১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০৪ অপরাহ্ণ

UMo

দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজের ৫৭ লাখ টাকা চাঁদাবাজির প্রমাণ প্রদর্শন(ভিডিও)


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৬ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার


দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজের ৫৭ লাখ টাকা চাঁদাবাজির প্রমাণ প্রদর্শন(ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় কুতুবপুর ইউনিয়নে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) থেকে জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের নেতৃত্বে বছরে ৫৭ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকরা। চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করলে কিংবা চাঁদা দিতে দেরী হলে শ্রমিকদের উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ।

রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফতুল্লার নয়ামাটি এলাকায় অবস্থিত সিসিলি কমিউনিটি সেন্টারে অটোরিকশা মালিক শ্রমিকের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান মালিক ও শ্রমিকরা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অটোরিকশা মালিক মাহবুবুর রহমান, শফিকুল ইসলাম, আক্তার হোসেন ঝন্টু, মোঃ জুয়েল, আলী আকবর, মোঃ বাবুল, ইলিয়াসউদ্দিন কাজী, আব্দুল কুদ্দুস, শোয়েব, আবুল হাশেম, আব্দুস সামাদ, আব্দুল মান্নান, প্রতিবন্ধী শ্রমিক জাহাঙ্গীর প্রমুখ। পরে শ্রমিকরা পাগলা জালকুড়ি সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

সংবাদ সম্মেলনে মালিক ও শ্রমিকরা জানান, আমরা এই ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) চালিয়ে কোন রকমে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করি। অথচ ব্যটারীচালিত অটোরিকশার কমিটির আহবায়ক ও জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের নেতৃত্বে একটি চাঁদাবাজ মহল আমাদের পেটে লাথি মেরে আমাদের পরিবারের হক নষ্ট করে জোড় জুলুম অন্যায় অত্যাচার করে আমাদের ঘাম ঝরানো অর্থ টোকেনের মাধ্যমে চাঁদাবাজী করে নিয়ে যায়। আমরা বিপদে আপদে পড়লে সড়কে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তারা আমাদের কোন সাহায্য সহযোগিতা করেনা অথচ সাহায্য সহযোগিতার কথা বলে প্রতিদিন আমাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে আমাদের কষ্টের উপার্জিত অর্থ। ৬ বছর আগে টোকেন বাবদ প্রতি অটোরিকশা থেকে নেয়া হয়েছে ৬ হাজার ৫০০ টাকা। ৪০০ অটোরিকশা থেকে নেয়া হয়েছে সর্বমোট ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতি ৩০ টাকা চাঁদা হিসেবে ৪০০ টি অটোরিকশা থেকে দৈনিক ১২ হাজার টাকা যা মাসে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা যা বছরে দাড়ায় ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া ৩০০ টাকা মাসিক চাঁদা হিসেবে প্রতি মাসে ৪০০ টি অটোরিকশা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা যা বছরে দাড়ায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শ্রমিকদের কল্যাণ ফান্ডের কথা বলা হলেও গত ৬ বছরে কেউই কল্যাণ ফান্ডের কোন হিসাব পায়নি। বরং হিসাব চাওয়ায় কমিটির সদস্যদেরকেও লাঞ্ছিত করে কমিটি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। কুতুবপুর এলাকায় ব্যটারীচালিত অটোরিকশার কমিটির আহবায়ক ও জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের অনুগামী আজিজুল হক, মজিবর, সালু, সোহাগসহ একটি সিন্ডিকেট চাঁদাবাজি করে আসছে। এভাবে পঞ্চবটি থেকে পাগলা রুটেও বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি চলে আসছে। আমাদের গরীবের ঘাম ঝরানো এই অর্থ দিয়ে কেউ কেউ রাতারাতি বিশাল অর্থের মালিক হয়ে গেছেন।আমরা আর কোন চাঁদাবাজকে চাঁদা দিতে চাইনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি অচিরেই যেন আমাদের এই চাঁদা দেয়া বন্ধ হয়। আমরা স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানকেও জানিয়েছি তিনি আমাদেরকে কাউকে চাঁদা না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কাউসার আহাম্মেদ পলাশ গণমাধ্যমকে জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগ সত্য নয়। যদি এ ধরনের কোন প্রমাণ থেকে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ একটি স্বাধীন সংগঠন। এখানে কোন চাঁদাবাজি হয়না।

উল্লেখ্য সম্প্রতি ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাশ অনুগামী ৪ জন চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজির অর্থ ও রশিদসহ আটকের পরে মামলা দায়ের করেছিল ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ। ওই মামলায় পলাশ অনুগামী আজিজুল হকসহ আরো দু’জনকে আসামী করা হয়েছিল।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ