৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮ , ১১:২০ অপরাহ্ণ

rabbhaban

যুবদল সেক্রেটারীর খোকনের লজ্জাজনক পদ!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:১৯ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৮ শনিবার


যুবদল সেক্রেটারীর খোকনের লজ্জাজনক পদ!

দীর্ঘ ৬ বছর পর সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বহুল প্রতিক্ষিত নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবঘোষিত এই কমিটিকে অনেকেই হয়েছেন মূল্যায়িত। আবার অনেকেরই হয়েছে পদাবনতি। তেমনি ভাবে নবঘোষিত এই কমিটিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া গোলাম ফারুক খোকনের ভাগ্যে জুটেছে লজ্জাজনক পদ। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের স্বাক্ষরিত নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে জেলা যুবদলে সভাপতি করা হয়েছে শহীদুল ইসলাম টিটুকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে গোলাম ফারুক খোকনকে যিনি এখন রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি।

এর আগে ২০১২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মোশারফ হোসেনকে সভাপতি, সালাউদ্দীন মোল্লাকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, শাহআলম মুকুলকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, নবঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পাওয়া গোলাম ফারুক খোকনের রয়েছে রাজনৈতিক ইতিহাস। তার ছাত্র রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ১৯৯৪ সালে গোলাম ফারুক মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এই কলেজের ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের প্রথম যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।

ছাত্র জীবন শেষে গোলাম ফারুক এলাকায় জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সাথে তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বও পালন করেন তিনি। সবশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থীও হয়েছিলেন। ২০১২ সালে রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান গালাম ফারুক খোকন। যা বর্তমানেও চলমান রয়েছে। ধীরে ধীরে তার উন্নতি হতে থাকলেও এবার জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার পদাবনতির ঘটনা ঘটেছে।

কারণ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, বিএনপির রাজনীতিতে দক্ষতা রয়েছে গালাম ফারুক খোকনের। সে হিসেবে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের চেয়ে ভালো পদ পাওয়ার যোগ্য ছিলেন তিনি। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির অতীত রেকর্ড বলছে, ছাত্র রাজনীতি ছাড়ার পরপরই তারা জেলা অথবা মহানগর বিএনপি কিংবা অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়ে গেছেন। কিন্তু গোলাম ফারুকের বেলায় ঘটেছে বিপরীত। এর আগে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম সায়েম, সেক্রেটারী মাহাবুবুর রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক সালাউদ্দিন দেওয়ানও রূপগঞ্জের বাসিন্দা।

অন্যদিকে ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি থেকে সরাসরি জেলা যুবদলের হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে গেছেন শহীদুল ইসলাম টিটু। তার ত্যাগ অনুযায়ী দল তাকে মূল্যায়ণ করলেও মূল্যায়িত হয়নি গোলাম ফারুক। তার ভাগ্যে মিলেছে লজ্জাজনক পদ।

প্রসঙ্গত, জেলা যুবদলের নবঘোষিত কমিটির সহ সভাপতি পদে সালাউদ্দিন চৌধুরী সালামত, একেএম আমিরুল ইসলাম ইমন, হারুন অর রশিদ মিঠু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে শহীদুর রহমান স্বপন, রফিকুল ইসলাম ভূইয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জিয়াউল ইসলাম চয়ন দায়িত্ব পালন করবেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ