৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮ , ৬:২১ অপরাহ্ণ

rabbhaban

আওয়ামী লীগকে ডুবাচ্ছেন পলাশ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৩ পিএম, ২৯ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার


আওয়ামী লীগকে ডুবাচ্ছেন পলাশ

সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জে চলমান পরিবহন ধর্মঘটে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। নিরাপদ সড়কের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রীসভায় সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন ও পাশ করা হয়। কিন্তু সরকার ও নিজ দল আওয়ামীলীগের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৮ দফা দাবিতে শ্রমিক নেতা ও শ্রমিকদের একাংশ পরিবহন ধর্মঘট। তবে জনভোগান্তির পেছনে নারায়ণগঞ্জের একজন শ্রমিক লীগ নেতারও ইন্ধন পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ছিল। শ্রমিক নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ এই ধর্মঘটের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে। যার ফলে এই শ্রমিক নেতা পলাশের জন্য আওয়ামীলীগ দলটি বিতর্কিত হচ্ছে। এতে করে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত শ্রমিক নেতা পলাশ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আওয়ামীলীগ দলের সুনাম ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে।

জানা গেছে, ‘সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন সহ ৮ দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দেয়। আর তাতে সারা দেশে জনদুর্ভোগের খড়গ নেমে আসে সাধারণ জনগণের উপর। ২৮ অক্টোবর থেকে ওই পরিবহন ধর্মঘটের একদিন আগে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ সমাবেশ করে ধর্মঘটের পক্ষে অবস্থান নেন। এই ধর্মঘটের ফলে সারা দেশের মত এ জেলার স্বাভাবিক কার্যক্রমও অচল হয়ে পড়ে। মহিলা কলেজের ছাত্রীদের উপর নগ্ন হামলা তো বটেই আটকে দেওয়া হয় খোদ প্রধানমন্ত্রীর পিএসকেও। সড়কে কোন যান চলাচল করতে দেখলেই চালকের মুখে ও গায়ে কালি ও পোড়া মোবিল লেপে দেয়া হয়, আবার কাউকে কান ধনে উঠ-বস সহ নানাভাবে শাস্তি দেয়া হয়। তাই পরিবহন সংকটে যেসব যানবাহন চলাচল করতে পারছে তাতে যাত্রীদের ২-৩ গুণ বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। এতে করে পুরো জেলাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব কারণে পণ্য দ্রব্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। আর অর্থনীতিতেও ক্ষতি সাধন হয়েছে। শুধু তাই নয় সড়কে একদিকে চলাচল ব্যহত হচ্ছে; অন্যদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ইন্ধনে এরুপ দুর্দশার চিত্র জনমনে ঘৃন্যতার নজির সৃষ্টি করবে।

এর আগের দিন বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা ও আন্তঃজিলা ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাউসার আহম্মেদ পলাশ সমাবেশে বলেন, ‘আমরা এসব ধারা বাতিলের দাবি করছি। আমরা ৩০২ ধারাসহ জরিমানা বাতিলের দাবি করছি। অন্যথায় আমাদেরকে দাবি আদায়ে পথে নেমে আসতে বাধ্য করবেন না।’

এর আগে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আন্দোলন যায় বাংলাদেশ ট্রাক চালক ইউনিয়ন পাগলা শাখা যার সভাপতি হলেন কাউসার আহমেদ পলাশ। শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পলাশ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগেরও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন। সরকার দলের এ নেতার সংগঠনও শেষতক সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেছে।

সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবীতে ৭ অক্টোবর থেকে ওই আন্দোলন শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জেও এটা চলমান। ৮ অক্টোবর ছিল আন্দোলন। তবে পাগলা ও ফতুল্লা এলাকাতে এক পক্ষ সকালে শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট পালন করলেও আরেকটি গ্রুপ ভাঙচুরের চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে পলাশ সমর্থিতরা ছিল শুধুমাত্র সভা আর শান্তিপূর্ণ ধর্মঘটে।

ওই সময়ে শ্রমিক নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশ বলেছিলেন, আমাদের দাবি আদায়ে আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আমাদের দাবি আদায় করবো। আমরা শ্রমিকদের বুঝিয়েছি তারা ট্রাক বন্ধ রাখলে ঢাকায় চাল ডাল আনা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন সংকট সৃষ্টি হবে। 

এখানে উল্লেখ্য যে, এই শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের বিরুদ্ধে নানা বিতর্ক আর তির্যক অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, সন্ত্রাসীপনা সহ নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে এই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের একটি অংশ সরাসরি পৃষ্ঠপোশকতা করছেন পলাশকে। সুনজরে রেখেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীও। এছাড়া আওয়ামী লীগের ঘুপটি মেরে থাকা অংশও পর্দার আড়াল থেকে পলাশকে মৌন সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে এই নেতা ক্রমশ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

একাধিক সূত্র বলছে, ‘বেপরোয়া শ্রমিকলীগ নেতা পলাশ নিজের প্রভাব বিস্তারের মধ্য দিয়ে পাগলা-ফতুল্লা সহ পুরো আসনের কর্তৃত্ব নিজের কব্জায় নিতে চাইছে এই নেতা। যেকারণে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডের সমালোচনা সত্ত্বেও এই নেতা থেমে নেই। বরং আারো বেপরোয় হয়ে উঠেছে। এর আগে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনয়ন ইস্যুতে নিজ দলের এক নেতাকে গডফাদার বলে উল্লেখ করে তাকে নিয়ে সমালোচনাও করেছেন তার অনুগামীরা। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের এক দল স্বার্থান্বেষী মহল এই নেতাকে এসব বিতর্কিত কর্মকা-ে আরো উষ্কে দিচ্ছে। এমনকি সরকার ও আওয়ামীলীগের হাইকমা-ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশের বিরুদ্ধে এ জেলার আওয়ামীলীগের শীর্ষ পদীয় নেতাদের কোন প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। এতে করে তাদের মৌন সম্মতি রয়েছে এ বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক শ্রমিক লীগ নেতার কর্মকান্ডে পুরো জেলার আওয়ামীলীগ নেতারা বিতর্কিত হচ্ছে। এসনকি আওয়ামীলীগ দলটির ইম্যোজ ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাছাড়া এ জেলার আওয়ামীলীগ দলের নেতারা সরকার বিরোধী সকল বিষয়ে সরব হলেও এ বিষয়ে অনেকটা নিরব ভূমিকা পালন করছে। তাদের এই নিরবতা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।

ইতোমধ্যে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের একটি অংশ সরাসরি পৃষ্ঠপোশকতা করছেন পলাশকে। সবশেষ প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা খাজা রহমতউল্লাহর স্মরণসভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর পাশে চেয়ারে বসেছিলেন পলাশ। দিয়েছেন বক্তব্য। জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ওই স্মরণসভার কারণে পলাশকে অতিথি চেয়ারে বসানো মূল্যায়নের একটি অংশ মনে করা হচ্ছে।

এর আগেও আইভীর বাড়িতে একাধিক অনুষ্ঠানে দেখা যায় পলাশকে। তাছাড়া সম্প্রতি পলাশের উদ্যোগে আলীগঞ্জ মাঠে একটি ফুটবল খেলার পুরস্কার বিতরণীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পলাশের গুনকীর্তন আর বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

তাছাড়া আনোয়ারের অনুগামীদের মধ্যে দৃঢ়তা অবলম্বন করা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাতের ফুফাতো ভাই হওয়ায় শহরেও পরোক্ষ কর্তৃত্ব রয়েছে পলাশের।

এরই মধ্যে মার্চে অনেকটা আকস্মিকভাবেই পলাশের আলীগঞ্জের বাসায় এসে হাজির হন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শুরু হয় এক ভিন্ন ঝড়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ