না.গঞ্জে নির্বাচনী যুদ্ধে আ.লীগ বিএনপি জাপা সহ ১২দলের প্রার্থীরা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৩ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ শুক্রবার



না.গঞ্জে নির্বাচনী যুদ্ধে আ.লীগ বিএনপি জাপা সহ ১২দলের প্রার্থীরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পরে বড় তিনটি রাজনৈতিক দলে শুরু হয়েছে মনোনয়ন যুদ্ধ। ইতিমধ্যে দু’টি প্রধান রাজনৈতিক জোটের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের হিড়িক পড়েছে। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা ছাড়িয়েছে শতাধিক। মনোনয়ন যুদ্ধ চলছে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টিতেও। তবে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী যুদ্ধে অদ্যাবধি সক্রিয় রয়েছে ইসলামী আন্দোলন, জাকের পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, জাসদ, বাসদ, সিপিবি, কৃষক শ্রমিক জনতালীগ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)। অদ্যাবধি তৎপরতা দেখা যায়নি নিবন্ধিত ২৭ টি রাজনৈতিক দলের কোন প্রার্থীর। তবে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত কয়েকটি রাজনৈতিক দল রয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট ও মহাজোটের সমীকরণের অপেক্ষায়।

জানা গেছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৩৯টি। নিবন্ধন বাতিল হয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ফ্রিডম পার্টি ও ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের। অপরদিকে অনিবন্ধিত দল রয়েছে ২৩টির ন্যায়। তবে এর বাহিরেও অনেকগুলো রাজনৈতিক দল রয়েছে যেগুলো নিবন্ধনের জন্য আবেদনও করেনি। এছাড়া নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিয়ে রয়েছে একাধিক জোট। এগুলো হলো চৌদ্দ দলীয় জোট, বিশ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, সম্মিলিত জাতীয় জোট, যুক্তফ্রন্ট, বাম গণতান্ত্রিক জোট। এর মধ্যে সম্প্রতি বিশ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোট হয়েছে। নিবন্ধিত যে ৩৯টি দল রয়েছে তার মধ্যে ১২টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নারায়ণগঞ্জে সক্রিয় রয়েছে। এই ১২টি দল হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাকের পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)। নিবন্ধিত যে ২৭ টি দলের কোন প্রার্থীকে এখন পর্যন্ত তেমন একটা সক্রিয় দেখা যায়নি তারা হলো বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) (বড়–য়া), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (মোজাফফর), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, গণতন্ত্রী পার্টি, প্রগ্রেসিভ ডেমোক্রেটিক পার্টি-পিডিপি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ), বাংলাদেশ ফ্রিডম পার্টি (নিবন্ধন বাতিল), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (নিবন্ধন বাতিল), ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন।

অপরদিকে অনিবন্ধিত ২৩টি দল হলো, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম, গণসংহতি আন্দোলন ( জোনায়েদ সাকী, শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) (উমর), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (সাঈদ), জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), ডেমোক্রেটিক লীগ (অলি আহাদ), পিপলস লীগ, ন্যাপ ভাসানী, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি(এনডিপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ইসলামিক পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ হিন্দু লীগ, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ জনকল্যাণ পার্টি(বিজেকেপি), বাংলাদেশ জনতা সংঘ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরেই চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি ও বিরোধী দল বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপত্র বিক্রি। তবে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের যেন হিড়িক পড়েছে। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসন থেকে অদ্যাবধি আওয়ামীলীগ ৬৭ জন ও বিএনপির ৪২ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। এর আগে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে কখনোই এত প্রার্থীকে দলীয় নমিনেশন ফরম ক্রয় করতে দেখা যায়নি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন একাধিক। নির্বাচন অফিস থেকে বিএনপির কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও অদ্যাবধি আওয়ামীলীগ কিংবা জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থীকে নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করতে দেখা যায়না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) দীর্ঘদিন পূর্বেই ৫টি আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছেন। ইতিমধ্যে ইসলামী আন্দোলনের ৫ জন প্রার্থীই নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। জাকের পার্টি ৪টি আসন থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে একটি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি পাঁচটি আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও অদ্যাবধি তাদের কেউই নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেনি। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এর কয়েকজন প্রার্থীতার ঘোষণা দিলেও তারা ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমীকরণের অপেক্ষায় রয়েছেন। এদিকে অনিবন্ধিত কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমীকরণের অপেক্ষায় রয়েছেন। যাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে আলোচিত নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী। তবে মহাজোট কিংবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমীকরণ যাই হোক না কেন সেটা পরিস্কার হবে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও