শফিকুলে ছিটকে পড়বে গিয়াস শাহআলম!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৪ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ শুক্রবার



শফিকুলে ছিটকে পড়বে গিয়াস শাহআলম!

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে একের পর নাটকীয়তার দেখা যাচ্ছে। এখানে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান হওয়ার ফলে এই অসন নিয়ে সবার মাঝেই এক ধরণের উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে তার আসনে বিরোধী দল বিএনপির থেকে কে মনোনয়ন পেতে যাচ্ছে তা নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে।

তবে সকল গুঞ্জন ছাপিয়ে বিএনপি দলটির শরীক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় সংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সভাপতি সফিকুল ইসলাম দেলোয়ার এ আসনে গ্রীন সিগন্যাল পেতে যাচ্ছে। এতে করে বিএনপি দলটির হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন ও জেলা বিএনপি সহ সভাপতি শাহ আলমের কপাল পুড়তে যাচ্ছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে তীব্র বিরোধীতা দেখা যাচ্ছে। আর তা নিয়ে প্রতিযোগিতাও কম হচ্ছেনা। একদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ উন্নয়নে ফিরিস্তি তুলে ধরে ফের ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। সেই লক্ষ্যে প্রতিটি আসনে শক্তিশালী প্রার্থী দিতে চাইছে।

অন্যদিকে বিএনপি দলটি দীর্ঘ ৯ বছর পর ফের ক্ষমতার স্বাদ পেতে দলের মধ্যেকার যোগ্য প্রার্থীদের বাছাইয়ের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। তবে এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের শরীক দলদের সাথে ঐক্যে যাওয়ার কারণে আসন ভাগাভাগির মত বিষয় রয়েছে। এতে করে অনেকগুলো আসনে বিএনপি দলটিতে ছাড় দিতে হবে। শরীক দলগুলোকে ঐক্যে রাখতে হলে এটুকু ছাড় তাদের দিতে হবে। যেকারণে বিএনপি দলটির শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। আর সেই সমীকরণের হিসেবে বিএনপির সাবেক সাংসদ গিয়সউদ্দিন ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি শাহ আলমের কপাল পুড়তে পারে।

এর মধ্যে বিএনপি দলটির মধ্যে দলের মধ্যেকার আসন ভাগাভাগি সহ নিজ দলের মধ্যেকার মনোনয়ন প্রার্থী চূড়ান্ত করনের লক্ষ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্ট দলগুলো প্রাথীরা ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবে এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। আর ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে আসন বন্টনের বিষয়টিতে নানা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এতে করে নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি আসন অনেক আগে থেকেই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে আছে। এবার যদি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটিও বিএনপি শরীক দলের কাছে আসন বন্টনে পড়ে যায় তাতে করে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫ দুটো আসনেই বিএনপি দলটির শরীক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী দেয়া হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিএনপি দলটির সাথে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সহ শরীক অন্য দলগুলোর সাথে আসন বন্টন নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে।

এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, ‘নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এই দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সভাপতি সফিকুল ইসলাম দেলোয়ারকে মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে জোড়ালো দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে বিএনপি দলটির সাথে কথা চলছে। আর মনোনয়নের তালিকায় থাকা এই নেতা গ্রীন সিগন্যাল পেতে যাচ্ছে। আর এই নেতার গ্রীন সিগন্যালের বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত করছে কেন্দ্রীয় সূত্র।’

এতে করে এই আসনে বিএনপি দলটিতে থাকা সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি শাহ আলমের মনোনয়নের পথ অনেকটা কঠিন হয়ে যাবে। কারণ আসন বন্টনের জালে আটকা পড়লে এই দুজন নেতার কপাল পুড়বে। এতে করে যোগ্যতা নয় আসন বন্টনের কারণে এই দুজন নেতাকে বাদ পড়তে হবে।

বিএনপি দলটিতে এ দুজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাড়াও রয়েছে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, জেলা যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘আওয়ামীলীগের সাংসদ শামীম ওসমানের আসনে যদি বিএনপি শক্তিশালী প্রার্থীদের না দিয়ে দুর্বল প্রার্থী দেয়া হয় তাতে করে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট দলটিকে এই আসনে জয়ের আশা বাদ দিতে হবে। কারণ এই আসনে যোগ্যতার দিকে দিয়ে সাবেক বিএনপি সাংসদ গিয়াসউদ্দিন ২০০১ সালে এমপি শামীম ওসমানকে ভোটের লড়াইয়ে পরাজিত করে রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সেই লড়াকু বিএনপি সৈনিককে মাঠের বাইরে রেখে দুর্বল প্রার্থীকে খেলায় অংশগ্রহণ করালে পরাজয় বরণ করা ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও