কালামকে টপকাতে চান সাখাওয়াত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৭ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ শুক্রবার



কালামকে টপকাতে চান সাখাওয়াত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশেই বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ। যার সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) এলাকা নির্বাচনী আলাপ আলোচনায় সরব হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা শুরু করেছেন। যাদের মধ্যে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও রয়েছেন। এবারের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামকে টপকাতে চান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

দলীয় সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শুরুতে বিএনপির অংশগ্রহণের বিষয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত গত ১১ নভেম্বর দলটির কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তারা এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এর আগের সংসদ নির্বাচনেও তারা বয়কট করেছিল। কিন্তু এবার আর তারা সেই পথে হাটতে চান না। আর সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই তফসিল ঘোষণার পর ১২ নভেম্বর থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা শুরু করেছে।

এদিকে গত ৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন। সেই তফসিল অনুযাীয় আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বললেও নির্বাচন কমিশন সেই সময় পিছিয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। একই সাথে মনোনয়পত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করেছেন ২৮ নভেম্বর।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ এই আসনের সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং ২য় দিন কারাগার থেকে নেতাকর্মীদের দিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন মহানগর বিএপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তার লক্ষ্য হচ্ছে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে কালামকে টপকিয়ে দেয়া।

জানা যায়, ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী এস এম আকরামের কাছে পরাজিত হন। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিম ওসমান। ওই নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে নাসিম ওসমান পেয়েছিলেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৯৭ ভোট। অপরদিকে বিএনপির অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩৬ ভোট।

এদিকে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সংস্কারপন্থী দলে যোগ দিয়েছিলেন। যে কারণে তৎকালীন সময় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিল বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। বর্তমান সময়ে দলীয় কর্মকান্ডে একেবারেই দেখা মিলছিলনা মহানগরের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের। তবে একাদশ জাতীয় সংষদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি দলের চাপ কমে যাওয়ায় তিনি সংসদীয় এলাকায় সরব হয়ে উঠার চেষ্টা করছেন। একই সাথে বিএনপি দলীয় মনোনয়নও সংগ্রহ করেছেন।

অন্যদিকে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে অন্যদের চেয়ে সক্রিয় ছিলেন। জেলা আইনজীবী সমিতির নেতা থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। এর পর পরই ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে তিনি বিএনপি দলীয় প্রার্থী হন। সেই ধারাবাহিতায় এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হতে চান। সেই লক্ষ্যে সাখাওয়াত হোসেন নির্বাচনী এলাকাতেও সরব হয়ে উঠেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা থাকায় কারাবরণও করেছেন কয়েকবার। বর্তমানেও তিনি নাশকতা মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও