৭ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮ , ৮:০২ পূর্বাহ্ণ

UMo

পলাশের ১১ চাঁদাবাজকে ধরতে মাঠে পুলিশ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০২ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বুধবার


পলাশের ১১ চাঁদাবাজকে ধরতে মাঠে পুলিশ

জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের নেতৃত্বে ফতুল্লার একটি সড়ক থেকে বছরে ৫৭ লাখ টাকা চাঁদাবাজির তথ্য দিয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকরা।

১৯ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে ফতুল্লা মডেল থানায় এ অভিযোগ করার পর পুলিশের একটি টিম চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে।

এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের বলেন, কুতুবপুর ইউনিয়নের পাগলা থেকে জালকুড়ি এলাকার সড়কে শ্রমিকলীগ নেতা পলাশের অনুসারীরা ৬ বছর যাবত চাঁদাবাজী করছে। প্রতি বছরে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজী করা হয়। এমন অভিযোগ এনে অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। এতে তাৎক্ষনিকই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ১১জন চাঁদাকাজকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একটি টিমকে দায়ীত্ব দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এরআগেও পলাশের অনুসারীরা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজীর সময় পঞ্চবটি মোড় থেকে ৪জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর দ্রুত বিচার আইনে পুলিশ মামলা দায়ের করে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছে। ওই চাঁদাবাজরাই জামিনে এসে ফের চাঁদাবাজী শুরু করেছে।

মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষে শফিকুল ইসলামের সাক্ষরিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কুতুবপুর এলাকায় পাগলা থেকে জালবুড়ি সড়কে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশার কমিটির আহবায়ক ও জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের অনুগামী আজিজুল হক, মজিবর, সালু, কাওসার, মোশারফ হোসেন, ইমরান, শরীফ, সাইদুল সোহাগ, ফারুক সহ একটি সিন্ডিকেট চাঁদাবাজি করে আসছে।

৬ বছর যাবত টোকেনের নামে প্রতি অটোরিকশা থেকে নেয়া হচ্ছে ৬ হাজার ৫০০ টাকা। ৪০০ অটোরিকশা থেকে নেয়া হয়েছে সর্বমোট ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতিদিন ৩০ টাকা চাঁদা হিসেবে ৪০০ টি অটোরিকশা থেকে দৈনিক ১২ হাজার টাকা যা মাসে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এতে বছরে দাড়ায় ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া ৩০০ টাকা মাসিক চাঁদা হিসেবে প্রতি মাসে ৪০০ টি অটোরিকশা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে ওই সন্ত্রাসীরা। এতে বছরে দাড়ায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কেউ এবিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার ভয় দেখায় এবং লাঞ্ছিত করে সন্ত্রাসীরা।

মালিক ও শ্রমিকরা জানান, আমাদের গরীবের ঘাম ঝরানো অর্থ কেড়ে নিয়ে সন্ত্রাসীরা রাতারাতি বিশাল অর্থের মালিক হয়ে গেছেন। আমরা আর কোন চাঁদাবাজকে চাঁদা দিতে চাইনা। এজন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সুদৃষ্টি কামনা করেছি। অচিরেই যেন চাঁদাবাজদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়। এছাড়া আমরা স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানকেও জানিয়েছি। তিনি আমাদেরকে চাঁদা না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ