বিএনপিতে অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্যের লড়াই

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৫৬ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার



বিএনপিতে অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্যের লড়াই

সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) সংসদীয় এলাকার ভোটারদের মাঝেও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। বিশেষ করে প্রায় ১০ বছর পর বিএনপির নির্বাচনে আসায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝেও উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় অনেকেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা শুরু করেছেন। তবে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্যের লড়াই হবে।

নির্বাচন কমিশন আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। একই সাথে মনোনয়পত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করেছেন ২৮ নভেম্বর।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকেই বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে নানা সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল। সর্বশেষ গত ১১ নভেম্বর দলটির কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তারা এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। সে সিদ্ধান্তের আলোকে তারা সোমবার থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা শুরু করেছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। যিনি বর্তমানে নাশকতা মামলা কারাগারে আটক রয়েছেন। এছাড়া মনোনয়ন পত্র নিয়েছেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি শাহআলম।

ফলে এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে অভিজ্ঞতার আর তারুণ্যের লড়াই পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে কে জয়ী হতে পারেন সেটা আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকাশ হয়ে যাবে।

সংসদীয় এলাকা সূত্রে জানা যায়, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেসময় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নদী দখল, ভূমি দখল, দলীয় কর্মীদের হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনের কিছুদিন আগে তিনি কৃষকলীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। এর আগে তিনি জাতীয় পার্টি করতেন। বারবার দল বদলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া বিগত দিনে বিএনপি ঘোষিত কোনো আন্দোলন কর্মসূচিতে রাজপথে তার তেমন কোন ভূমিকা রাখতে দেখা যাননি। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও একের পর এক বিতর্কিত কাজ করে তিনি নেতাকর্মীদের কাছে শ্রশ্নবিদ্ধ। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার শুরু থেকেই সংসদীয় এলাকায় তিনি সরব হয়েছেন। সংসদ সদস্য হিসেবেও তার দক্ষতা রয়েছে। সে হিসেবে আগামী নির্বাচনেও তার দলীয় মনোয়ন পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অপরদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বয়সে তরুণ রয়েছেন। সাংগঠনিক দক্ষতা ও আন্দোলন সংগ্রামে ধারাবাহিক ভূমিকা পালনের কারণে ছাত্রদলের তৃণমূল থেকে ক্রমান্বয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ লাভ করেছেন। দলের উচ্চ পর্যায়েও তার সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের কথা জানা রয়েছে। একই সাথে সরকারী দলের রোষানলেরও শিকার হয়েছেন কয়েকবার। বর্তমানে তিনি নাশকতা মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন। এর আগেও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরেও তিনি কারাবরণ করেছিলেন। ফলে তার ক্ষেত্রেও দলীয় হাইকমান্ডের নজর রয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও