১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:১৭ অপরাহ্ণ

UMo

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন

হাল ছাড়েনি নৌকার মাঝিরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৮ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার


হাল ছাড়েনি নৌকার মাঝিরা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামীলীগের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। এর আগে কেন্দ্রীয় সূত্র মতে জাতীয় পার্টি দলটি যদি মহাজোটে থাকে তবে ফের আসন ভাগাভাগির দৃশ্য দেখা যাবে। এছাড়াও সম্প্র্রতি জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামীলীগের সংলাপেও আসন বন্টনের বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে করে এই আসনে জাতীয় পার্টির সাংসদ থাকার কারণে জাতীয় পার্টি দলটি ফের এই আসনে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ জোরালো হচ্ছে। অন্যদিকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখনো হাল ছাড়েনি। তারা ধারাবাহিকভাবে সভা, সমাবেশে, উঠান বৈঠক করে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘এই আসনের আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বেশ আশাবাদী। তারা কোনভাবেই এই আসনে লাঙলকে ছাড় দিতে নারাজ। যেকারণে নৌকার মাঝিরা এখনো প্রার্থী হওয়ার হাল ছাড়েনি। এতে করে যদি কোন কারণে জাতীয় পার্টির আসন বন্টন ইসুটি থমকে যায় নৌকার মাঝিরা সেক্ষেত্রে সুযোগ কাজে লাগাবে।’

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রায় ঘনিয়ে এসেছে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভোট। এতে করে নির্বাচনী বছরের শুরুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও তার শরীক দল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সবর হয়ে উঠেছে।

নির্বাচনী বছরের শুরুতে নৌকার মাঝিরা নৌকা প্রতীকের দাবিতে রব তোলে। এতে করে দলের নেতাকর্মীরা বেশ সরব হয়ে উঠে। দলের নেতাকর্মীরা বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকা প্রতীক দিতে হবে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে সবাই তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে।’

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন যাবত নির্যাতিত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, নিষ্পেষিত হয়ে আছে। যেকারণে এই আসনে নৌকা প্রতীক দেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। যদি লাঙলকে ছাড় দিতে হয় তবে সারা দেশের অন্য কোন জেলায় যেন ছাড় দেয়া হয়, নারায়ণগঞ্জে নয়। এমন দাবি বার বার করে আসছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। সেই ধারবাহিকতায় দলের পক্ষে সভা-সমাবেশের কোন কমতি ছিলনা।

এদিকে প্রথম সারির একাধিক জাতীয় দৈনিক সহ কেন্দ্রীয় সূত্র মতে, জাতীয় পার্টি দলটি যদি মহাজোটে থাকে তাহলে ফের আসন বন্টনের চিত্র দেখা যাবে। জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান এমপিদের আসনগুলো ছেড়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সেই হিসেবে এই আসনের এমপি সেলিম ওসমান প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। এছাড়া শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে এই নেতা।

এছাড়া সম্প্রতি জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামীলীগের সংলাপ ইস্যুতে আসন বন্টনের বিষয়টি আরো জোরালো হয়ে স্পষ্ট আকার ধারণ করছে। এতে করে এই আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী দেয়ার বিষটি অনেকটা মিইয়ে যাচ্ছে।

এই আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকায় রয়েছেন বর্তমান এমপি সেলিম ওসমান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান পাওয়া সফল ব্যবসায়ী মো.জয়নাল আবেদীন ও প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের সহধর্মীনি পারভীন ওসমান।

তার বিপরীতে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া ও আব্দুল কাদির, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত ও জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি শুক্কর মাহমুদ।

জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমানের পাশাপাশি এই আসনে পারভীন ওসমান সরব হলে পরে রহস্যজনভাবে চুপসে যান। আর বিতর্কিত নেতা আল জয়নাল কোনভাবেই আলোচনায় উঠে আসতে পারছেনা।

এদিকে আওয়ামীলীগের জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান কোনভাবেই হাল ছাড়তে নারাজ। তিনি বিশাল শো-ডাউন, সভা, সমাবেশ করে রীতিমত চমক দেখিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন। হার না মানা এই তরুণ নেতা একের পর এক সভা-সমাবেশ করে দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে রাখছেন। এতে করে এখনো আশার আলো দেখে যাচ্ছেন এই নৌকার মাঝি।

কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু ও জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি শুক্কর মাহমুদ নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামীলীগের উন্নয়নের নানা চিত্র তুলে ধরে পোস্টারও সাটিয়েছেন আনিসুর রহমান দিপু।

জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া ও আব্দুল কাদির উঠান বৈঠক ও সভা-সমাবেশ করে বেশ আলোচনায় রয়েছে। আর নির্বাচনী প্রচারণ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত বিশাল শোডাউন করে বেশ আলোচনায় রয়েছে। 

আওয়ামীলীগ দলীয় সূত্র বলছে, ‘এই আসনে জাতীয় পার্টি বিগত দুটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সাথে আসন ভাগাভাগিতে এখানে মনোনয়ন পেয়েছে। এবারো সেই পথ ধরে এগোচ্ছে। এতে করে এই আসনে আওয়ামীলীগের নৌকার মাঝিরা প্রার্থী হওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে। তারা অনেকটা নিশ্চিত যে, এই আসনে জাতীয় পার্টি মনোনয়ন পেতে যাচ্ছে। কিন্তু তবুও তারা হাল ছাড়তে চাইছেনা। কারণ রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই। শেষ সময়ে যদি কোন কারণে জাতীয় পার্টিকে মনোনয়ন না দেয়া হয় তাতে করে নৌকার মাঝিরা প্রার্থী হতে পারে। এই আশায় তারা এখনো সরব রয়েছেন।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘যে কোন দলের নেতাকর্মীদের মূলত আওয়ামীলীগের মতই হওয়া উচিত। কারণ শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়া উচিত না। আর তাতে করে মনোনয়ন না পেলেও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসা সম্ভব। এতে করে আম হাত ছাড়া হলেও বস্তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর কোন কারণে বস্তার সাথে আমও পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নৌকার মাঝিরা আম-বস্তা দুটো পাওয়ার আশায় আছে। যেকারণে তারা এখনো হাল ছাড়েনি।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ