তরুণদের ঝলকানিতে সাবেক এমপিরা নিরুত্তাপ, বর্তমানরা চাপে

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১৮ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বুধবার



তরুণদের ঝলকানিতে সাবেক এমপিরা নিরুত্তাপ, বর্তমানরা চাপে

আর মাত্র মাস তিনেক পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রায় বছর দুয়েক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তারই ধারবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। তবে এই প্রস্তুতির দৌড়ে তরুণদের ঝলকানিতে পেরে উঠতে পারছেন না সাবেক সাংসদরা। তারা প্রায় অনেকটা ম্রিয়মান হয়ে পড়েছেন। আর বর্তমানরা রয়েছেন চাপে।

জানা যায়, ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছেন। বিভিন্ন উপলক্ষকে সামনে রেখে প্রায় প্রতিনিয়তই নিজের প্রতি সমর্থনকে জোরদার করার লক্ষ্যে সংসদীয় এলাকার নেতাকর্মী ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর এতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের পাশাপাশি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও এগিয়ে রয়েছেন।

আগামী সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ-১ (রুপগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক ছাড়াও বাংলাদেশ সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ বীরউত্তম, রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূঁইয়া এবং কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। এদের মধ্যে সাবেকদেরকে চাপিয়ে একের পর এক চমক দেখিয়ে যাচ্ছেন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। ইতোমধ্যে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের একটি অংশের সমর্থন আদায় করে নিয়েছেন। ফলে বর্তমান সংসদ সদস্য অনেকটাই চাপে রয়েছেন।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া। এদের মধ্যে তরুণ প্রার্থী হিসেবে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া। সংসদীয় এলাকায় তার ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও রয়েছেন সুনজরে।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুর পাশাপাশি নৌকার মাঝি হতে চান কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল পারভেজ ও  সাবেক সংসদ সদস্য এমদাদুল হক ভূইয়া। এদের মধ্যে সাবেকদেরকে চাপিয়ে এগিয়ে রয়েছেন ইকবাল পারভেজ। বর্তমান সংসদ সদস্যও তার সাথে পেরে উঠতে পারছেন না।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন আতাউর রহমান আঙ্গুর ও সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। এই দুইজনের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন নজরুল ইসলাম আজাদ। যিনি সংসদ সদস্য হিসেবে এবারেই প্রথম প্রার্থী হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপিতেও তার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকা আশা করছেন এবারও মহাজোটগত অথবা দলীয় প্রার্থী হয়ে সংসদে যাবেন। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে মাঠে কাজ করছেন সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাত এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম। এদের মধ্যে সবাইকে ছাড়িয়ে আলাপ আলোচনায় রয়েছেন মাহফুজুর রহমান কালাম। যিনি এর আগে কখনো প্রার্থী হননি। তবে এই আসনে তরুণ প্রার্থী হিসেবে বিএনপির কেউ আলোচনায় নেই।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এ কে এম শামীম ওসমান এবারও প্রার্থী হবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। এই আসনে তরুণ প্রার্থী হিসেবে আওয়ামীলীগের কেউ এগিয়ে না থাকলেও বিএনপিতে তরুণ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। আর তার চাপ সামলাতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন এবং ব্যবসায়ী নেতা জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে রয়েছেন জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি সেলিম ওসমান। তার বিপরীতে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরাম, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া ও আব্দুল কাদির, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত।

এদের মধ্যে তরুণ ও নবীন প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক যথাক্রমে আবু সুফিয়ান ও জিএম আরাফাত। ইতোমধ্যে তারা দুই জনেই নগরীতে বিশাল শোডাউন নিজের যোগ্যাতার জানান দিয়েছেন। যা অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন সাহস করেনি। তরুণ প্রার্থী হিসেবে তাদের পাশে রয়েছেন আওয়ামীলীগের কয়েকজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি।

অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ধানের শীষের প্রার্থী হতে চান। এই তিনজনের মধ্যে নবীন প্রার্থী হিসেবে সাখাওয়াত ও খোরশেদের চাপে নির্বাচনী মাঠে অনেকটাই নিরব হয়ে আছেন আবুল কালাম। সংসদীয় এলাকার নেতাকর্মী ও ভোটারদের সাথেও তার তেমন যোগাযোগ নেই।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর