৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮ , ৬:২১ অপরাহ্ণ

rabbhaban

বিএনপির রাজনীতি ছাড়তে পারেন শাহআলম ও কালাম!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫৯ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৮ রবিবার


বিএনপির রাজনীতি ছাড়তে পারেন শাহআলম ও কালাম!

দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট ক্রমশ পরিবর্তন সঙ্গে কমিটিগুলো প্রদানে আলোচনা না করা সহ প্রতিপক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিদের কাছে নেতৃত্ব চলে যাওয়া, বিএনপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ সহ আরো কিছু কারণে বিএনপির দুইজন সভাপতি রাজনীতি ছাড়ার আপাতত পরিকল্পনা করছেন। আর সে কারণেই ক্রমশ তাঁরা রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হয়ে থাকছেন। দেশের এ সময়ে যখন বিএনপির নেতাকর্মীরা একের পর এক মামলাতে কাবু তখন ওই দুইজন নেতা ইতোমধ্যে অনুগামী নেতাকর্মীদের জানিয়েছেন নিজেদের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথা।

এরই মধ্যে ডা. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের তোরজোড়ের কারণেও ওই দুইজন সভাপতি আগামীতে নিজেদের সম্ভাবনাকে ক্ষীণ হয়ে দেখছেন। এসব কারণে দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের জটিলতা।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, শাহআলম হলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি ও জেলা কমিটির সহ সভাপতি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের সারাহ বেগম কবরীর কাছে হেরে যান। পরে বনে যান বিএনপির ঘোষিত নিয়ন্ত্রক। পরে তিনি বিএনপিকে নিয়ন্ত্রন করতে শুরু করেন। তবে সম্প্রতি তিনি ব্যাকফুটে চলে গেছেন। অনুগামীরা বলছেন শাহআলম ইংল্যান্ডে চিকিৎসাধীন। কিন্তু সূত্র বলছে, তার পরিবারের লোকজন ইংল্যান্ডে থাকে। সে কারণেই তিনি সেখানে প্রায়শই যান। এবারও সেটা করেছেন সেই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী। আপাতত তিনি দেশে ফিরছেন না। কারণ দেশের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়েই তিনি এখন চিন্তিত। ইতোমধ্যে তার অন্যতম বাম হাত খ্যাত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি অস্ত্র মামলায় কারাগারে। আর সবশেষ যুবদলের যে কমিটি এসেছে সেখানেও সভাপতি হয়েছেন ঘোর বিরোধী খ্যাত শহীদুল ইসলাম টিটু যিনি সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের লোক হিসেবেই পরিচিত। তাছাড়া সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়নি। সোনারগাঁও থানায় একটি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। আর সম্প্রতি একটি মামলায় তাকে হুকুমের আসামী করলেও ওই সময়ে তিনি ইংল্যান্ডে। নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থেই তিনি মামলার আসামী হয়েছেন এমন গুঞ্জনও আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

আরেরক সভাপতি আবুল কালাম। তিনি এখন মহানগরের দায়িত্বে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে মামলা হয় বন্দরে। ওই মামলাতেও তিনি জামিন পেয়েছেন। এর পরে আর তিনি মামলার আসামী হয়নি। গুঞ্জন আছে চাচাতো ভাই বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলের মাধ্যমে একজন প্রভাবশালী এমপির সঙ্গেও সমঝোতা হয়েছে তাঁর। সেই সমঝোতায় ছিল তাকে কোন মামলার আসামী করা হবে না। বিনিময়ে তিনি আগামীতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয়তা দেখাবেন।

তাছাড়া ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কারণেও মনোবলে চিড় ধরেছে আবুল কালামের। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থাকলে এ আসনে আওয়ামী লীগের পদত্যাগী সাবেক এমপি এস এম আকরামকে প্রার্থী করা হতে পারে এমন আভাষও পাওয়া যাচ্ছে। আর সেটা বাস্তবায়ন হলে আর ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না কালাম। ফলে তিনিও রাজনীতিকে আপদকালীন সময়ের জন্য বিদায় দিতে পারেন। তাছাড়া সবশেষ মহানগর যুবদলের কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। কমিটিতে আসা অন্যরাও কালাম বিরোধী।

জানা গেছে, একজন টেবিল রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত বিএনপির সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। কিন্তু সেই টেবিল রাজনীতিবিদের নাম মুছেছিলেন গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে রাজপথে নেমে। মামলার আসামিও হয়েছিলেন তিন বারের সাবেক এ এমপি। ওই মামলায় তিনি ২১দিন কারাগারেও ছিলেন। কিন্তু এবার যখন দলের নেতাকর্মীদের আরো কঠিন পরিস্থিতি তা অনুধাবন করে আগেই দেশ ছেড়েছেন আবুল কালাম। এমনটাই অভিযোগ তুলে নেতাকর্মীরা বলছেন, ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় হবে সেটা অনেক আগেই ধার্য্য ছিল। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিকে এড়িয়ে যেতেই নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলে আবুল কালাম দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তী এবার ঈদের পর থেকে একের পর এক মামলা হলেও কালামের বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ