৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮ , ৬:২১ অপরাহ্ণ

rabbhaban

আকরামে ফাটল বিএনপিতে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:০২ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার


আকরামে ফাটল বিএনপিতে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্যে বিএনপি, নাগরিক ঐক্য সহ আরো বেশ কয়েকটি দল যুক্ত হয়েছে। নাগরিক ঐক্যফ্রন্টের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ এস এম আকরামের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। এ নিয়ে বিএনপি দলটির মধ্যে নানা গুঞ্জন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে এই আসনে যদি এস এম আকারামকে মনোনয়ন দেয়া হয় তবে এই আসনের বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ফাটল ধরতে পারে। বিশেষ করে সংস্কারপন্থী ও সুবিধাভোগীনেতাদের ফের মাইনাস হওয়ার চিত্র দেখা যাবে। আর দলের মধ্যে নতুন করে কোন ফাটল দেখা যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি দলটির নেতাকর্মীরা হামলা, মামলার মধ্য দিয়ে অনেকটা বেকায়দায় রয়েছেন। এর মধ্যে অনেকটা খুড়ে খুড়ে চলছে দলের চাকা। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি বিএনপি দলটির এসব নেতাদের বাদ দিয়ে সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আসা নাগরিক ঐক্য দলটির উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ এস এম আকরামকে মনোনয়ন দেয়া হয় তাতে করে ক্ষমতাসীনদের হামলা, মামলার নির্যাতন সহ্য করা বিএনপি দলের নেতাদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ কাজ করবে। তবে দলের পদধারী সংস্কারপন্থী ও সুবিধাবাদী নেতারাও বিপাকে পড়ে ফের সংস্কারপন্থীদের তালিকায় নাম লেখাবেনা কিনা তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

এদিকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ক্লিন ইমেজধারী সাবেক সাংসদ ও নাগরিক কমিটির উপদেষ্টা এস এম আকরামের এই আসনের মনোনয়ন প্রাপ্তির সম্ভাবনা খুবই বেশি। তিনি এক সময় আওয়ামীগীরে বেশ দাপুটে ও ক্লিন ইমেজধারী নেতা ছিলেন।

যেকারণে তিনি জনপ্রিয়তার অনেকটা শীর্ষে অবস্থান করছেন। এরপর অনেকটা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে তিনি আওয়ামীলীগ দল ত্যাগ করে নাগকির ঐক্যে যোগদান করেন। তবে এমনকি ২০১৪ সালের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের শরীক দল জাতীয় পার্টির থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সেলিম ওসমানের সাথে ভোট যুদ্ধে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হন। তারপর আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগেও সরকার দলীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী এই নেতা এখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন। এতে করে তার এই আসনের মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত বলা চলে। তাছাড় বিএনপি দলটির নেতাকর্মীরা হামলা, মামলার মধ্য দিয়ে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে এই আসনের তার মনোনয়ন প্রাপ্তির সম্ভাবনা আরো জোরালো হচ্ছে।

অন্যদিকে বিএনপি দলটির এই আসনের তিন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম এক সময় সংস্কারপন্থী নেতাদের তালিকায় নাম লেখিয়ে বেশ সমালোচিত হয়েছেন। এরপর অনেকটা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালে মহানগর বিএনপিতে সভাপতি পদ বাগিয়ে নেয় এই নেতা। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারীতে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় রায় ঘোষণা হলে তাকে জেলে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু তখনো এই নেতাকে আন্দোলন সংগ্রামে দেখা যায়নি। আর দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অনুপস্থিত ছিলেন এই নেতা। যেকারণে দলের নেতাকর্মী সহ তৃণমূল তার উপরে অনেকটা ক্ষুব্ধ। এতে করে সংস্থাপন্থীদের তালিকার পর সুবিধাবাদীদের তালিকায় নাম লেখান এই নেতা।

জানা গেছে, তিনি এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন। তবে তাকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের সমালোচনার অন্ত নেই। তবে ঐক্যফ্রন্টের আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে বিএনপি দলটিকে আসন বন্টনে যেতে হবে। তাতে করে কোন কোন আসন ছাড় দিতে হবে। আর যেহেতু এই আসনে এস এম আকরামের মত একজন যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন তাতে করে এই আসন হারাতে চাইবেনা বিএনপি। তাতে করে এই আসনে অন্য সব মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কপাল পুড়তে পারে। তবে চিত্র যদি এরুপ ধারণ করে সেক্ষেত্রে সংস্থারপন্থীদের তালিকায় থাকা আবুল কালামের মত নেতারা ফের কোন সংস্কারের দিকে এগোতে পারে।

এছাড়া এই আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনিও এর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন করেছেন। এছাড়া দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে এই নেতাকে বেশ সরব দেখা যাচ্ছে। তাতে করে এই আসনে যদি এস এম আকরাম প্রার্থী হয়। সেক্ষেত্রে এই নেতার কপাল পুড়তে পারে।

অন্যদিকে আরেকজন মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ দীর্ঘদিন জেলে থাকার কারণে দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তবে এর আগে এই নেতাকে বেশ সরব দেখা গেছে। আর বিগত দিনের দলের ত্যাগী নেতাদের তালিকায় এই নেতা নাম লিখাতে সক্ষম হয়েছিল।

এই আসনে যদি এস এম আকরাম ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন পেয়ে যায় সেক্ষেত্রে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কপাল পুড়বে। এতে করে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের অনুগামীরা অনেকটা মনক্ষুন্ন হয়ে ব্যাকফুটে চলে যেতে পারে। আর দলের মধ্যে এক ধরনের অদৃশ্য ও দৃশ্যমান ফাটল দেখা যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘বিএনপি দলটির দুঃসময়ে দলের নেতারা হামলা, মামলার শিকার হয়েছে। এতে করে আসন্ন নির্বাচনের তাদের মধ্যকার যোগ্য নেতার মনোনয়ন প্রত্যাশা করাটা স্বাভাবিক। কিন্তু দলের এসব হামলা, মামলার শিকার নেতাদের বাদ দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের কারণে নাগরিক ঐক্যের নেতা এস এম আকরামকে যদি মনোনয়ন দেয়া হয় তাতে করে দলের নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিভক্তি দেখা দিবে। তবে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে শীর্ষে অবস্থান করা আকরামকে বাদ দিয়ে বিএনপি দলটি কোনভাবেই এ আসন হাতছাড়া করতে চাইবেনা।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ