ব্যানারের কারণেই বয়কট বিএনপির

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:২৪ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার



ব্যানারের কারণেই বয়কট বিএনপির

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই চলছিল প্রস্তুতি। আর সে প্রস্তুতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন সমিতির বিএনপির ১১জনও। সমিতির ১৭ পদের বিপরীতে ১১পদ জয়ী বিএনপির নেতাদের তাদের উপর ছিল গুরু দায়িত্ব। ভেতরগত প্রস্তুতি ছিল তারা অন্তত নতুন বার ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে মাইলফলকের সাক্ষী হবেন। কিন্তু রোববার ২৩ সেপ্টেম্বর সেই কাংখিত অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি ওই ১১জনকে যাদের নিয়ে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা এমপি শামীম ওসমানও সমালোচনা করেন।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এর মূল কারণ। শুধু বিরোধীতার খাতিরে না বরং অভিষেক অনুষ্ঠানে করা ব্যানার নিয়েই আপত্তি ছিল ১১জনের। আর সে কারণেই আগের দিন রাতে অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তৈরি করা খাবার রান্না সহ রোববার অনুষ্ঠানে কে কী পড়ে আসবে সে ড্রেসআপ নিয়ে চূড়ান্ত হওয়ার পরেও সকালে ব্যানার পরিবর্তনের কারণে পাল্টান মত। তাদের অভিযোগ, আইনজীবী সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠানে সাধারণত কোন রাজনৈতিক দলীয় প্রধানের ছবি থাকে না। কিন্তু রোববার অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধানের ছবি যুক্ত ছিল ব্যানারে। মূলত এ কারণেই বিএনপির ১১জন সে অনুষ্ঠান বয়কট করে। তবে বিএনপির ১১জন চেয়েছিল দলের অনেকের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও অনুষ্ঠানে থাকতে। কারণ এটা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কারণে তাদের সহায়ক ছিল ভবিষ্যৎ নির্বাচন। তখন তারাও এর সুফলতা প্রচার করে ভোট টানতে পারতো।

যদিও আদালত পাড়ায় বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়া সাখাওয়াত হোসেন খান বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান এ আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা মানে প্রতারণা করা।

বিএনপি পন্থীদের অভিযোগ তাদের দাবি অনুযায়ী ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন থেকে যাওয়ায় এবং বিকল্প ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট না হওয়ায় তারা এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না।

রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রস্তাবিত নতুন বার ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য আসেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ওই অনুষ্ঠান বর্জন করেছিল বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা। বক্তব্যে শামীম ওসমান তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, এটি আপনাদের পেশা। আপনি বিএনপি করতে পারেন জামায়াত করতে পারেন কিন্তু আজকে দুই কোর্ট আলাদা হয়ে গেলে তো আপনাদের সমস্যা। আজকে আপনাদের এখানে থাকা উচিত ছিল। এখানে থেকে মন্ত্রীর সামনে আপনাদের দাবিগুলো তুলে ধরা উচিত ছিল কিন্তু আজকে আপনারা এখানে নাই। আর যেহেতু নাই আমি তাদের নিয়ে কিছু বলতে চাইনা তবে এতটুকু বলতে চাই, আপনাদের কাছে তারা কিন্তু ভোট চেয়েছে আর আপনাদের দাবির পক্ষে আজকে তারা এখানে নেই।

আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, বড় ভাই আজকে যদি আপনি এই সমস্যাগুলোর সমাধান করে দিয়ে না যান আমরা লজ্জা পাবো। আমি জানি ভাইয়া আপনি আমাদের লজ্জা দিবেন না। আপনি পারবেন কারণ ওই সংসদে আমি যাকে মায়ের মত ভালোবাসি সেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ জনকে ছোট ভাইয়ের মত স্নেহ করেন আপনি তাদের একজন। আপনার কথা আমার নেত্রী ফেলবে না আমি জানি। শুধু বারের সমস্যা না, যদি অন্য যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো যদি আপনার মাধ্যমে আমরা তুলে ধরি আমি বিশ্বাস করি এগুলি আমরা সমাধান করতে পারবো।

আইনমন্ত্রী আগমন প্রসঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আইনজীবীদের উন্নয়নের ব্যাপারে আমাদের কোন আপত্তি নেই। আমাদের যে সকল প্রশ্ন ছিল তা ইজিএমে উত্থাপন করতে দেয়া হয়নি। পরবর্তীতে সে সব দাবি প্রতিবাদ সভায় ও তোলা হয়। আমাদের সাফ কথা আমরা কোন ঝামেলায় জড়াব না। তাদের এই হটকারী সিদ্ধান্তে আইনজীবীরা বিপদে পড়লে তাদেরকেই দায়ী থাকতে হবে চিরদিন।

তবে তাদের দাবি দাওয়া আইনজীবীদের অভিভাবক আইনমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের আইন ব্যবস্থা যার চোখের সামনে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও ক্ষমতাসীনরা লংঘন করছে তার কাছে দাবি উত্থাপন করে কোন আশানুরূপ ফল আসবে বলে মনে করি না। তারা যদি আইনের শাসনে বিশ্বাস করত তাহলে তা তাদের আচরণেই ফুটে উঠত।

এসময় তিনি প্রধান বিচারপতির লেখা বই ও পদত্যাগ প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যেই আইনমন্ত্রীর সামনে প্রধান বিচারপতিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পদত্যাগ এমনকি দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে তার সাথে আলোচনা করা মানে দেশের জনগনের সাথে প্রতারনা করা। সুতরাং আমরা এই অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।

এখানে উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কমিটিতে ১৭ পদের বিপরীতে ১১ জন হলেন বিএনপির। তারা হলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রেজাউল করিম খান রেজা, সহ সভাপতি আজিজ আল মামুন, কোষাধ্যক্ষ নূরুল আমিন মাসুম, আপ্যায়ণ সম্পাদক সুমন মিয়া, লাইব্রেরী সম্পাদক ওমর ফারুক নয়ন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মাসুম, সমাজ সেবা সম্পাদক শারমীন আক্তার, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মুক্তা, কার্যকরী পরিষদ সদস্য আল আমিন সবুজ, আমেনা প্রধান শিল্পী ও রফিকুল ইসলাম আনু।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বহুতল বিশিষ্ট ডিজিটাল বার ভবনের জন্য গত ১৮ আগস্ট সয়েল টেস্ট তথা মাটি পরীক্ষা করা হয়। ২৮ আগস্ট বিশেষ সাধারণ সভায় এ সংক্রান্ত বিল পাশ হয়। তবে ভবন সংক্রান্ত ব্যাপারে কথা বলতে ডাকা ইজিএমে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের কথা বলতে না দেয়ায় সমিতির সভাপতি সেক্রেটারীর সাথে মতবিরোধ প্রকাশ্যে দেখা দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তারা ইজিএমে বক্তব্য প্রদান করতে না দেয়ার প্রতিবাদ জানায় এবং নতুন করে ইজিএম ডাকার দাবিও জানানো হয়। অন্যথায় কোন অবস্থাতেই বার ভবন ভাঙতে দেয়া হবেনা বলে জানান। এমনকি রক্ত দিয়ে ভবন ভাঙা প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। এসময় সমিতির বিএনপিপন্থী সদস্যরা তাদের সাথে একমত পোষন করে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর