৭ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮ , ৮:০০ পূর্বাহ্ণ

UMo

প্রকাশ্য ওসমান পরিবারের বিরোধীতা, আড়ালে ঘনিষ্ঠতায় দিপু খোকন সাহা!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩৪ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার


প্রকাশ্য ওসমান পরিবারের বিরোধীতা, আড়ালে ঘনিষ্ঠতায় দিপু খোকন সাহা!

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের তিন ঘনিষ্ট বন্ধু গত বছরখানেক ধরে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বিরোধীতা করলেও সেগুলো যে স্ট্যান্টবাজি সেটাও ক্রমশ প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। এমপি শামীম ওসমান ও তাঁর বড় ভাই সেলিম ওসমানের কদাচিৎ সমালোচনা করে এ তিন নেতা গত বছরখানেক ধরেই বেশ আলোচিত। কিন্তু পর্দার আড়ালে অবশ্য ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের সঙ্গেই দেখা যায় তাদেরকে দীর্ঘ সময়। ওই সময়ে ঘনিষ্ঠতায় ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের পক্ষেই কথা বলেন তাঁরা।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের কারণে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে তাঁরই এক সময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা এখন বাহ্যিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। তাদের অনেকেই চাইছেন মনোনয়ন। কেউ বার আবার রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছেন। ওইসব নেতাদের তালিকাতে আছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদল প্রমুখ।

সবশেষ গত ২৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় আসনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। অনুষ্ঠানস্থলে আসার আগে মন্ত্রী আসেন খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে। সেখানে যথারীতি উপস্থিত ছিলেন এমপি সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান।

নিউজ নারায়ণগঞ্জে আসা একটি ছবিতে দেখা গেছে, সেলিম ওসমান পার্কের গেট থেকে ভেতরে আসার পুরোটা সময় জুড়ে ডান দিকে আনিসুর রহমান দিপু ও বামে ছিলেন খোকন সাহা। তারা দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন সেলিম ওসমানের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠতায়।

তাছাড়া আদালতপাড়ায় যখন অনুষ্ঠান চলছিল তখনো মঞ্চের পেছনে শামীম ওসমানের সঙ্গে দিপু ও খোকন সাহার দীর্ঘ সময় কথা হয়। এর আগে খোকন সাহার বড় ভাইরে মৃত্যুর দিনেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন শামীম ওসমান।

প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, সেলিম ওসমান যখন পার্কে প্রবেশ করেন তখন কেউ একজন তাকে সালাম করেন। তখন সেলিম ওসমান ওই নেতার পিঠে হাত বুলিয়ে দেন।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, খোকন সাহা ও দিপু কী আদৌ শামীম ওসমানের পরোক্ষ বিরোধীতা করছেন নাকি এটাও এক ধরনের কৌশল সেটা নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন।

ক্যাপশন : ২৩ সেপ্টেম্বর নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে সেলিম ওসমানের দুই পাশে অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু ও অ্যাডভোকেট খোকন সাহা।

গত বছর জেলা ও মহানগর যুব মহিলা লীগের কমিটি গঠন নিয়ে শামীম ওসমানের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট খোকন সাহার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। প্রথমে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে খোকন সাহা সুপারিশ করে কমিটি নিয়ে আসেন। একইভাবে জেলা কমিটির জন্য জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবদুল হাই ও সেক্রেটারি শহীদ বাদলও জেলা যুব মহিলা লীগের কমিটি সুপারিশ করে নিয়ে আসেন। এ দুটি কমিটি গঠনের পিছনে শহীদ বাদলের স্ত্রীর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি যিনি কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ওই কমিটি গঠনের পর শামীম ওসমান পাল্টা কমিটি সুপারিশ করে কমিটি গঠন করে নিয়ে আসেন। যা নিয়ে খোকন আনোয়ার হোসেন, খোকন সাহা ও মাহামুদা মালার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়ে যায়।

জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হতে চেয়েছিলেন শামীম ওসমানের আরেক বন্ধু ও ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু। কিন্তু সেই পদে আসতে শামীম ওসমানের সমর্থন পাননি দিপু। সেক্রেটারি নির্বাচিত হন শহীদ বাদল। এ নিয়ে শামীম ওসমানের সঙ্গে দিপুর বিরোধ সৃষ্টি হয়। তার পর থেকে শামীম ওসমানের কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আনিসুর রহমান দিপু থাকেন না। এখন শামীম ওসমানের প্রধান প্রতিদ্বন্ধি যাকে মনে করা হয় সেই আইভীর সঙ্গেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দিপুকে দেখা যায়।

এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির মতবিনিময় সভায় সেলিম ওসমান বলেন, উন্নয়ন করতে এসেছি, উন্নয়ন করতে দেন। প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় আনতে হবে। সময় হলে সবকিছু দেখতে পারবেন। নমিনেশন দিলে আমি সেলিম ওসমানই দিব। আপনারা সবাই আমার পরিবারের সদস্য। এই খোকন সাহা, বাদল, দিপু আমারই নির্বাচন করেছে এবং আগামীতেও তারাই আমার নির্বাচন করবে। কারণ তাদের সাথে ওসমান পরিবারের রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। তারা সকলেই আমার সন্তানের মতো ছোট ভাই। কিন্তু তারা কনফিউশনে রয়েছে, আমি নির্বাচন করবো কি করবো না। আপনারা শুধু আমার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমাকে হায়াত দান করেন। আল্লাহ হায়াত দিলে আমি সংসদ সদস্য হবো এবং আপনাদের সকল ইচ্ছা পূরণ করবো।

১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে বন্দর উপজেলাধীন ধামগড়ের ৬নং ওয়ার্ডের গকুল দাসের বাগে উঠান বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদল বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে দল যাকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করবেন আমরা তার পক্ষেই সকলে কাজ করব। ৫টি আসনেই নৌকা প্রতীক দেবার জন্য আমাদের দলের সভানেত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ দলের হাইকমান্ডের কাছে দাবী জানিয়েছি। বলেছি মহাজোট যদি থাকে দেশে তো আরও বহু আসন আছে সেখানে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিন, কিন্তু নারায়ণগঞ্জে নয়। জাতীয় পার্টির এমপিদের কাছ থেকে আমরা বহু খেদমত পেয়েছি, আর খেদমত পেতে চাইনা।

অপরদিকে আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের কারণে আমাদের সকলের নাক কাটা যাচ্ছে। আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা বঞ্চিত থাকার কারণে মানুষ আজ লাঙলের জোয়াল আর বইতে চাইছে না। এমপি সেলিম ওসমানের সাথে আওয়ামীলীগের কর্মীরা ছিলোও না। সেলিম ওসমান আওয়ামীলীগ তো পরের কথা তার নিজ দল জাতীয় পার্টির আদর্শ থেকেও বিচ্যুত হয়ে পড়েছেন।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ