৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮ , ৬:২১ অপরাহ্ণ

rabbhaban

নারায়ণগঞ্জ-১

জয় পেতে মরিয়া আওয়ামীলীগ বিএনপি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩৯ পিএম, ৭ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার


জয় পেতে মরিয়া আওয়ামীলীগ বিএনপি

শিল্পাঞ্চল খ্যাত নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনটি অনেকদিন ধরেই হাতছাড়া রয়েছে বিএনপির। এবার আর বেদখল হয়ে থাকতে চান না। অন্যদিকে আওয়ামীলীগও তার পূর্বদখল ধরে রাখতে চাই। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনটিতে জয় পেতে মরিয়া আওয়ামীলীগ ও বিএনপি। যদিও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একের পর এক মামলায় কাবু হয়ে পড়েছেন।

জানা যায়, দুটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত শিল্পাঞ্চল হিসেবে খ্যাত এ আসনটিতে স্বাধীনতা পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুদলই ক্ষমতায় সমান আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৪টি নির্বাচনে দুইবার জয় পান বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আবদুল মতিন চৌধুরী। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে আসনটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগের মেজর জেনারেল কেএম সফিউল্লাহ ও গোলাম দস্তগীর গাজী।

এরই মধ্যে ঘনিয়ে এসেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমান সংসদ সদস্য শিল্পপতি গাজী গোলাম দস্তগীর (বীর প্রতীক), সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ বীরউত্তম, সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বর্তমান জেলা সভাপতি আবদুল হাই, রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান ভূঁইয়া, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও রংধনু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম এবং থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা।

এদিকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপি সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু এবং থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন। এর মধ্যে কাজী মনিরুজ্জামান ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েও নৌকা প্রতিকের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজীর কাছে হেরে যান তিনি।

একই সাথে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন রূপগঞ্জ থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি মীর আনোয়ার হোসেন এবং থানা কমিটির সহ সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম। তারা স্থানীয় আওয়ামীলীগের কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে মহাজোটের প্রার্থী হওয়ার চিন্তায় রয়েছেন। তবে কতটুকু সফল হতে পারবেন সেটা সময় বলে দিবে।

এবারের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজেদের পূর্বদখল ধরে রাখতে চান। তাদের বিশ্বাস, সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় আসনটিতে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে পারবে। সেই আশায় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রায় প্রতিনিয়তই জোড়ালোভাবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নকে জনগণের সামনে তুলে ধরে নিজেদের সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে তাদের মধ্যে চলমান দলীয় কোন্দলে ইমেজ সংকটে পড়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। কেউ কাউকে সহজে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে রাজী না। দলীয় প্রচারণার চাইতে একে অপরের ইমেজ নষ্ট করার কাজেই বেশি ব্যস্ত রয়েছেন তারা।

বিএনপি যে কোন উপায়েই হোক দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা আসনটি পুনরায় দখল নিতে চান তারা। ইতিমধ্যে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী সরব থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ধারণা এই আসনটিতে তরুণ নেতৃত্ব এলে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যে তরুণ মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু সংসদীয় এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক কাজে তিনি অগ্রভাগে থাকেন। আর তরুন সমাজের কাছে তিনি হলেন আইকন। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনৈতিক কর্মকান্ড সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

একই সাথে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারও কম নয়। তিনিও সংসদী এলাকায় নির্বাচনী এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আইনজীবী হিসেবে নেতাকর্মীদের বিপদ-আপদে সবসময় ছুটে আসেন তিনি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার পর থেকেই দলের নেতাকর্মীদের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

তবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একের পর এক রাজনৈতিক মামলায় অনেকটাই কাবু হয়ে পড়েছেন। জানা অজানা অনেক ঘটনাতেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের টার্গেট করে আসামী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাদের।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ