১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০৩ অপরাহ্ণ

UMo

যুবদলের কমিটিতে তৈমূর দিপুর জয়গান, বিফলে কাজী মনির


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৯ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৮ শুক্রবার


যুবদলের কমিটিতে তৈমূর দিপুর জয়গান, বিফলে কাজী মনির

অনেক নাটকীয়তার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই কমিটিতে বিএনপি দলের ত্যাগী নেতাদের অনুগামীরা ঠাঁই পেয়েছে। অন্যদিকে সুবিধাবাদী নেতাদের অনুগামীরা দলের কমিটি থেকে বাদ পড়েছে। ত্যাগী নেতাদের অনুগামীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে চারদিকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই কমিটিতে দলের ত্যাগী নেতাদের অনুগামীদের পদায়িত করার ফলে নেতাকর্মীরা কার্যত অর্থে ফের আশার আলোতে বুক বাধতে শুরু করেছেন। কারণ আসন্ন নির্বাচনের আগে শক্ত হাতে দলের হাল ধরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুব দলের কমিটিতে বিএনপির চেয়ারপারসন তৈমূর আলম খন্দকার, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়ার অনুগামীরা ঠাই পেয়েছে। বিগত দিনে তৈমূর ও দিপু ভূইয়া শত বাধার মধ্যে দুর্বার আন্দোলনে পিছু হটেনি। এতে করে এই দুজনকে ত্যাগী নেতা হিসেবে সবাই চিনে। তাই দলের ত্যাগী নেতাদের অনুগামীদের হাতে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হলে দলের নেতাকর্মীরা অনেকটা উচ্ছ্বাসিত হয়ে উঠে। অন্যদিকে সুবিধাবাদী নেতাদের তালিকায় থাকা জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের অনুগামীরা দলের পদ থেকে ছিটকে পড়লে তার চেষ্টাগুলো অনেকটা বিফলে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘ ৬ বছর পর নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি করা হয়েছে শহীদুল ইসলাম টিটুকে যিনি বর্তমানে ফতুল্লা থানা কমিটির সভাপতি। আর সেক্রেটারী করা হয়েছে গোলাম ফারুক খোকনকে যিনি এখন রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি। কমিটির সহ সভাপতি সালাউদ্দিন চৌধুরী সালামত, একেএম আমিরুল ইসলাম ইমন, হারুন অর রশিদ মিঠু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুর রহমান স্বপন, রফিকুল ইসলাম ভূইয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম চয়ন।

নব ঘোষিত জেলা যুবদলের কমিটিতে সভাপতির পদে ঠাঁই পাওয়া শহীদুল ইসলাম টিটুকে বিগত দিনে প্রায় সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকারের পাশে দেখা গেছে। এছাড়া সম্প্রতি টিটুর একটি অনুষ্ঠানেও তৈমূর আলমকে দেখা গেছে। আর নব্য সেক্রেটারী গোলাম ফারুক খোকনকের সাথে তৈমূর ও দিপু ভূইয়ার ভাল সম্পর্ক রয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কমিটি সভাপতি করা হয়েছে বিলুপ্ত কমিটির আহবায়ক ও তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মনতাজ উদ্দিন মন্তুকে। সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন শোখন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর প্রধান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুর রহমান রশো। তাদের মধ্যে মন্তু, শোখন ছিলেন বিলুপ্ত কমিটির আহবায়ক। আর রশো হলেন খোরশেদের ভাগ্নে। তিনি মহানগর ছাত্রদলের সবশেষ আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।

মহানগর যুবদলের কমিটির সভাপতি পদ পাওয়া মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বিএনপির চেয়ারপারসন তৈমূর আলম খন্দকারের ছোট ভাই। আর সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুর রহমান রশো হলেন তার ভাগ্নে।

জেলা ও মহানগর যুবদলের অধিকাংশ পদ পওয়া নেতারা হয় অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নয়তো দিপু ভূইয়ার লোকজন ও অনুগামী হিসেবে পরিচিত। তবে এই কমিটি দুটোতে অধিকাংশ ত্যাগী নেতারা ঠাই পেয়েছে। এমনকি ত্যাগী নেতাদের অনুগামীরা ঠাই পাওয়াতে ফের দলটি সাংগঠনিক দিক দিয়ে আরো শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

জানা গেছে, ‘২০০৭ সালে মামুন মাহামুদকে সভাপতি ও আশরাফুল আলম রিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাদের মধ্যে মামুন এখন জেলা বিএনপির সেক্রেটারী হলেও আশরাফুল আলম রিপন আর কোন পদে ঠাই পায়নি। রিপন মূলত জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। এবাবের জেলা ও মহানগর কমিটিতে তিনি কোন পদে আসতে পারেনি। যেকারণে এই ব্যর্থতার মূলত জেলা বিএনপির সভাপতির উপর বর্তায়। কারণ তিনি তার অনুগামীদের দলের বিভিন্ন সংগঠনে পদ পাইয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে এর পেছনে আরো অনেক ধরণের হিসেব নিকেশ রয়েছেন যার প্রেক্ষিতে নানা সমীকরণের হিসেব কষে দলের পদগুলো দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে জেলা যুবদলের কমিটিতে সহ সভাপতি পদে একেএম আমিরুল ইসলাম ইমন রয়েছেন যিনি কাজী মনিরের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। তাই কাজী মনিরকে এটুকু শান্তনা পুরষ্কার নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।’

আসন্ন জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের আগে দুর্বল হয়ে পড়া বিএনপি দলটি নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। আর সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলের মধ্যে ত্যাগী নেতাদের এবং তাদের অনুগামীদের পদায়ীত করার মধ্য দিয়ে দলটিকে সাংগঠনিক দিক দিয়ে আরো শক্তিশালী করে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যেকারণে দলের বিভিন্ন সংগঠনের নতুন নতুন কমিটিগুলোতে ত্যাগী নেতা ও ত্যাগী নেতাদের অনুগামীদের পদায়িত করার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। আর সেই গুরুত্বের দিক দিয়ে তৈমূর ও দিপু ভূইয়ার অনুগামীরা জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছে। অন্যদিকে সুবিধাবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের অনুগামীরা বাদ পড়েছে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ