২৯ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮ , ১:৩৭ অপরাহ্ণ

UMo

গাজীর হ্যাট্রিকের পথে বাধা স্থানীয় আওয়ামীলীগ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৮ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৮ রবিবার


গাজীর হ্যাট্রিকের পথে বাধা স্থানীয় আওয়ামীলীগ

নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গোলাম দস্তগীর গাজী। তিনি এখন হ্যাট্রিকের পথে রয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে টানা তিনবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি হ্যাট্রিক করবেন। তবে তার এই হ্যাট্রিকের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের বাঘা বাঘা নেতারা।

জানা যায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫০ হাজার ভোটে বিএনপির প্রার্থী কাজী মনিরুজ্জামানকে পরাজিত করে নৌকার পালে হাওয়া তুলেন গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতিক)। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। ফলে ওই নির্বাচনে বিএনপি থেকে তার কোন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। তবে আওয়ামী লীগের নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাক্তার শওকত আলীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন দস্তগীর গাজী।

এরই মধ্যে ঘনিয়ে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছেন চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। সেই লক্ষ্যে সংসদীয় এলাকায় অনেক আগে থেকেই গোলাম দস্তগীর গাজী নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। একের পর এক অব্যাহত রেখেছেন দলীয় শোডাউন।

তবে গোলাম দস্তগীর গাজীকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে কোনভাবেই রাজী নয় রূপগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতারা। তার মনোনয়ন ঠেকাতে ঐকাট্টা হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্যসহ অনেক নেতারাই। যাদের মধ্যে রয়েছেন সেক্টর কমান্ডার ফোরাম সভাপতি ও সাবেক সেনা প্রধান সাবেক এমপি কেএম শফিউল্লাহ (বীরউত্তম), নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া এবং কায়েত পাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী নেতা রফিকুল ইসলাম।

এরা সকলেই গোলাম দস্তগীর গাজীকে টেকাতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এরা একে অপরকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে মেনে রাজী থাকলেও গোলাম দস্তগীর গাজীকে তারা পার্থী হিসেবে মেনে নিবেন না। তাদের এই দাবীর সাথে রয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগেরও একটি প্রভাবশালী অংশ।

তাদের অভিযোগ হচ্ছে, বর্তমান সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজীর কারণে রূপগঞ্জ আওয়ামীলীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব-কলহ বেড়েছে। তিনি অন্য দলের নেতাকর্মীদেরকে বেশি মূল্যায়ন করে থাকেন। নিজের প্রভাব বিস্তার করার জন্য তাদেরকে দলে ভিড়াচ্ছেন। অন্যদিকে আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাদেরকে গাজী মূল্যায়ন করেন না। তিনি বহিরাগত হিসেবে রূপগঞ্জ এলাকায় এসে ঠাঁই নিয়েছেন। আর তাই রূপগগঞ্জবাসীর প্রতি তার ভালবাসা কম। রূপগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা না হওয়ার তাকে এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মীরাও মেনে নিতে পারে না। তার সময়েই নিজ দলের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ মামলার আসামী হয়েছেন।

যারা অসহোযোগ আন্দোলন ও ওয়ান-ইলেভেনে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন তারা আজ নানাভাবে নির্যাতিত-নিগৃহীত। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফের জয়ী হলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ দুর্বল হয়ে পড়বে। নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করবে। সুতরাং যে কোন উপায়েই হোক আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাতে টেকাতে হবে।

প্রসঙ্গত, প্রায় দুই যুগ ধরে কোন্দলে জর্জরিত জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ। আর এ কোন্দল এখন আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গসংগঠনের ভিতরেও। ছড়িয়ে পড়েছে থানা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগেও। ৮০ দশকের পর থেকে এ কোন্দল বেড়েই চলছে। কোন্দলের এই ঝড়ে বঙ্গবন্ধুর অনেক ত্যাগী সৈনিক অকালে ঝড়ে গেছে। অনেকে আবার রাজনীতি ছেড়ে বঙ্গবন্ধুর নাম বুকে নিয়ে নীরবে দিন কাটাচ্ছে। আবার কেউবা নিরবে বাচাঁর সংগ্রাম করছেন।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ