১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০৬ অপরাহ্ণ

UMo

শোডাউনে পটু আন্দোলনে উধাও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩৮ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৮ রবিবার


শোডাউনে পটু আন্দোলনে উধাও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন অন্তত দেড় ডজন বিএনপি নেতা। যারা বিভিন্ন সময়েই বিভিন্ন সভা সমাবেশে নিজেদের প্রার্থীতার বিষয়টি জানান দিয়ে থাকেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এই দেড় ডজন নেতার বেশীরভাগই শোডাউনে পটু হলেও আন্দোলনে তাদের দেখা মেলেনা। বরং নিরাপদ কর্মসূচীতেই যেন তাদের স্বাচ্ছন্দ এমনটিই অভিমত দলটির নেতাকর্মীদের। এর মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনেকেই মামলার আসামী হিসেবে আত্মগোপনে থাকলেও যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই তাদেরও দেখা মিলছেনা রাজপথে।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারী জেলা বিএনপির সাবেক কমিটির সেক্রেটারী কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সেক্রেটারী করে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। একইদিন মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও সেক্রেটারী পদে এটিএম কামালের নাম ঘোষণা করা হয়। পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২৬ সদস্যের ও মহানগর বিএনপির ২৩ সদস্যের আংশিক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এদিকে জেলা ও মহানগরের আংশিক কমিটি গঠনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জে কোন্দলে দ্বিধাবিভক্ত নেতাকর্মীরা। বরং কোন কোন এলাকায় ত্রিধাবিভক্তও রয়েছে নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন অন্তত একডজন শীর্ষ নেতা। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার এবং জেলা বিএনপি নেতা ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা প্রয়াত বদরুজ্জামান খসরুর পুত্র সুমন, সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর এবং বিএনপি ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আমরিকা প্রবাসী নুরুল ইসলাম নুরু মাঝেমধ্যে শোডাউন করলেও তিনি একপ্রকার নিস্ক্রিয়ই বলা চলে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো: রেজাউল করিম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ওয়ালিউর রহমান আপেল। এছাড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি শিল্পপতি মোহাম্মদ শাহআলমের পাশাপাশি মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও ব্যারিষ্টার পারভেজও রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও মহানগর যুবদলের সভাপতি নাসিকের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশীরভাগকেই আন্দোলনে খুঁজে পাওয়া যায়না। বরং তাদেরকে নিরাপদ কর্মসূচীতে শোডাউনে দেখা যায়। সম্প্রতি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশীরভাগকেই শোডাউন করতে দেখা গেলেও নারায়ণগঞ্জে কর্মসূচী পালন করতে দেখা যায়না তাদের কাউকেই। এর আগেও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশীরভাগকেই নিরাপদ কর্মসূচীতে খুঁজে পাওয়া গেলেও রাজপথে খুব একটা দেখা মেলেনি। গত দুই মাসে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রায় ৩০টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ওইসকল মামলার আসামী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশীরভাগই গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের সঙ্গে অনুগামী বিএনপি নেতাকর্মীরাও এখন ফেরারী জীবনযাপন করছেন। তবে সরকারী দলের সঙ্গে আতাঁতের মাধ্যমে বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের অনুগামীরা ইতিমধ্যে এলাকায় অবস্থান করছেন। যদিও তাদেরকে দেখা যায়নি কোন ধরনের কর্মসূচী পালন করতে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে বিগত দিনে এমপি নির্বাচিত হওয়া মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একেবারেই নিস্ক্রিয় বলা চলে। সম্প্রতি ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ৭দিন ব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা করা হলেও ওইসকল কর্মসূচী পালনে দেখা মেলেনি বেশীরভাগ মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকদের। যে কারণে অনেকেই বলছেন বিএনপির বেশীরভাগ মনোনয়ন প্রত্যাশী শোডাউনে পটু হলেও আন্দোলনে উধাও হয়ে যান। আর তাদের সঙ্গে পিছটান দেন অনুগামী নেতাকর্মীরাও। যার ফলে মুখ থুবড়ে পড়ে বিএনপির আন্দোলন।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ