১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০৩ অপরাহ্ণ

UMo

নারায়ণগঞ্জে সাদ পন্থীরা মাস্তান, ইজতেমা হলে রক্তের বন্যা : আউয়াল


সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৫:৪২ পিএম, ২ নভেম্বর ২০১৮ শুক্রবার


নারায়ণগঞ্জে সাদ পন্থীরা মাস্তান, ইজতেমা হলে রক্তের বন্যা : আউয়াল

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় জেলার যে ইজতেমা আহবান করেছেন তাবলীগের একটি গ্রুপ সেটা বাতিল করতে প্রশাসনের প্রতি আহবান রেখেছেন জেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর ও শহরের অন্যতম বৃহৎ ডিআইটি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল আউয়াল। তিনি হুশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, ‘আলেম ওলামাদের বাদ দিয়ে এভাবে সূরাকে উপেক্ষা করে জেলায় যে ইজতেমার আহবান করা হয়েছে সেটা বন্ধ না হলে রক্তের বন্যা বইয়ে যাবে। আমার আর হারানোর কিছু নাই। এখন আর কিছু হারাতে চাই না। জীবনের শেষ সময়টা দ্বীনের উপর নিজেকে সমর্পন করতে চাই।’

শুক্রবার ২ নভেম্বর জুমআর নামাজের পর শহরের ডিআইটি জামে মসজিদের সামনে প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে জুমআর খুতবার বয়ানেও তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগের দিন ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের আমলাপাড়াতে স্বর্ণপট্টি সংলগ্ন অবস্থিত ছোট মার্কাজ মসজিদে তাবলীগ নিয়ে বিবাদমান দুটি গ্রুপের অবস্থানের সময়ে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়ে জেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর ও শহরের অন্যতম বৃহৎ ডিআইটি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল আউয়ালকে লাঞ্ছিত করা হয়। ওই সময়ে অন্যরা প্রতিবাদ করলে তাদের উপর চড়াও হয় লোকজন। এ নিয়ে মসজিদের ভেতরে যখন চরম উত্তেজনা চলছিল তখন পুলিশ সেখানে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে বাদ জুমআ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। আউয়াল আরো বলেন, ‘এক সময়ে মাওলানা সাদ উত্তরসূরীর মাধ্যমে নিজেই এখন আমীর দাবী করছে। অথচ তার ৬৫টি পয়েন্ট বেশ বিতর্কিত। এসব আলোচনা করলে তাকে সবাই মেরে ফেলতে চাইবে। তিনি এখন ইসলামকে বাতিলের দলে নিতে চান। সে কারণেই বাংলাদেশের মুরুব্বীরা তো তাকে বাদ দিছেই আন্তর্জাতিকভাবেও তিনি বেশ নিগৃহীত। ইতোমধ্যে সৌদি আরবেও এবার তিনি হজে যথার্থ সম্মান পায় নাই। মূলত সাদ এখন মুরতাদ হয়ে গেছে। তার কোন ইমান নাই।’

আউয়াল আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জেও এ পন্থীরা বিশৃঙ্খলা করতে চাচ্ছে। বৃহস্পতিবার আমরা নিয়মাফিক কালীরবাজার মসজিদে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের অপমান করা হয়েছে। পুলিশ না থাকলে আজকে আমার লাশ পড়ে থাকতো। আমরা নিহত হতাম। তাই বলতে চাই রক্ত থাকা পর্যন্ত আর ছাড় দিব না। তাবলীগের ইজতেমা হবে টঙ্গিতে। এটাই সিদ্ধান্ত। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে সাদ পন্থীরা সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে যে ইজতেমার কথা বলছেন আড়াইহাজারে সেটা করত দেওয়া হবে না। নারায়ণগঞ্জে সাদপন্থীদের কোনো কার্যকলাপ করতে দেবো না। কালীরবাজার মার্কাজ মসজিদে আর কোন কার্য্যক্রম করতে দেওয়া হবে না যতদিন সিদ্ধান্ত না হয়।’

তিনি বলেন, ‘যারা সাদের অনুসারী তারা গুন্ডা মাস্তান বদমায়েশ। তাদের রক্তে সেটা এখনো প্রতীয়মান। বৃহস্পতিবার সেটার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’

আরো বক্তব্য রাখেন , মুফতি মাসুম বিল্লাহ, রহমতউল্লাহ বুখারী, ইসমাইল হোসেন আব্বাসী, জাকির হোসেন কাসেমী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবারের ঘটনায় ইতোমধ্যে মুফতি আনিস আনসারি বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় জিডি করেছেন।

জানা গেছে, গত এক বছর ধরে তাবলীগ জামাতের ভেতরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। একটি গ্রুপ অনুসরণ করছেন মার্কাজপন্থী ভারতের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে। আর আরেকটি গ্রুপ রয়েছে তার বিরোধী যাদের বাংলাদেশে নেতৃত্বে দিচ্ছে হেফাজতপন্থী আলেমরা।

নারায়ণগঞ্জে হেফাজতপন্থী আলেমরা সাদপন্থীদের বিরোধীতা করে আসছে। তারা চাচ্ছেন মার্কাজ দখল করতে। ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের আমলাপাড়াতে স্বর্ণপট্টি সংলগ্ন অবস্থিত ছোট মার্কাজ মসজিদে বিবাদমান দুটি গ্রুপ অবস্থান নেয়।

প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার আমলাপাড়া ছোট মার্কাজ মসজিদে সাপ্তাহিক বয়ান হয়। এবারের সাপ্তাহিক বয়ান উপলক্ষে পূর্ব থেকেই ধারণা করা হয়েছিল ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে। সেই সূত্র ধরে বাদ আছর থেকেই উভয় গ্রুপের লোকজন মসজিদে অবস্থান নিতে শুরু করে।

পরবর্তীতে মাগরিবের নামাজের সময় জেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা আবদুল আউয়াল ও মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে আমলাপাড়া মসজিদে হাজির হন। মাগরিবের নামাজ শেষে আবদুর আউয়াল সাপ্তাহিক বয়ান করতে চাইলে সাদ পন্থীরা বাধা দেন। তখন সাদপন্থী ও হেফাজতপন্থী তাবলীগের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে পূর্ব নির্ধারিত অনুযায়ী সাপ্তাহিক বয়ান করেন আমলাপাড়া মসজিদের ইমাম মাওলানা খোরশেদ। তিনি এশা নামাজের আগ পর্যন্ত বয়ান করেন। বয়ান চালাকালিন সময়ে এশার নামাজের পুর্ব মুহূর্তে আবদুল আউয়াল কিছু বলতে চাইলে তাকে সাদপন্থী তাবলীগের সমর্থকরা বাধা দেন। আবদুল আউয়ালের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বাকবিতন্ডা জড়িয়ে পড়েন সাদ গ্রুপের লোকজন। তখন তাদের মধ্যে মৃদু হাতাহাতির সময়ে আউয়ালকে লাঞ্ছিত করা হয়।

এ ব্যাপারে ফেরদাউসুর রহমান মুঠোফোনে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমরা সেখানে শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ছিলাম। নামাজের প্রাক্কালে হঠাৎ করেই আবদুল আউয়ালের উপর চড়াও হয় সাদ পন্থী হিসেবে পরিচিত আসাদুর রহমান, শাহাদাত, ফিরোজ, সোহেল, অহিদ, জালালউদ্দিন, রাসেল প্রমুখ। তারাই মূলত আবদুল আউয়ালকে লাঞ্ছিত করে।’

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ