২৯ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮ , ১:৪৭ অপরাহ্ণ

UMo

বিএনপিতে দায়িত্বশীল পদে দুর্বল নেতৃত্ব


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২০ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার


বিএনপিতে দায়িত্বশীল পদে দুর্বল নেতৃত্ব

নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিএনপি দলটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে বেকায়দায় পড়ার পেছনে দায়িত্বহীনদের কাধে দায়িত্বের মুকুট পড়িয়ে দেয়াকে মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া দলটির ত্যাগী নেতাদের মাইনাস ও সুবিধাবাদীদের প্লাস হওয়ার বিষয়টি এক্ষেত্রে বেশ গুরুত্ব বহন করছে। যেকারণে দলীয় কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে ফ্লপ হচ্ছে। এসব কারণে দলটি নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘ত্যাগী নেতাদের মাইনাস করে দায়িত্বহীন ও সংস্কারপন্থীদের কাধে দায়িত্ব দেয়া হলে নানা সংকট দৃশ্যমান হচ্ছে। এতে করেও দলের হাইকমা-ের টনক নড়ছেনা। তবে শিঘ্রই যদি এই সংকট নিরসনে পদক্ষেপ না নেয়া হয় তাহলে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে দলটির জন্য।

বিগত দিনে দলের ত্যাগী নেতাদের তালিকায় থাকা বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার সহ তার অনুগামীদের বাদ দিয়ে সংস্কারবাদী ও সুবিধাবাদীদের দলে ভেড়ানো হয়। এতে করে দলের গুরুত্বপূর্ন পদ হাতিয়ে নেয় সংস্কারবাদী ও সুবিধাবাদীরা। যেকারণে দলীয় কর্মসূচিগুলোতে পুলিশি বাধার মুখে কোনঠাসা হয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চাষাঢ়া বালুর মাঠের মত গলিতে কর্মসূচি পালনে বাধ্য হয়।

গত বিএনপির জেলা কমিটিতে অনেক নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে জেলার আহবায়ক তৈমূর আলম খন্দকারকে মাইনাস করে মনিরুজ্জামান মনিরকে সভাপতি ও মামুন মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি দেয়া হয়। এবং মহানগর কমিটিতে সংস্কারপন্থী নেতা আবুল কালাম সভাপতির পদ বাগিয়ে নেয়। আর ত্যাগী নেতাদের কাতারে থাকা এটিএম কামাল সংস্কারবাদীদের দলে পড়ে অনেকটা বেকায়দায় পড়ে যায়। সংস্কারপন্থী আরেক নেতা বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি পদ বাগিয়ে নেয়। এতে করে দলের ভেতরে শীর্ষ পদ ধারীদের অনেকেই হয়তো সংস্কারবাদী নয়তো সুবিধাবাদীদের তালিকায় এয়েছে।

অন্যদিকে দলের ত্যাগী নেতাদের দলের পদ থেকে মাইনাস করা হয়েছে। আবার অনেককে পদ দেয়া হলেও যথাযোগ্য পদ দেয়া হয়নি। যেকারণে দলের ত্যাগী নেতারা অনেকটা মনক্ষুন্ন হয়ে দলীয় কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে পড়ে। আর দলের পদধারীরা সুবিধাবাদীরা পুলিশি ঝামেলা এড়াতে দলীয় কর্মসূচি এড়িয়ে চলে। আবার অনেকে নিজেদের গাঁ বাঁচাতে বিদেশে অবস্থান করেন। এই সুযোগে বিএনপি দলটিকে আরো বেকায়দায় ফেলতে পুলিশ প্রশাসন হামলা, মামলার মধ্য দিয়ে কোনঠাসা করে ফেলে। আর দলীয় কর্মসূচিগুলো নেতাশূন্যতার ফলে দলের কর্মীরাও অনেকটা নিরাশ হয়ে পড়ে; যেকারণে দলের কর্মসূচিগুলোতে দুএকজন নেতা ও হাতেগুনা কর্মীদের নিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালনের চিত্র দেখা যায়। তবে কর্মসূচি পালন করলেও নেতারা নামেমাত্র ৫-১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশের বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে এসব কর্মসূচি পালন করে। এতে করে দলটির আরো দুর্বল হয়ে পড়ে।

দলটির যখন দুর্বল ও বেকায়দার রয়েছে এমন সময়ে দলীয় পদধারী নেতাদের কার্যকলাপ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে, সমালোচনাও হচ্ছে। আর সেই সমালোচনা জেলার গন্ডি পেরিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ নিয়ে কেন্দ্রে ডাকা এক বৈঠকে জেলা ও মহানগরের মোট ১০ জন নেতাকে ডাকা হয়। সেই বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পদধারী নেতাদের কর্মকা- নিয়ে সমালোচনা হয়। আর তাতে করে এই মহানগর কমিটিটি ফের পুনরায় গঠনের কথাও ওঠে। এদিকে দলের তৃণমূল কর্মীরাও একই অভিযোগ তুলছে।

১৫ অক্টোবর রাত ১০টায় নারায়ণগঞ্জে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিউজ নারায়ণগঞ্জের বিশেষ লাইভ টক শো ‘নারায়ণগঞ্জ কথন’ ৪৭ তম পর্বে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমাদের দলের দায়িত্বশীলরা দায়িত্বহীন কাজ করেছেন। মহানগরের সাধারণ সম্পাদক গত ১২ এপ্রিল বিদেশ চলে গেছে ৬ মাস পর গত কয়েকদিন আগে ফিরেছেন। সভাপতিও একই কাজ করেছেন। পদ বাগিয়ে নিয়ে বসে থাকায় গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘বিএনপি দলটি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে দলের নেতারা অনেকটা বেকায়দায় পড়ে গেছে। তবে দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে সংস্কারপন্থী ও সুবিধাবাদীদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে দলটি দুঃসময়ে আরো বেকায়দায় পড়ে গেছে। এতে করে দলটির অস্তিত্ব নিয়েও নানা সংকট দেখা দিয়েছে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ