৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮ , ৬:১৯ অপরাহ্ণ

rabbhaban

নারায়ণগঞ্জ-৫

আওয়ামীলীগ জাপায় ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৬ পিএম, ৭ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার


আওয়ামীলীগ জাপায় ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগে ত্রিমুখি দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে। এই আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান যিনি জাতীয় পার্টি থেকে নির্বচিত হয়েছেন। অন্যদিকে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানের সাথে বাকযুদ্ধ দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও দুই মেরুর দ্বন্দ্বের জেরে মেয়র আইভীর সাথেও বাকযুদ্ধ দেখা যাচ্ছে। এতে করে এই আসনের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে জাপা ও আওয়ামীলীগের মধ্যে ত্রিমুখি দ্বন্দ্ব দৃশ্যমান হচ্ছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রায় ঘনিয়ে এসেছে। এর মধ্যে তফসিল ঘোষণার দিনক্ষণ প্রায় ঠিক হয়ে আছে। আর সেই হিসেবে এ বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে করে নির্বাচনী বছরের শুরুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার শরীক দল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সবর হয়ে উঠেছে। এতে করে এই দুই দলের মধ্যেকার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দলের চিত্র দেখা যাচ্ছে।

এদিকে গত ৬ নভেম্বর কলাগাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে আমি জনগনের দাবীর প্রেক্ষিতে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছি। আরো অনেকেই আছেন যারা এই আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আলগা চুল পড়ে নাটক করা, কন্ট্রাকটারি করা ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যদি তাদের জনসমর্থন থাকে বন্দরের মানুষ যদি তাদের সমর্থন করেন প্রয়োজনে বন্দরের মানুষের সমর্থনকে আমি সমর্থন দিয়ে সরে যাবো। তবে আপনাদের কাছে অনুরোধ কাকের গায়ে পাখ লাগিয়ে ময়ূর সাজা ব্যক্তিদের ভোট দিবেন না। আমি এটাও বলবো না আপনারা আমাকে ভোট দেন। আপনারা যাকে যোগ্য ব্যক্তি মনে করবেন যাদের দ্বারা আপনাদের এলাকার উন্নয়ন হবে বলে মনে করবেন তাকেই আপনারা ভোট দিবেন। আগামীতে আমি এমপি হতে পারি বা না পারি মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত আপনাদের পাশে থেকে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কাজ করে যাবো।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন কাজের সহযোগীতা করার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জাতীয় পার্টিকে বন্ধু বলেছেন। উনি বাংলাদেশে শান্তিপূর্ন পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে বিরোধী দলগুলোর সাথে আলোচনায় বসেছেন। হেফাজতে ইসলামের দেওয়া সংবর্ধনা নিয়েছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে আমার সাথে যখন আমার ভালবাসার মানুষ গুলো আমাকে ভালবাসার মানুষ গুলো আমার সাথে মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন। উন্নয়ন কাজে সহযোগীতা করেন। তখন একজন নেত্রী বলছেন এভাবে চলতে থাকলে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের অস্তিত্ব থাকবে না। এ কথা বলে উনি কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যাকে ভুল প্রমান করতে চান? আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এই নারায়ণগঞ্জ থেকেই আওয়ামীলীগের জন্ম। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ খান সাহেব ওসমান আলীর আওয়ামীলীগ, একেএম শামসুজ্জোহার আওয়ামীলীগ, আলী আহম্মদ চুনকার আওয়ামীলীগ। তাই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের অস্তিত্ব থাকবে না এটা কখনো হতেই পারে না।

এর আগে ৩ নভেম্বর জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘জাতীর পার্টির স্টেজে গিয়ে যে সমস্ত আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে ভোট চেয়েছেন লাঙ্গলের জন্য তাদেরকে আমি ধিক্কার জানাই। যদি এ আসনে নেত্রী তাকে দেয় মহাজোট থেকে অবশ্যই আমরা তার জন্য খাটবো কিন্তু না দেয়া পর্যন্ত আমরা নৌকার কথাই বলবো এটাই স্বাভাবিক। নেত্রী যাকে দেবেন তাকেই আমরা মেনে নেব এটা সত্য দলের স্বার্থে দেশের স্বার্থে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বার্থে আমাদেরকে মেনে নিতে হবে এটাই আপনারা মাথায় রাখেন কিন্তু তার আগে তো আমরা দলের প্রচার ছাড়া অন্য প্রচার করতে পারিনা।

এদিকে গত ৫ নভেম্বর এক সভায় মেয়র আইভীকে ইঙ্গিত করে সেলিম ওসমান বলেন, ‘তিনি উক্তি করেছেন আমার মঞ্চে আওয়ামী লীগের লোক উঠে। তাদের তিনি ধিক্কার জানান। অথচ আমি আমি চাষাঢ়া থেকে আসার সময়ে ১৮টি ব্যানার দেখেছি একজনের যিনি জমি দখলকারী। তিনি লাঙল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টি হতে নির্বাচন করতে চান। তাকে আমরা জাতীয় পার্টির কোন সমর্থকও পরিচয় দেই নাই। আপনার ছবি দিয়ে সে ছবি লাগিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। পোস্টার ছাপিয়েছে। কিন্তু আমার কোন ব্যানার থাকে না। আমার নামে পোস্টার লাগালে আমি মামলা করেছি। আমার অনুমতি ছাড়া কোন ব্যানার পোস্টার লাগানো যাবে না। কিন্তু তার পরেও আমার ব্যানার পোস্টার লাগানোর সাথে সাথেই সিটি কর্পোরেশন ঠাস করে খুলে নামিয়ে ফেলে। সেখানে সিটি করপোরেশনের একজন কন্ট্রাকদারের পোস্টার সাটিয়ে দেয়। আমি মেয়র মহোদয়কে অনুরোধ করলাম আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেন কোন পোস্টার না থাকে। আমি ভালোবাসার রাজনীতি করি। এটা কোনো নির্বাচনী মিটিং না। আমি কোন ভোট চাইতে আসিনি। আমি এসেছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উজ্জল ভবিষ্যত কামনা করার জন্য। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শুকরিয়া আদায় করছি। হাজারো নাতি-নাতনির উপস্থিতিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে একটি স্কুলে বহুতল ভবন উদ্বোধন করতে পারছি। এই স্কুলটির অন্যান্য সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।’

এর আগে গত ২ নভেম্বর আরেক সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘বন্দরের মাটি  আওয়ামীলীগের ঘাঁটি। আমি সবাইকে নিয়ে একসাথে কাজ করতে চাই। আপনারা এমন কাউকে ভোট দিবেন না যার দ্বারা আপনি নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর কোন উৎসব এলেই যাকাত-ফিতরা দিয়ে আপনাদের মূল্যবান ভোট লুট করার কৌশল অবলম্বন করে। এসব টাকায় নিজেদের স্বকীয়তা বিক্রি করবেন না।

তিনি আরো বলেন, সৎ মায়ের কাছে আপন সন্তানের আদর যত্ম পাওয়া যায় না এর একটি বাস্তব প্রমাণ আমাদের আসনের এমপি। সে শুধু নিজেকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। আজ আমরা ক্ষমতাসীন দল হয়েও অন্য দলের কাছে জিম্মি। বন্দর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ন উপজেলা হলেও বিগত ১২ বৎসরে এর কোন উন্নয়ন হয়নি। আমরা এর পরিবর্তন চাই।

এতে করে একদিকে একদিকে এই আসনে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগের দুজন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দালের নানা চিত্র দেখা যায়। অন্যদিকে আওয়ামীলীগে দুই মেরুর দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন ওসমান পরিবারের সদস্য সেলিম ওসমান। মূলত আওয়ামীলীদের দুই মেরুর দ্বন্দ্ব মেয়র আইভী ও শামীম ওসমানের মধ্যে প্রায় সময় দেখা গেলেও জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপি সেলিম ওসমান ওসমান পরিবারের সদস্য ও এই আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ার ফলে এই মেরু ভিত্তিক দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাপা ও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে মনোনয়ন ইস্যুতে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এছাড়া আওয়ামীলীগের দুই মেরুর এক মেরুর নেতৃত্বে থাকা মেয়র আইভীর অনুগামী হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন। এই নেতার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এই আসনে জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমান মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন যিনি ওসমান পরিবারের সদস্য। ওসমান পরিবারের সাথে মেয়র আইভীর মেরু ভিত্তিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। এতে করে একদিকে মেরু ভিত্তিক দ্বন্দ্ব; অন্যদিকে দুই দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এতে করে এই আসনে জাপা ও আওয়ামীলীগের মধ্যে ত্রিমুখি দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ