৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮ , ১১:২০ অপরাহ্ণ

rabbhaban

নেতৃত্ব দিয়েও আসামীদের তালিকায় নেই এটিএম কামাল


সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:২৫ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার


নেতৃত্ব দিয়েও আসামীদের তালিকায় নেই এটিএম কামাল

নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে একটি আলোচিত ও সমালোচিত নাম হচ্ছে এটিএম কামাল। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদে দায়িত্ব পালন করাকালিন সময়ে একের পর এক কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে বার বার তিনি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আলোচনায় আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার নেতৃত্ব দিয়েও কোন মামলার আসামী না হয়ে নতুন করে আলোচনায় আসছেন এটিএম কামাল।

জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর মঙ্গলবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া অপর আসামিদের ১০ বছরের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। এই রায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। যে কর্মসূচির প্রথমদিন ৩০ অক্টোবর মঙ্গলবার ছিল দেশের জেলা সদর ও মহানগরে প্রতিবাদ সমাবেশ।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সহ আরও ৪ জন। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে কর্মসূচি উপলক্ষ্যে জড়ো হওয়ার আগেই পুলিশ হানা দিয়ে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ওই ঘটনায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ৭ থেকে ৮ জনকে আসামী নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাই আসামী হয়েছেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে আসামীদের তালিকায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের নাম আসেনি। অথচ তিনিই এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দানকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়েছে। আবার অনেকে বিষয়টিকে সমাঝোতার রাজনীতি হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন।

মামলা অন্য আসামিরা হলেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মহানগর বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রাফিউদ্দিন রিয়াদ, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান, অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, হাসান আহমেদ, মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টিসহ অজ্ঞাত ৮জন।

এর আগে যখন বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেয়া হচ্ছিল তখন হঠাৎ করেই গত ৩১ মার্চ হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর ডাক্তার বিশ্রামের কথা বললে তিনি গত ৮ এপ্রিল দেশ ছেড়ে সুদূর আমেরিকায় পাড়ি জমান। তবে নেতাকর্মীদের অভিযোগ ছিল তিনি অসুস্থতার ভান করেছিলেন। এর পর থেকেই এটিএম কামাল আমেরিকায় মেয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন।

যদিও একান্ত চিকিৎসার জন্যই তিনি সেখানে ছিলেন বলেন তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিল। একই সাথে জানিয়েছিলেন চিকিৎসার সামগ্রিক কাজ শেষ হলেই তিনি দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু অনেকদিন ধরেই তিনি দেশে ফিরছিলেন না। এরপর দীর্ঘ ৭ মাস পর দেশের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসলে গত ১৩ অক্টোর শনিবার এটিএম কামাল সাংবাদিকদেরকে জানান যে তিনি দেশে ফিরেছেন। একই সাথে ফের দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় হবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ রাজপথের অন্যতম সৈনিক ছিলেন এটিএম কামাল। তৎকালীয় সময় তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় দলীয় প্রত্যেক কর্মসূচিতেই নেতাকর্মীদের নিয়ে তার সরব উপস্থিতি থাকতো। পুলিশের হামলা-মামলাও রুখতে পারেন নি তাকে। একের পর এক মামলায় জেল খেটেছেন বহুবার। তারপরেও তাকে দমিয়ে রাখা যায়নি।

এরই মধ্যে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এরপর থেকেই দলীয় আন্দোলন সংগ্রামের তার নিস্ক্রিয়তা চলে আসে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ