‘আমিও প্রার্থী হতে চাই’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৯ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার



‘আমিও প্রার্থী হতে চাই’

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে চলছে হুলুস্থুল কান্ড। কমিটির নেতারা ছাড়াও মনোনয়ন কিনছেন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারাও। টাকার অংক যাই হউক সেদিকে কোন খেয়াল নাই। কিনছেন আর কিনছেন। কেউ কেউ দুই-তিনটিও কিনছেন। এ অবস্থা যখন সরকার দলীয় আওয়ামী লীগের তখন শুরু হয়েছে বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্য।

এই দল দীর্ঘ ১৩ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকলেও তাদেরও কমতি নেই প্রার্থীর। যাকে জনগণ কম চিনে সেও মনোনয়ন আবেদন কিনতে চলে গেছেন ঢাকায়। কিনেও নিয়ে এসেছেন। কোন নিয়মের বালাই না থাকায় এ বেচা-কেনাকে অনেকেই মনে করছেন দলের বাড়তি উপার্জন। যা দলের বৈধ আয় হিসেবে দেখিয়ে জায়েজ করা হচ্ছে।

তবে অন্য দিকে মতও কম নয়। সমালোচকরা বলছেন দলের পেশি শক্তি প্রদর্শনের সময় এখন। একদিকে দল অন্যদিকে প্রার্থীরা উভয়েই শক্তি প্রদর্শন করছেন। এক দল অন্য দলকে বুঝাতে চেষ্টা করছেন কার সমর্থন কত বেশি। কার ঝুলিতে কত পয়সাওয়ালা রয়েছে। এদিকটি বিবেচনা করেই দলগুলো আচরণ বিধি মানতে তেমন কোন উৎসাহ দেখাচ্ছে না। এতে করে দলগুলোর প্রচারণা হয়ে যাচ্ছে বিনা বাধায়।

নারয়ণগঞ্জের ৫ টি আসনে আওয়ামীলীগেরই মনোনয়ন বিক্রি হয়েছে প্রায় এক শ’র কাছাকাছি। আর বিএনপির শুরুর দিনে বিক্রয় হয়েছে কয়েক ডজন। এই ক্রেতাদের মধ্যে এমন প্রার্থীও রয়েছেন যিনি সবে ছাত্রদের কমিটিতে ঢুকেছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাও আছেন। পার্টির বাইরে কোন নাম ডাক নাই এমন প্রার্থীও রয়েছেন। এমন অবস্থা দেখে ১০ সারির নেতারাও মনোনয়ন আবেদন নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কেউ কেউ কিনলেও লজ্জায় বলতে পারছেন না। গোপনে গোপনে নিজের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে বলতে শুরু করেছেন আমিও প্রার্থী হতে চাই।

জানাগেছে, এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের শুরুর পর্যায়ে যারা কিনেছেন তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী, বাবা-ছেলে, দেবর-ভাবীর মত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যেও বিরোধের বীজ ঢুকে গেছে। শুধু তাই নয়, কমিটির সদস্যদের মধ্যেও বিরোধ শুরু হয়েগেছে। যে কেউ মনোনয়ন তোলার হুমকি দিচ্ছে আসল প্রার্থীদের। এতে অবৈধ টাকার ছড়াছড়িও হবে বলে মনে করেন রথিন্দ্র নাথ।

এই ভোটার মনে করেন, সবাইতো আর নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন কিনেনি, কেউ কেউ কিনেছে টাকা কামানোর জন্য। আসল প্রার্থীকে ব্লাকমেইল করার জন্য এই আয়োজন। আবার কেউ কেউ দাড়িয়েছ প্রার্থীর ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। কেন্দ্রে বৈধ লোক বাড়াতে এই আয়োজন।

শান্ত মনে করেন, ভুয়া প্রার্থীর ভীড়ে আসল প্রার্থী হারিয়ে যেতে বসেছে। শিক্ষা নাই এমন প্রার্থীও মনোনয়ন কিনেছেন আসল প্রার্থীকে সাইজ করার জন্য। যাতে আসল প্রার্থী তাকে মূল্যায়ন করে দাবি মেটায়।

এমন অবস্থা সবকটি আসনে এবং সব দলগুলোতে দেখা গেছে। তবে এর পরিণাম কী হয় তা এখনো বলা যাচ্ছে না। আসল প্রার্থীদের জন্য যে আরো একটি চ্যালেঞ্জ বাড়লো তা হলফ করে বলা যায়।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ইতোমধ্যে বর্তমান সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজীর সাথে কায়েকপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকের মধ্যে আগে থেকেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীতা বিরাজমান আছে। নতুন করে এই আসনে জেলা আওয়ামীলীগে সভাপতি আব্দুল হাই, বাংলাদেশ সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ বীরউত্তম ও রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূঁইয়া নতুন করে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছে। এ আসনে ৩১ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুর পাশাপাশি নৌকার মাঝি হতে চান কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল পারভেজ ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এমদাদুল হক ভূইয়া ও ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মমতাজ হোসেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে মাঠে কাজ করছেন সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাত এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিনা আক্তার, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা এএইচ এম মাসুদ দুলাল, অর্থনীতিবিদ আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া, শিল্পপতি বজলুর রহমান ও লন্ডন প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম। এই আসনের প্রায় কয়েক হালি মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এ কে এম শামীম ওসমান এবারও প্রার্থী হবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগের শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ মনোনয়ন চাইবেন বলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া দলছুট নেতা খ্যাত কামাল মৃধা আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে কিছুদিন হাকডাক করে মিইয়ে গেছেন। এই আসনের চরম নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে নতুন করে জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদলের পত্মী নাহিদা বেগম মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছে।

অপরদিকে নারীদের অবস্থা আরো শক্তিশালী। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগেরই নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে ৬জন নারী মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদা মালা, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদ বাদলের পত্মী নাহিদা বেগম, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলী, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিনা আক্তার, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী প্রফেসর শিরিন বেগম ও সোনারগাঁও মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও