বন্দুকের গুলির বারুদ তৈরি : শামীম ওসমান

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০২:১৬ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার



বন্দুকের গুলির বারুদ তৈরি : শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, মাদক ব্যবসায়ী ইবলিশ শয়তানের চেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর। এখনো সময় আছে ভাল হয়ে যান নতুবা পুলিশের বন্দুকের গুলির বারুদ তৈরি হয়ে আছে। মাদক ব্যবসায়ী আমার দলের হলেও ছাড় পাবে না। সন্ত্রাস মাদক ব্যবসায়ী হলে আমার দরকার নাই। খারাপ লোক নিয়ে আমি রাজনীতি করতে চাই না। খারাপ লোক একশ না হয়ে ১০ জন ভাল মানুষ আমার দরকার।

শামীম ওসমান বলেছেন, ২০০১ সালে নির্বাচনের পর নির্বাচনে আমার নারী পোলিং এজেন্ট হওয়ার অপরাধে বিএনপির লোকজন ধর্ষণ করেছিল। আমার অনেক নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছে এবং হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও আমার ভাই হওয়ার অপরাধে সেলিম ওসমানের ফ্যাক্টরীতে হামলা করা হয়েছিল। খামারের গরুর বান কেটে ফেলা হয়েছিল। এমনকি আমার বাড়ি হীরা মহলে আগুন দেয়া হয়েছিল। ঐ সময় আমার দলের অনেক নেতাকর্মীদের উপর অনেক অত্যাচার নির্যাতন করেছিল। তাদের অত্যাচারে নেতাকর্মীরা বাড়িতে থাকতে পারেনি। তার পরও আমি বিএনপির কাউকে কিছু বলিনি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সরকার আমলে বিএনপির লোকজন শান্তিতে বসবাস করছে এবং এলাকায় ব্যবসা বাণিজ্য করছে। তারা যদি অতীতের মত কর্মকান্ড করে তাহলে কোন ছাড় দেয়া হবে না। এমন কিছু করার চিন্তা করবেন না। ভোটের সময় ভোট চাইবেন কোন সমস্যা নাই। বিএনপির অনেকে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছে। উল্টা পাল্টা চিন্তা মাথায় আনবেন না।

শামীম ওসমান বলেন, ‘আমরা কিন্তু বিএনপির কাউকে একটা ফুলের টোক্কা দেই নাই। কারো সাথে খারাপ আচরন করেনি বরং বিএনপির লোক নিয়ে কাজ করেছি। বিএনপির চেয়ারম্যান আমার সাথে মিলে মিশে কাজ করে গেছেন। তার পরও যদি ভিন্ন চিন্তা করবেন না। পুরনো কথা মনে করাবেন না। পুরনো বুকের জ্বালা তুলবেন না। যদি পুরনো জ্বালা বুকে তুলে দেন তাহলে পরিণতি ভাল হবে না। আমার কাছে খবর আছে অস্ত্র কিনার জন্য চেষ্টা করছেন। এমন কিছু কইরেন না, জনগন আপনাদের ছাড় দিবে না। তখন কিন্তু আমাকে দায়ী করতে পারবেন না।’

ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘ভোট দেয়ার অধিকার আপনাদের। সিদ্ধান্ত আপনাদের নিতে হবে। কাজ বিবেচনা করে ভোট দিবেন। যে আপনাদের এবং নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করেছেন, তাকে নির্বাচিত করবেন। আর মনে রাখবেন, আমি টাকা ছিটিয়ে নির্বাচন করব না। তাতে যদি আমাকে ভোট না দেন, তাহলে আমার কিন্তু লোকশান নেই। কারণ টাকার জন্য যদি অন্য কাউকে নির্বাচিত করেন, তাহলে সে নির্বাচন পর্যন্ত সব মিলিয়ে হয়তো ১০ কোটি টাকা খরচ করলো, কিন্তু নির্বাচিত হয়ে ওই ১০ কোটির পরিবর্তে ২০০ কোটি টাকা কামাবে।’

শনিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পাইলট স্কুল মাঠে একাদশ নির্বাচন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহমেদ লিটনের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারন সম্পাদক এম শওকত আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সানাউল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, ফতুল্লা পাইলট স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এম এ আউয়াল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এম এ মান্নান, থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসির আলী, সাধারণ সম্পাদক রেহান শরীফ, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদ, থানা আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম প্রধান, প্রমুখ।
আলোচনা শেষে ফতুল্লার দাপা  ইদ্রাকপুর’সহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে দোয়া প্রার্থনা করেন সাংসদ শামীম ওসমান।

শামীম ওসমান আরো বলেন, আমি টাকা দিয়ে এবং মানুষকে ধোকা দিয়ে ধান্ধাবাজি করে নির্বাচনে ভোট চাইবো না। আমি অভয় দিচ্ছি, না বুঝে কাউকে সমর্থন করবেন না। নির্বাচন আসছে অনেকেই এসে নাটক করবে, মসজিদ মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ টাকা অনুদান করবে। কিন্তু আমি বলছি কারো ধোকাবাজিতে পা দিবেন না। মনে রাখবেন আপনার এলাকার জনপ্রতিনিধি ভুল ব্যক্তি হলে সমাজ নষ্ট হয়ে যাবে এবং উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাবে। সন্ত্রাস চাঁদাবাজি বেড়ে যাবে। দেখেন আমার দলের এমপি (সারাহ বেগম কবরী) মসজিদের টাকা খেয়ে ফেলছে। আওয়ামীলীগ হলে যে কেউ ভাল হবে তা আমি বলতে পারবো না।

আলোচনা শেষে ফতুল্লা ইউনিয়নের ১, ২, ৩ নং ওয়ার্ড এলাকায় গণসংযোগ করেন শামীম ওসমান। তিনি প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী-পুরুষের সাথে কুশল বিনিময় করে নৌকায় ভোট প্রার্থনা করেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও