বিএনপিতে সংস্কারপন্থীদের সাথে মূলধারার লড়াই

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৫৫ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার



বিএনপিতে সংস্কারপন্থীদের সাথে মূলধারার লড়াই

সারাদেশেই বইছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় মনোনয়নের আশায় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা শুরু করেছেন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার প্রথম দিকে বিএনপি পিছিয়ে থাকলেও পরর্বতীতে তারাও মনোনয় ফরম বিক্রি করা শুরু করে। আর এতে করে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও মনোনয়নের দৌড়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন।

যার ধারাবাহিকতায় এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনেও বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন। তবে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপি দলীয় মনোনয়নের জন্য বিএনপির মূলধারার সাথে সংস্কাপন্থীদের লড়াই হবে। এই লড়াইয়ে মূলধারার জয় হবে নাকি সংস্কারপন্থীদের জয় হবে সেটাই এখন লক্ষণীয় বিষয়।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। একই সাথে মনোনয়পত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করেছেন ২৮ নভেম্বর।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকেই বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে নানা সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল। সর্বশেষ গত ১১ নভেম্বর দলটির কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তারা এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। সে সিদ্ধান্তের আলোকে তারা সোমবার থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা শুরু করেছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অলিউর রহমান আপেল।

এসকল মনোনয়ন প্রত্যশীদের মধ্যে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম। আর বাকী সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীরাই মূলধারার রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। ফলে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে সংস্কারপন্থীদের সাথে মূলধারার লড়াই হবে।

জানা যায়, ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপির অধ্যাপক রেজাউল করিম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রেজাউল করিম বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। এক-এগারোর (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতাগ্রহণ) সময় দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপির সংস্কারপন্থী নেতাদের দলে নাম লেখান।

এরপর নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ার আশঙ্কায় দীর্ঘদিন তাঁকে এলাকায় আসতে দেখা যায়নি। নির্বাচনকে ঘিরে মাঝেমধ্যে এলাকায় আসতে দেখা গেলেও রাজনীতিতে একেবারেই নিস্ক্রিয়। এ ছাড়া বয়সের ভারে এবং অসুস্থতার কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়েছেন তিনি। বিএনপির নেতাকর্মীরা যেখানে সরকারের ‘হামলা-মামলায়’ জর্জরিত, সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে খুব কমই মামলা হয়েছে। তারপরেও দলীয় মনোনয়নের আশায় রেজাউল করিম আগামী নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও