১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০২ অপরাহ্ণ

UMo

ফের কর্তৃত্ব ফেরত পাচ্ছেন তৈমূর সহ বিএনপির অবহেলিতরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৬ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৮ রবিবার


ফের কর্তৃত্ব ফেরত পাচ্ছেন তৈমূর সহ বিএনপির অবহেলিতরা

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে বড় ধরনের ইউটার্ন দেখা দিয়েছে। বিএনপির একটি বড় অংশকে বাদ দিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হলেও বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে এসে আবার তাদেরকেই মূল্যায়িত শুরু হয়েছে। আর জেলা ও মহানগর বিএনপিতে যারা নেতৃত্বে রয়েছেন তাদের কর্তৃত্ব খর্ব দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বিএনপির সহযোগি সংগঠনের কয়েকটি কমিটিতে দেখা গেল সে চিত্র। যারা বিএনপির কেন্দ্রভিত্তিক রাজনীতি করে ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিল তাদের অনুগামীরাও ছিটকে পড়েছে সবশেষ জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটিতে।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও মামুন মাহমুদকে সেক্রেটারী এবং আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সেক্রেটারী করে মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। ওই কমিটি ঘোষণার পরে ঘটে যায় অনেক ঘটনা। কমিটিতে রাখা হয়নি আগের কমিটির সভাপতি ও তার আগেরও কমিটির সেক্রেটারীর পদে দায়িত্ব পালন করা তৈমূর আলম খন্দকারকে। এমনকি কমিটিতে তার অনুগামীদেরও বাদ দেওয়া হয়। জেলাতে যেমন তৈমূরের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয় তেমিন মহানগরেও তৈমূর পন্থী নেতাদের একেবারে বাদ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে জেলা বিএনপিতে গ্রুপ আর উপগ্রুপ বাড়তে থাকায় দেখা দেয় স্থবিরতা। রাজনীতি ক্রমশ গুটিয়ে আসতে শুরু করে। যদিও এর মধ্যে মামলাও হয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। সভাপতি ও সেক্রেটারী সহ বাদ যায়নি কেউ।

এরই মধ্যে জেলা ও মহানগর বিএনপির ব্যর্থতা নিয়েও কেন্দ্রে নানা গুঞ্জন চলছিল। জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের চ্যালেঞ্জ করে অনেকে স্ব বলয়ে মাঠে নামতে শুরু করেন। এতে তারা বাধার সম্মুখীন হলেও টিকে যান। এ অবস্থায় যখন বিএনপি নেতাদের ব্যর্থতা স্পষ্ট হতে থাকে তখন ১৯ অক্টোবর ঘোষণা করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি। এ দুটি কমিটিতে জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতাদের একেবারেই মূল্যায়িত করা হয়নি। তাদের পছন্দের ব্যক্তিদেরও কমিটিতে রাখা হয়নি। আর এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

জেলা যুবদলে সভাপতি করা হয়েছে শহীদুল ইসলাম টিটুকে যিনি বর্তমানে ফতুল্লা থানা কমিটির সভাপতি। আর সেক্রেটারী করা হয়েছে গোলাম ফারুক খোকনকে যিনি এখন রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি। কমিটির সহ সভাপতি সালাউদ্দিন চৌধুরী সালামত, একেএম আমিরুল ইসলাম ইমন, হারুন অর রশিদ মিঠু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুর রহমান স্বপন, রফিকুল ইসলাম ভূইয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম চয়ন।

তাদের মধ্যে সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু সরাসরি জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ ও ফতুল্লার সভাপতি শাহআলমের ঘোর বিরোধী। রাজনীতিতে তিনি সাবেক যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেনের আস্থাভাজন। এছাড়া টিটু মূলত সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের লোক হিসেবেই পরিচিত। সেই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে তৈমূর আলম খন্দকারের সু সম্পর্ক। ফতুল্লা যুবদলের অনেক অনুষ্ঠানেই তৈমূরের দেখা মিলে। অপরদিকে সেক্রেটারী খোকন সরাসরি মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর লোক হিসেবে পরিচিত। যদিও কাজী মনির চেয়েছিলেন সাবেক সেক্রেটারী আশরাফুল হক রিপনকে সভাপতি পদে আধিষ্ঠ করতে। কিন্তু তিনি সেটায় ব্যর্থ হয়েছেন।

অপরদিকে মহানগরে বাজিমাত ঘটিয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। মহানগর যুবদলের সভাপতি করা হয়েছে বিলুপ্ত কমিটির আহবায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে। তিনি সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ডের টানা তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। কমিেিত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মনতাজ উদ্দিন মন্তুকে। সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন শোখন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর প্রধান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুর রহমান রশো। তাদের মধ্যে মন্তু, শোখন ছিলেন বিলুপ্ত কমিটির আহবায়ক। আর রশো হলেন খোরশেদের ভাগ্নে। তিনি মহানগর ছাত্রদলের সবশেষ আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। এ কমিটির বেশীরভাগই তৈমূরের লোক। সভাপতি খোরশেদ হলেন ভাই। সাগর প্রধানও তৈমূরের লোক হিসেবে খ্যাত। আর রশো তো ভাগ্নে।

এর আগে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতেও ভারসাম্য আনা হয়েছিল। সেখানেও জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের সুপারিশে কমিটি হয়নি। একই অবস্থা ছিল ছাত্রদলের দুটি কমিটিতেও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেরিতে হলেও বিএনপির রাজনীতিতে পরিবর্তন হচ্ছে। নিচ্ছে ইউটার্ন।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ