৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৪:১১ পূর্বাহ্ণ

UMo

দ্বন্দ্বেও কৌশলে এগিয়ে ক্ষমতাসীনরা, পিছিয়ে বিএনপি


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪১ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার


দ্বন্দ্বেও কৌশলে এগিয়ে ক্ষমতাসীনরা, পিছিয়ে বিএনপি

রাজনীতিতে কৌশল বেশ গুরুত্ববহন করে। যেকারণে কৌশলের ফলে অনেক ক্ষমতাবানরাও দুর্বলদের কাছে হার মেনে যায়। তাই রাজনীতিতে কৌশল রপ্ত করা সহ সঠিক সময়ে তা ব্যবহার করার মত সুদক্ষ নেতাকর্মী সহ নীতিনির্ধারকের গুরুত্ব অনেক। তবে ক্ষমতার লোভ, দ্বন্দ্ব ও অন্তদ্বন্দ্বের ফলে এরুপ কৌশল ব্যবহার করতেও অনেক দল অপারগ হয়ে পড়ে। যেকারণে বিরোধী দল অনেকটা লাভবান হয়ে উঠে। এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি দলটির নেতাকর্মীদের তেমন কোন কৌশল ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছেনা। অন্যদিকে আসন ভাগাভাগি সহ নানা কৌশলের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলটি অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই নির্বাচনে প্রস্তুতি অনেক দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছে। তবে হামলা, মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়ে কোনঠাসা বিএনপি দলটি কিছুতেই এগোতে পারছেনা। উল্টো হামলা, মামল সহ পুলিশি বাধার মুখে মুখ থুবড়ে পড়ছে। আর এ দিকে বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তাহলে দশম নির্বাচনের মত জাতীয় পার্টিকে ফের বিরোধী দল হিসেবে মাঠে নামিয়ে আসন ভাগাভাগি করে নেয়ার তথ্য উঠে আসছে। তবে কোনভাবে যদি বিএনপি দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলেও মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে বাদ না দিয়ে বরং তাদের নিয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে এই দলটি নীতিনির্ধারকরা জানিয়ে দিয়েছেন।

জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে নির্বাচনে আসন বণ্টনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করবে। আর বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে তাহলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন বণ্টন, সমঝোতা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সব কিছু নির্ভর করছে মেরুকরণ কিভাবে হবে, সেভাবেই অ্যালায়েন্সের সমীকরণ হবে। জোটগতভাবে নির্বাচন করলে শরিকদের জন্য ৬৫-৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জের ৫ টি আসনের মধ্যে ২ টি আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ ও ৩ আসনে এমপি সেলিম ওমসাম ও লিয়াকত হোসেন খোকা রয়েছেন। এই দুই এমপি জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যশা করেছেন। কিন্তু প্রথম থেকে এই দুই আসন সহ মোট ৫ টি আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নৌকার পক্ষে রব তোলে আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের মনোয়নের দাবি করে আসছেন। কিন্তু দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে সেই জোরালো দাবি চুপসে যায়। আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় পার্টিকে বন্ধু দল বলে উল্লেখ করে তাদের নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়ে দেয়। এমনকি দলের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতার ফলে সমালোচনা সহ দ্বন্দ্বে জড়ানোর ব্যাপারে কড়া হুশিয়ারী দেয়া হয়। এতে করে জেলার ৫টি আসনের মধ্যে এই দুটি আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অনেকটা চুপশে যায়। যেকারণে এখন মহাজোটের মধ্যে দ্বন্দ্ব অনেকটা কমে এসেছে।

এর আগে জেলার মধ্যে আওয়ামীলীগ মেরু করণের ফলে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। আর সেই দুই মেরুর নেতৃত্ব রয়েছে ওসমান পরিবারের কর্ণধার এমপি শামীম ওসমান ; অন্যদিকে বিপরীত মেরুতে রয়েছেন চুনকা মেরুর কর্ণধার মেয়র আইভী। এই দুই কর্ণধারের মধ্যে মেরু করণের ফলে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব সংঘাত চলে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২০১১ সালের প্রথম নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমপি শামীম ওসমান ও মেয়র আইভী দুজনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নৌকার সমর্থন চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমপি শামীম ওসমানকে দলের মনোনয়ন দেয়া হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র আইভী নির্বাচনে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের নাসিক নির্বাচনে মেয়র আইভীর নাম বাদ দিয়ে তিন নেতার নাম তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে পাঠানো হয়। কিন্তু কেন্দ্র সরাসরি মেয়র আইভীর হাতে নৌকার মনোনয়ন তুলে দেয়। এতে করে জেলার দুই মেরুর দ্বন্দ্বে অনেকটা অবসান ঘটে। এখানে বেশ কৌশল ব্যবহার করে সাময়িক দ্বন্দ্ব মেঠাতে সক্ষম হয়েছেন। এরপর দুই মেরুতে অন্তর্দ্বন্দ্ব থাকলেও প্রকাশ্য কোন দ্বন্দ্ব দেখা যায়নি। এর আগে যেই প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে ফলে এখানকার আওয়ামীলীগকে বেশ বিতর্কে পড়তে হয়েছে।

এদিকে জাতীয় পার্টির শরীক দল জাতীয় পার্টিকে আসন বন্টন ইস্যুতে ছাড় দিয়ে এখানেও অনেকটা কৌশল ব্যবহার করছেন। আওয়ামীলীগের মত বড় দলের প্রার্থীরা কোন অভাব নেই। কিন্তু তারপরও তারা জাতীয় পার্টিকে তাদের সাথে নিয়ে আসনগুলোতে ছাড় দিয়ে এগিয়ে চলছে। এক্ষেত্রে তারা অনেকটা কৌশল ব্যবহার করার ফলে দশম নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করার পরেও তারা ফের ক্ষমতায় আসে। এখনও সেই আগের কৌশল অবলম্বন করে চলছে। যদিও তাদের পরবর্তী কৌশল কোনটি হতে তা এখনো জানা যায়নি।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিএনপির ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে দলের মধ্য সংস্কার পন্থী ও বিতর্কিত নেতাদের পদে ঠাই দেয়া হয়। এতে করে ত্যাগী নেতারা অনেকটা মনক্ষুন্ন হয়ে আড়ালে চলে যায়। এদিকে বিএনপির দুঃসময়ে পুলিশি হামলা, মামলা, জেল, জুলুমের ভয়ে এসব সুবধাবদাী সংস্কার পন্থী নেতারা নিজেদের গাঁ বাচাতে থমকে যায়। তাতে করে বিএনপি দলটি আন্দোলন সংগ্রাম সহ দলীয় কর্মসূচিতে অনেকটা পিছিয়ে পরে। আর এই সুযোগে ক্ষমতাসীনদের নির্দেশে পুলিশ আরো কঠোর হয়ে উঠছে দুর্বল বিএনপি দলটি আরো অনেকটা কুপোকাত হয়ে পড়ে।

দলীয় সূত্র বলছে, এখনো এক নেতা অন্য নেতাকে ছাড় দিতে নারাজ। আর পদ হাকাতে সবাই ব্যস্ত। দলের মধ্যে অনেক দ্বন্দ্ব কোন্দল রয়েছে। যেকারণে দলের নেতাদের মধ্যে ঐক্য নেই। এছাড়া পদ নিয়েও অনেক দ্বন্দ্ব রয়েছে। আর যেসব নেতাদের পদ দেয়া হয়েছে তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারছেনা। আর যারা দালের দুঃসময়ে শক্ত হাতে হাল ধরেছিল তারা আড়ালে চয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দলের নেতাকর্মীমের মধ্য ঐক্য থাকতে হবে। আর ছাড় দেয়ার প্রবণতা থাকতে হবে। পদ পদবী থাকলেই দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করবে আর না থাকলে করবেনা এমন মন-মানসিকতা থেকে উঠে আসতে হবে। সব সময় দলের জন্য কাজ করার মন মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। আর দলের ত্যাগী নেতাদেরও মূল্যায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ব্যর্থতাও কৌশলের একটা অংশ। যেই কৌশলে তারা পিছিয়ে পড়েছে। আর সেকারণে এখন এর খেশারত গুণতে হচ্ছে। আর এই সুযোগে ক্ষমতাসীনরা আরো ঝেকে বসেছে বিএনপি দলটির উপর।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘নারায়ণগঞ্জে রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলগুলো স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় দুই পর্যায়ে কৌশীল সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছে। এর ফলে ক্ষমতাসীনরা বেশ এগিয়ে আছে। অন্যদিকে বিএনপি দলটি পিছিয়ে থাকার পেছনে তাদের কৌশলগত অনেক দুর্বলতা রয়েছে। আর সে কারণে তারা অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে যার ফল তারা এখন ভোগ করছে। এখনো যদি কৌশলী ছক কষতে না পারে আগামীতেও দলটিতে বিপর্যয় নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ