৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ

UMo

মামলায় কাবু বিএনপি পারছে না মহাজোটের দ্বন্দ্বের সঙ্গে


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫৩ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার


ছবিগুলো আসন কেন্দ্রীক

ছবিগুলো আসন কেন্দ্রীক

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দ্বন্দ্ব বিভক্তি ও কুপোকাত করার মত নানা নাটকীয়তা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি দলের নেতাকর্মীরা হামলা, মামলা, ধরপাকড় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া দলীয় প্রধান জেলে থাকা অবস্থায় নির্বাচনের কথা চিন্তা করাতো দূরের কথা; উল্টো তারা বরং গ্রেফতার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে আসন্ন নির্বাচনের মনোনয়ন ইস্যুতে মহাজোটের প্রধান দল আওয়ামীলীগ ও শরীক দল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ক্রমশ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে করে দলের মধ্যে নানা দ্বন্দ্ব বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আর তাই রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে পুলিশি হামলা, মামলা, ধরপাকড়ের কারণে বিএনপি দলটি নির্বাচন রেখে মামলা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আর ক্ষমতাসীন মহাজোটের প্রধান আওয়ামীলীগ ও শরীক দল জাতীয় পার্টি ইতোমধ্যে মনোনয়ন ইস্যুতে মাঠে নেমেছে। তবে মহাজোটে জাতীয় পার্টি দলটি থাকবে কি না এ নিয়ে অনেক সমীকরণ রয়েছে। সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির সামনে এককভাবে অথবা মহাজোটে থেকে বিগত দিনের মত আসন ভাগাভাগির চিত্র দেখা যেতে পারে।

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি দলের নেতাকর্মীদের হামলা, মামলা, জেল-জুলুমের মধ্য দিয়ে অনেকটা কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে। এমনকি দলীয় কর্মসূচিতেও পুলিশি বাধা দেয়া হচ্ছে। এতে করে মামলা ও ধরপাকড় ভয়ে রয়েছে দলের নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে ঈদুল আজহার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় ডজন খানেক মামলা ঠুকে দেয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যে অধিকাংশ ভুতুরে মামলা বলে বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি। আর সেসব গণহারে মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের একে একে গ্রেফতার করা হচ্ছে। আবার অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে নিখোঁজ করে রাখা হচ্ছে। এতে করে স্বজনরা বেশ আতঙ্কি হয়ে পড়ছে।

সম্প্রতি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনিকে অস্ত্র ও গুলি সহ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এতে করে বিএনপি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মামলা ও ধরপাকড় আতঙ্ক বাড়ছে। একের পর এক বিভিন্ন ভুতুরে মামলা দিয়ে তাদেরকে এভাবে হয়রানির মধ্য দিয়ে দলের ভেতরে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের অংশগ্রহণের মত অবস্থা নেই বললেই চলে। এদিকে বিএনপি দলটির প্রধান বেগম খালেদা জিয়া এখনো জেলে রয়েছেন। তাই দলের এর দুর্দশার মধ্যে বিএনপি দলের নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা চিন্তা করতে পারছেনা। উল্টো দলের ভেতরে মামলা ও ধরপাকড়ের মধ্য দিয়ে দিন দিন আতঙ্ক বাড়ছে।

অন্যদিকে মহাজোটের প্রধান দল আওয়ামীলীগ ও শরীক দল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একে একে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। মনোনয়ন ইস্যুতে এই দুটো দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন দ্বিমুখি ও ত্রিমুখি দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। একদিকে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্র্টির মধ্যে দ্বিমুখি; অন্যদিকে জাতীয় পার্টির মধ্যে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরো দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। যার ফলে দ্বিমুখি দ্বন্দ্বগুলো এখন অনেক ক্ষেত্রে ত্রিমুখি ধারণ করেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫ টি আসনের মধ্যে ২টি আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। আর সেই দুটি আসনে আবার একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে যার ফলে সেসব আসনে আওয়ামীলীগ ছাড়াও জাতীয় পার্টির নিজ দলের দ্বন্দ্ব বিভক্তি দেখা যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি সেলিম ওসমান ছাড়াও তার বড় ভাই প্রয়াত নাসিম ওসমানের পতœী পারভীন ওসমান ইতোমধ্যে বেশ আট-ঘাট বেধে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। এছাড়া জামায়েতে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত আল জয়নাল দল পাল্টে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেই মনোনয়ন প্রত্যাশা করে বসেছেন। তবে ওসমান পরিবারের নিজ ঘর থেকে একই দলের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাথে দ্বন্দ্ব কোন্দল দেখা যাচ্ছে। একে অপরকে নিয়ে নানা সমালোচনা করে বক্তব্যও রাখছে।

এই আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাড়াও এই আসনে সবচেয়ে বেশি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাতের নাম রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। তার আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের পালিত কন্যা অনন্যা হুসাইন মৌসুমি এই আসনে মনোনয়নের প্রত্যাশা করেছেন। ইতোমধ্যে মৌসুমী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমপি খোকা ও সেলিম ওসমানের কড়া সমালোচনা করে আলোচনার শীর্ষে অবস্থান করছেন। তাই এই মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই আসনের জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীকে ঘিরে নানা দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে।

এই আসনে আওয়ামীলীগের কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। তাদের মধ্যে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার, আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুর রহমান কালামও চাচ্ছেন মনোনয়ন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত এমপি শামীম ওসমান রয়েছেন। তার আসনে শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ বিগত কয়েক নির্বাচন ধরে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এছাড়া হাইব্রিড নেতা  হিসেবে পরিচিত কামাল মৃধার নাম প্রথম দিকে শোনা গেলেও পরবর্তীতে তিনি থমকে যান।

এই আসনে প্রথম দিকে শ্রমিক নেতা পলাশ পরোক্ষভাবে এমপি শামীম ওসমানের কঠোর সমালোচনা করলেও পরবর্তীতে তিনি নিজেই বিতর্কিত হয়ে চুপশে যান। এতে করে অনেকটা ফাঁকা মাঠে নির্বাচনী প্রচারণার কাজ করে যাচ্ছেন এমপি শামীম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জ-২ তথা আড়াইহাজার আসনে বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেনের নাম আছে। আর জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন কেন্দ্রীয় জাপা নেতা আলমগীর শিকদার লোটন। তবে এই আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব কোন্দল দেখা গেছে। তবে অনেকটা নিশ্চুপ রয়েছেন জাপা মনোনয়ন প্রত্যাশী।

নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক), রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া, কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম।

এদিকে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীর প্রথম থেকেই নৌকা দাবিতে রব তুলে বলে আসছেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ৫ টি আসনেই নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিতে হবে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নৌকার নেতাকর্মীরা বেশ বঞ্চিত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত। তাই নারায়ণগঞ্জের সবকটি আসনেই নৌকা চাই। নারায়ণগঞ্জের যাকেই নৌকা দেয়া হবে আমরা তার পক্ষে কাজ করবো। আর সেই কারণে এ জেলাতে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্বে জড়াতে দেখা যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘নারায়ণগঞ্জে বিএনপি দলের নেতাকর্মীরা হামলা, মামলা আতঙ্কে দিন পার করলেও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি মনোনয়ন ইস্যুতে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। এতে করে ফের আসন ভাগাভাগির চিত্র দেখা যেতে পারে যা বিগত নির্বাচনেও দেখা গেছে।’

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ