৭ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮ , ৮:০২ পূর্বাহ্ণ

UMo

সবুজ সংকেতে দল গোছাচ্ছেন জাতীয় পার্টি, চুপ আওয়ামীলীগ


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩৯ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার


সবুজ সংকেতে দল গোছাচ্ছেন জাতীয় পার্টি, চুপ আওয়ামীলীগ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ইস্যুতে সব নেতাকর্মীর চোখ রয়েছে। আর সেই গ্রীন সিগন্যালে নারায়ণগঞ্জের ৪ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নাম উঠে এসেছে। তার মধ্যে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টি থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এমপি সেলিম ওসমানের নাম উঠে এসেছে। আর গ্রীন সিগন্যাল পেয়ে এই নেতা বেশ উজ্জীবিত হয়ে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। তবে এই আসনে সবচেয়ে বেশি আওয়ামীলীগ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলে তারা এখন নিশ্চুপ প্রায়। যদিও প্রথম থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আর সব আসন ছাড় দিলেও এই আসনে নৌকা ছাড়া বিকল্প কোন মার্কাকে ছাড় দেয়ার ব্যপারে জোরালো বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। তবে নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে এই আসনের নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একেবারে চুপসে যাওয়াতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নের বিষয়টি আরো জোরালো হচ্ছে।

এদিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির আসন বন্টনের বিষয়ে নানা তথ্য প্রকাশ করা হয়।

খবরটিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান এমপিদের আসনগুলো ছেড়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখনো জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক না হলেও সরকারি মহলে এ বিষয়ে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র কালের কণ্ঠকে এই তথ্য জানিয়ে বলেছে, এর বাইরে আরো সর্বোচ্চ ২১ আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। বর্তমান দশম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিক দলগুলোর সরাসরি নির্বাচিত ৪৯ সদস্য রয়েছেন। এর বাইরেও সংরক্ষিত আসনে তাদের এমপি রয়েছেন আরো আটজন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ ৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এরুপ সংবাদে নারায়ণগঞ্জের দুই আসনে থাকা জাতীয় পার্টির থেকে নির্বাচিত এমপি ও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান বিগত দিনের চেয়ে আরো বেশ উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে।

১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় শহরের খানপুর বরফকল ঘাট সংলগ্ন এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ এর ড্রেজার বেইজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শাহজাহান খাঁন এর কাছে ফের ফেরীর দাবী উত্থাপন করেন এমপি সেলিম ওসমান।

এর আগে বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী পর্যায়ের ঊর্ধ্বতনদের কাছে উন্নয়নের নানা ইস্যুতে দাবি করেছেন। আর জেলার শিক্ষা, ফেরি, শীতলক্ষ্য সেতু, ব্যবসা-বাণিজ্য সহ উন্নয়নের নানা ইস্যুতে অবদানের ফলে আলোচনায় উঠে আসে এই নেতা। তবে মনোনয়ন ইস্যুতে কৌশলী এই নেতা আগে থেকেই উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে জনগণ সহ কেন্দ্রীয় মনোযোগ কাড়তে চাইছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি, আওয়ামীলীগ, বিএনপি সহ সর্বদলীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে ভোট ব্যাংক সৃষ্টি করে সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে চাইছেন এই নেতা।

এদিকে জেলার এই আসনটিকে আওয়ামীলীগের সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। আর এই আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এই আসনে ছাড় দিতে একেবারে নারাজ। তাই এখানকার আওয়ামীলীগের নেতারা নৌকার রব তুলে জোর দাবি জানিয়ে আসছেন। এতে করে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দলের নানা দৃশ্য দেখা যায়।

এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল গোছানো, কমিটি গঠন, নির্বাচন ও মনোনয়নের বিষয়টি পুরোপুরি জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের উপর ছেড়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান। ১৬ সেপ্টেম্বর ারায়ণগঞ্জের লিংক রোডে প্রয়াত বড় ভাই নাসিম ওসমানের নামে নামকরণ করা নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নেতাকর্মীরা আবারও সেলিম ওসমানকেই নির্বাচন করার তাগিদ দিলেও সেলিম ওসমান এর আগে দল গোছানোর বিষয়টির দিকে নজর দিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, গত ৪ বছরে আমার ও খোকার (নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা) কিছু ভুল ত্রুটি হয়েছে আমরা মানছি। আমরা কথা দিচ্ছি সেই ভুল ত্রুটি সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যাবো। আমি রাজনীতিতে প্রবেশ করবো তা কখনোই চিন্তা করিনি কারণ আমি রাজনীতিবিদ না। আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি কেবল নাসিম ওসমানের স্থানে প্রক্সি দিতে এসেছি। তার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে এসেছি। আমি এখনো কোন জায়গায় ঘোষণা দেই নাই যে আমি আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবো। আপনারাই সিদ্ধান্ত দিবেন আমরা নির্বাচন করবো কি করবো না। আমরা দলের ও এলাকার মানুষের সমর্থন চাইব।

তিনি বলেন, যদি আপনারা ৩০০ আসনে লড়াই করতে চান তাহলে জাতীয় পার্টিকে মহাশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। অতীত নিয়ে আর সামনে ঝগড়া করব না। জাতীয় পার্টির যে কোন সিদ্ধান্ত আমাদের সম্মান আদায় করেই তা গ্রহণ করতে হবে।

আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বলে আসছেন, ‘এই আসনে গত ১৮ বছরে নৌকার কোন এমপি নেই। তাই এখানকার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা নির্যাতিত, নিষ্পেষিত। যেকারণে এই আসনে নৌকার এমপি প্রয়োজন। তাই অন্য কোন আসনে ছাড় দিলেও এই আসনে ছাড় দেয়া যাবেনা।’

নৌকার জোরালো দাবিতে যখন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী সহ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ঠিক সেই সময়েই আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় পার্টিকে বন্ধু দল বলে উল্লেখ করে তাদের নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানালে নারায়ণগঞ্জ জেলার নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অনেকটা চুপশে যায়। এর মধ্যে সম্প্রতি এই তথ্যে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি আরো জোরালো হতে থাকে যেকারণে নৌকার নেতাকর্মীরা একেবারে চুপশে যায়। আর এখানকার জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গ্রীন সিগন্যালের মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগের নেতা ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শেষ আশাটুকুও মিইয়ে যায়।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ