৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮ , ১১:১৮ অপরাহ্ণ

rabbhaban

নারায়ণগঞ্জের কোন আসন চায়নি শরীকদল, যুক্তফ্রন্ট থাকলে আকরাম


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩৬ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৮ রবিবার


নারায়ণগঞ্জের কোন আসন চায়নি শরীকদল, যুক্তফ্রন্ট থাকলে আকরাম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখন চলছে চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিকেশ। দেশের প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন আসন দাবি করছেন। তাদের সেই দাবির প্রেক্ষিতে বদলে যেতে পারে অনেক হিসেব-নিকেশ এবং চাওয়া-পাওয়া।

যার ধারাবাহিকতা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতেও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে ঘিরে। যদিও এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের কোন আসনই বিএনপির অন্য কোন শরিক দল দাবী করেনি। তবে বিএনপির সাথে যুক্তফ্রন্ট থাকলে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরামের প্রার্থী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

সূত্র বলছে, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ক্ষমতা হারায় বিএনপি। এরপর ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতা বাইরে থেকে যায় বিএনপি।

দীর্ঘ বছর ধরে ক্ষমতায় না থাকা বিএনপি এবার আর ক্ষমতার বাইরে থাকতে চায় না। যে কোন উপায়েই হোক তারা তাদের হারানো ক্ষমতা ফিরে যেতে চায়। সেই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি ও নাগরিক ঐক্য সহ বেশ কটি দল জোটবদ্ধভাবে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলেছে। গত ১৩ অক্টোবর রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনের মধ্যে আত্মপ্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দিয়েছেন।

সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে, বিএনপির নতুন মিত্র ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ একশ` আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে গণফোরাম ৩০, জেএসডি ৩০ ও নাগরিক ঐক্য ৩০ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের খসড়া তালিকা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতারাও নির্বাচন করতে পারেন। নাগরিক সমাজের জন্য ১০টি আসন চাওয়া হবে। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা আরও বড় হবে বলেও জানিয়েছেন দলগুলোর দায়িত্বশীল নেতারা।

সেই হিসেবে নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা হিসেবে সাবেক এমপি এস এম আকরামের দিকেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি বেশি ঝুঁকছে। এর আগেও তিনি এই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এদিকে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় ঐক্যের মধ্যে চলে আসায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা আকরামের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। একই সাথে বিএনিপর মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও তাকে ছাড় দেয়া ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে এস এম আকরাম ১৯৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসন থেকে আওয়ামীলীগের টিকেটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট সরকার গঠনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েও দলীয় নির্দেশে তাকে সরে দাঁড়াতে হয়। এরপর নানা কারণে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকদের প্রতি বিরাগভাজন হয়ে আওয়ামীলীগ থেকে সরে দাড়ান এস এম আকরাম। যোগ দেন মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যে।

এরপর ২০১৪ সালের উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এস এম আকরাম ৬৬ হাজার ১১৪ ভোট পেয়েছিলেন। অথচ ওই নির্বাচনে সেলিম ওসমান সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়েও পেয়েছিলেন ৮২ হাজার ৮৫৬ ভোট। তাই এই নেতা এই আসনে সকল প্রার্থীর চেয়ে জনপ্রিয়তার দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। এমনকি সরকারী গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ভোটারদের জনপ্রিয়তার শীর্ষে এই নেতার নাম এখনো রয়েছে বলে তাদের তালিকা তার নাম রয়েছে। এতে করে তার জনপ্রিয়তার বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ