ঘোষণা ছিল রক্ত দিয়ে প্রতিহতের, আদালতপাড়ায় বিএনপি ব্যাকফুটে

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩২ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শনিবার



ঘোষণা ছিল রক্ত দিয়ে প্রতিহতের, আদালতপাড়ায় বিএনপি ব্যাকফুটে

মামলার কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা রয়েছেন চরম বিপাকে। বিএনপির যখন ত্রাহি দশা তখন ভরসা ছিল আদালতপাড়া। কারণ আইনজীবী সমিতিতে ১৭ পদের মধ্যে ১১টিতে আছে বিএনপির লোক। ইতোমধ্যে তাদের কখনো বাহ্যিক বেশ বিপ্লবী দেখা যায়। তবে সমিতির ৮ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ হলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বিএনপি। কারণ আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এ ভবনকে ইস্যু করেই বাজিমাত ঘটাবেন।

২৩ সেপ্টেম্বর রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে জেলা আইনজীবী সমিতির ৮তলা বিশিষ্ট আধুনিক ডিজিটাল বার ভবন নির্মাণের কার্যক্রম।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বহুতল বিশিষ্ট ডিজিটাল বার ভবনের জন্য গত ১৮ আগস্ট সয়েল টেস্ট তথা মাটি পরীক্ষা করা হয়। ২৮ আগস্ট বিশেষ সাধারণ সভায় এ সংক্রান্ত বিল পাশ হয়। তবে ভবন সংক্রান্ত ব্যাপারে কথা বলতে ডাকা ইজিএমে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের কথা বলতে না দেয়ায় সমিতির সভাপতি সেক্রেটারীর সাথে মতবিরোধ প্রকাশ্যে দেখা দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তারা ইজিএমে বক্তব্য প্রদান করতে না দেয়ার প্রতিবাদ জানায় এবং নতুন করে ইজিএম ডাকার দাবিও জানানো হয়। অন্যথায় কোন অবস্থাতেই বার ভবন ভাঙ্গতে দেয়া হবেনা বলে জানান। এমনকি রক্ত দিয়ে ভবন ভাঙা প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। এসময় সমিতির বিএনপিপন্থী সদস্যরা তাদের সাথে একমত পোষন করে।

কিন্তুধীরে ধীরে নীরব হয়ে যায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। রাজপথে দলীয় আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করে মামলা মোকাদ্দমায় জড়িয়ে আদালতপাড়া থেকেও উধাও হয়ে যায় তাদের উপস্থিতি। উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবারো ফিরে আসে আদালতে। তবে এরপর আর ভবন নির্মাণের বিপক্ষে সংগঠিত হতে দেখা যায়নি তাদের। প্রায় ৮০ শতাংশ আইনজীবীদের সমর্থনের ভিড়ে হারিয়ে যায় তাদের দাবি। নতুন বার ভবন নির্মান প্রশ্নে অনেকটা নীরব সমর্থনেই পক্ষে চলে আসে।

জানা গেছে, সবশেষ গত ৩০ জানুয়ারী নির্বাচনের আগের একটি বছরে বিএনপির আইনজীবীদের দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল বিরোধ দেখা দেয়। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এ বিরোধীতা সৃষ্টি হয়। সারা বছরই বিএনপির আইনজীবীরা তাদের কর্মকান্ডে ছিলেন আলোচনায় সমালোচনায়। নির্বাচনের নাগাদ প্যানেল গঠন নিয়েও বিএনপিতে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আদালতের সিনিয়র আইনজীবীরা তৈমূর আলমের কাছে গিয়ে বিরোধ মিটানোর অনুরোধ জানালে বিরোধ মিটিয়ে সকলে এক হয়ে প্যানেল ঘোষণা করে। বিএনপিতে সারা বছরই জোরালো সভাপতি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মশিউর রহমান শাহিন ও অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান শিমুল শেষতক নির্বাচনে অংশগ্রহন করেননি। ফলে অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামকে সভাপতি প্রার্থী ও অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সেক্রেটারি প্রার্থী করে কার্যত আওয়ামীলীগের চেয়ে অনেকটা দুর্বল প্রার্থী দিয়েই প্যানেল গঠন করতে বাধ্য হয় বিএনপির সিনিয়র আইনজীবীরা। নির্বাচনের শুরুতেই সভাপতি সেক্রেটারি বাদে বাকি পদগুলোতে বিএনপির প্রার্থীরা ছিলেন শক্তিশালী। যে কারণে ১১টি পদে জয়ীও হয়েছে বিএনপি। তবে এর পেছনে গোপন সমঝোতার বিষয়টিও চলে আসে।

বিএনপিপন্থী বারের একাধিক সদস্য জানান, আমরা নিজেরাও নতুন বার ভবন নির্মানের সাথে একমত। আমরাও চাই আইনজীবীদের জায়গা সংকট পূরণ হলে সকলেরই লাভ। তবে আইনজীবীদের ফান্ড থেকে টাকা ব্যয় না করলে আর ভবন তৈরিকালীন অবস্থায় বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে আমাদের আপত্তি নেই। তবে ইজিএমে কথা বলতে না দেয়ায় একটু জটিলতা তৈরী হয়েছিল। সভাপতি এমনিতেই সবার সমর্থন পেয়ে যেতেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর