমান, উমর আলী, মাইনুল হোসেন রতন, সফি দেওয়ান, মোহাম্মদ হোসেন, সিরাজ মাদবর, সাইদুল মিয়া, মো: দেলোয়ার হোসেন, সৈকত হোসেন, সোহেল আব্দুল্লাহ, শাহীন মুন্সী, হাফিজুল ইসলাম, মো: জাকির হোসেন ও শফিউল সরদার খোকন। অজ্ঞাত আরো ৭০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

আসামীদের বিরুদ্ধে ৮ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা থানার জামতলা ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে রাস্তার উপর ১০০/১২০জন নেতাকর্মী বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র-সস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যে সজ্জিত হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল ও নাশকতামূলক কর্মকান্ড ঘটানোর উদ্দেশ্য সমবেত হয়ে নারায়ণগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা, পাওয়া হাউজ, রেলপথ উড়ানো, তেলের ডিপোতে হামলার অভিযোগ আনা হয়। ওই ঘটনাস্থল থেকেই ২ জনকে আটকের বিষয়টি উল্লেখ করা হয় মামলায়।

৯ সেপ্টেম্বর রাতে রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব উপ-পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন ভূইয়া, সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরী, যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম সায়েম ও সেক্রেটারী মাহবুবু রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন দেওয়ান সহ ৮৩ জন নামীয়সহ আরো অজ্ঞাত নামা ২২ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানাযায়, ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়া মস্তাপুর এলাকায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুল মতিন চৌধুরীর বাসভবনের ভিতরে বিএনপির নেতাকর্মীরা বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্য সমবেত হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ৫টি ককটেল বিস্ফোরন ঘটনায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কাঞ্চন পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন মিয়া ও মোজ্জাম্মেল নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেন।

রূপগঞ্জে গত ৩ সেপ্টেম্বর নাশকতার অভিযোগ এনে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের ৩৫ নেতাকর্মীকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু, আনোয়ার সাদাত সায়েম, আমিরুল ইসলাম ইমন সহ নামীয় ৩৫ জন ও অজ্ঞাত ২২ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়।

৫ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জে বিএনপি নেতা আব্বাস উদ্দিন, নুরুজ্জামান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান হুমায়ন, বশির উদ্দিন বাচ্চু ও ওমর ফারুক, নাসির উদ্দিন ভূইয়া, শফিকুল ইসলাম চৌধুরীসহ নামীয় ৪৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। এসময় বিএনপি নেতা আব্বাস উদ্দিন ও নুরুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। রূপগঞ্জ থানার (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ভুলতার গাউছিয়া মার্কেটের সামনে বিএনপির ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা করছে বলে পুলিশের কাছে খবর ছিলো। পরে নাশকতার অভিযোগ এনে ভুলতা ফাড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাদিরুজ্জামান বাদী হয়ে ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বিএনপি নেতা আব্বাস উদ্দিন ও নুরুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়।

বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী জানান, অন্যান্য নেতাকর্মীদের চাইতে তৈমূর আলম খন্দকার সবচেয়ে বেশী জনসম্পৃক্ত। তার নামে বেশী মামলা থাকলেও তিনি আমাদের মামলার খবর নেন এবং দ্রুত মামলার জামিনের ব্যাপারে সহায়তা প্রদান করেন। কোন কর্মী কোন নেতার পক্ষে কাজ করছে তা তিনি ভাবেন না। নিজ দলের সকল কর্মীর জন্য নিজেকে সর্বদা উজার করে দেন তিনি।

কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মঈনুল হোসেন রতন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমাদের ফতুল্লা বিএনপির নেতারা আমাদের খবর নেয় না। আমরা কিভাবে আছি, কোথায় আছি, জেল জুলুমের শিকার হলে খোঁজ নেয়ার মত নেতা আমাদের নেই। কিন্তু আমাদের আসনের মনোনায়ন প্রার্থীরা ঝামেলা দেখলে বিদেশে গাঁ ঢাকা দিলেও তৈমুর ভাই আমাদের ঠিকই খবর রাখে। উনি আমাদের আসনের মনোনায়ন প্রত্যাশী নন কিন্তু আমাদের মামলা মোকাদ্দমা হাইকোর্ট থেকে জামিনের ব্যবস্থা করে দেন বিনা পয়সায়।’

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, সরকার বিরোধী পক্ষের নেতাদের জনপ্রিয়তা দেখে সে অনুযায়ী মামলা দিচ্ছে। যে সকল নেতারা বেশী জনপ্রিয় তাদের ঘাড়ে জুটছে সবচেয়ে বেশী মামলা। সরকার বিরোধী পক্ষের সকল নেতাকর্মীদের জেলে প্রেরণ করে একতরফা নির্বাচন করতে চায়। আর সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই সম্প্রতি এতগুলো মামলা করা হয়ছে।

জেলা বিএনপির সাবেক এই সভাপতি আরো বলেন, এমনো শুনেছি আমার নাম পেন্ডিং করে রেখেছে বিভিন্ন থানায়। সুযোগ পেলেই এজাহারে নাম ঢুকিয়ে দিবে। যারা ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাত ও এমপিদের মন রক্ষা করে চলছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। আর গ্রেফতারের ভয় নিয়েও তাদের দৌড়াতে হয় না। এতগুলো মামলাই প্রমাণ করে সরকারের বিরুদ্ধে আমরা আপোষহীন ভাবে লড়াই সংগ্রাম করে যাচ্ছি এবং আগামীতেও যাব।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ