আওয়ামী লীগ-বিএনপির বঞ্চিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৫ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ শুক্রবার



ছবিগুলো আসন কেন্দ্রীক সাজানো।
ছবিগুলো আসন কেন্দ্রীক সাজানো।

নারায়ণগঞ্জের সংসদীয় ৫টি আসনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাতীয়পার্টির দলীয় মনোনয়ন পেতে একাধিক প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছেন। এদের মধ্যে এখন চলছে চরম স্নায়ুযুদ্ধ। সবাই এক যোগে ধরণা দিচ্ছেন কেন্দ্রে। খুঁজে খুঁজে নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। লবিং-গ্রুপিং কোনটাই বাদ দিচ্ছেন না।

বিএনপি-আওয়ামী লীগ দুটি দলের প্রার্থীদের কাছে এখন স্বপ্ন সংসদ সদস্য হওয়া। এই দুটি দলের প্রার্থীরা মনে করছেন দলের টিকিট পেলে নিশ্চিত সংসদ সদস্য। এবার মার্কা পেলে কলাগাছও জিতে যাবে। প্রার্থী দেখবে না ভোটাররা। ভোটাররা দেখবে মার্কা। সমান বিশ্বাস দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যেই। তবে দলের মনোনয়ন না পেলে কী করবেন এমন প্রশ্নের একটাই উত্তর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে থাকবো। ভোটের লড়াইয়ে জিতবেন কী না সে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না তারা। তাদের উত্তর যাই হউক। দলীয় বঞ্চিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে থাকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাই অন্য সময়ের চেয়ে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা বাড়বে বলে মনে করেন ভোটাররা।

তাদের দাবি গত ১০ বছর একই সংসদ সদস্য থাকার আসন গুলোতে কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রূপগঞ্জের নারায়ণগঞ্জ-১ আসন, আড়াইহাজারের নারায়ণগঞ্জ-২ আসন। সেখানে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রূপগঞ্জ আসনে। ব্যবসায়ী গোলাম দস্তাগীর গাজীকে মনোনয়ন না দিতে অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন। অন্য কোন বিরোধ নয় একটাই বিরোধ গাজী বয়কট। তাকে বাদ দেয়ার জন্য মনোনয়ন লড়াই থেকে ভোটের মাঠে পর্যন্ত লড়বে। এর পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে গাজী। তিনি নিজে মনোনয়ন না পেলে বিরোধীদের হারাতে একাধিক প্রার্থী মাঠে রেখেছেন। এই দৌড়ে গাজী বিরোধীরা রেখেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইকে। সর্বশেষ এ ময়দানে নতুন নাম এসেছে জাতীয় পার্টি থেকে জেনারেল এরশাদ।

অপরদিকে জেলার জাতীয় পার্টির দখলে থাকা দুটি আসনেও একই অবস্থা। সেখানে নৌকা প্রার্থীরা আর জাতীয় পার্টিকে চায় না। যে কোন ভাবেই হউক তারা নৌকা প্রার্থী দাবি করছে দলীয় হাই কমান্ডে। তা না হলে তারা জাতীয় পার্টিকে হারাতে একাট্টা হয়ে ভোটের মাঠে থাকবেন। সেই লড়াইয়ে অনেক নতুন প্রার্থী সুযোগ নিবেন। যারা জিততে নয় পরিচয় হতে চায় ভোটারদের মাঝে। এর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে শহর-বন্দর আসান নারায়ণগঞ্জ-৫। এই আসনটিতে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি তথা ওসমান পরিবারকে ছাড় দিয়ে আসছে। এখানকার আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পায় না। তাই এবার তারা শেষ দেখার সুযোগ চায়। তারা দলীয় মনোনয়ন না পেলেও জাতীয় পার্টি হটাতে একজোট হয়েছে। আবার অনেকে দলীয় মনোনয়ন হারিয়ে পরিচিতির জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ হারাতে চান না।

অপরদিকে বিএনপির ঘরের অবস্থা নড়বড়ে। দলটি দীর্ঘ ১২ বছর ক্ষমতার বাইরে। মাঝের একটি সংসদ নির্বাচন বয়কট করায় দলের মধ্যে প্রার্থী চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। আন্দোলনে থাকা না থাকার প্রার্থী, সংস্কারবাদীদের প্রার্থী করার ক্ষেত্রে বিরোধ, নির্যাতিত প্রার্থী ইত্যাদী কারনে এবার এই দলে প্রার্থীর সংখ্যা অন্যান্য সকল সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। তাই এই বিরোধের জেরে দলটিতে বিদ্রোহীর সংখ্যা বাড়বে যা পরিনত হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত বিদ্রহীদের কতটা সামলিয়ে উঠতে পারে দল এবং প্রার্থীরা তা দেখতে অপক্ষে করতে হবে কিছুটা সময়। তবে এই বিদ্রহীদের উপর নির্ভর করবে আসন গুলো ভবিষ্যৎ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও