৩ আসনে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী ঘোষণা : বিএনপির ভরসা আকরামে!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১৮ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার



৩ আসনে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী ঘোষণা : বিএনপির ভরসা আকরামে!

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের থাকা বিএনপি দলটির শরীক দল নাগরিক ঐক্যফ্রন্টের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ এস এম আকরামকে নিয়ে আলোচনা গুঞ্জনের অন্ত নেই। এদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি দলটি হামলা, মামলায় জর্জরিত হয়ে বেশ বেকায়দায় আছে। অন্যদিকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা আকরামের বিশাল একনিষ্ঠ কর্মী বাহিনীর ফলে বিএনপি দলের নেতাকর্মীরা তার উপর ভরসা করতে শুরু করেছে। নানা কারণে এই নেতা আওয়ামীলীগ দল ত্যাগ করলেও পুরো জেলায় এক সময় ছিল তার কর্তৃত্ব; যেকারণে দলের একনিষ্ঠ কর্মীরা এখনো তার এক ডাকে হুমড়ে পড়বে। এতে করে বিএনপি দলটির তার উপর আস্থা রাখতে শুরু করেছে। আর সবশেষ নাগরিক ঐক্যও জানিয়েছে তারা ধানের শীষ নিয়ে লড়বেন।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৫টি আসন থেকে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে নাগরিক ঐক্য। শনিবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তালিকা ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ফাতেমা ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এস এম আকরাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মো. আবু হানিফ হৃদয়।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি দলটি নানা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। গত ৭ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন ধার্য্য করে। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকা বিএনপি সহ সবগুলো দল ১ মাস ভোট পেছানোর দাবি করেন। এতে নির্বাচন কমিশন পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে। আর সেই তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ নভেম্বর মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ তারিখ, ২ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই ও ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। মাত্র ৭ দিন ভোটের সময় পেছানো হলে এটা খুবই স্বল্প সময় বলে মনে করছেন বিএনপি দলটি। এতে করে পুরো উদ্যোমে অনেকটা জোরেশোরেই চলছে প্রস্তুতি। তবে বিএনপি দলটি ফের ক্ষমতার স্বাদ পেতে দলের মধ্যে থেকে যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করতে চাইছে। আর তা নিয়ে চলছে চুল চেরা বিশ্লেষণ।

ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি ও নাগরিক ঐক্য সহ আরো ৩টি দল যুক্ত হয়েছে। এই দলগুলো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়। এতে করে দলের বিএনপির শরীক দলগুলোর সাথে আসন ভাগাভাগি করতে হবে। সেই আসন ভাগাভাগির হিসেবে নাগরিক ঐক্যও রয়েছে। তবে এই দলটির নিবন্ধন না থাকায় ধানের শীর্ষ কিংবা অন্য কোন প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

জানা গেছে, আওয়ামীলীগের লড়াকু সৈনিকের মধ্যে জনপ্রিয় মুখ এস এম আকরাম। তিনি ১৯৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর ) আসন থেকে আওয়ামীলীগের টিকেটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে সততা, নিষ্ঠার কারণে দলের কর্মীদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ইম্যোজ তৈরি করে এই নেতা বেশ জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছেন। যেকারণে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে এই নেতার নাম মনোনয়ন তালিকায় উঠে আসছে। তবে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট সরকার গঠনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েও দলীয় নির্দেশে তাকে সরে দাঁড়াতে হয়। এরপর ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের নানা নাটকীয়তার কারণে তিনি রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে শামীম ওসমানকে সমর্থন দিলেও জেলা আওয়ামীলীগের হিসেবে তার সমর্থন ছিল মেয়র নির্বাচিত হওয়া আইভীর প্রতি। ওই নির্বাচনের পরদিনই আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকদের প্রতি বিরাগভাজন হয়ে আওয়ামীলীগ থেকে সরে দাড়ান এস এম আকরাম। যোগ দেন মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যে।

এদিকে ২০১৪ সালের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে লড়েন এস এম আকরাম। যদিও ওই নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের কোন প্রার্থী অংশ না নেয়ায় সেলিম ওসমান হয়ে পড়েছিলেন সর্বদলীয় প্রার্থী। কারণ ওই নির্বাচনে সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করতে দেখা গিয়েছিল অনেক বিএনপি নেতাকে। আর যেসকল কেন্দ্রে জাতীয় পার্টি তথা আওয়ামীলীগের প্রার্থীও কখনো পাশ করতে পারেননি সেখানে সেলিম ওসমান জয়ী হয়েছিলেন। অর্থাৎ বিএনপির ভোটব্যাংক খ্যাত কেন্দ্রে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন সেলিম ওসমান। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন এসএম আকরাম। ওই নির্বাচনে এস এম আকরাম ৬৬ হাজার ১১৪ ভোট পেয়েছিলেন। অথচ ওই নির্বাচনে সেলিম ওসমান সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়েও পেয়েছিলেন ৮২ হাজার ৮৫৬ ভোট।

বিএনপি দলটি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা পুলিশি হামলা, মামলা, জেল, জুলুমের ফলে কোনঠাসা হয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এমনকি নেতাকর্মীরাও বাদ পড়েনি। এছাড়া ঐক্য জোটের কারণে অবশ্যই আসন ভাগাভাগির পরিকল্পনা থাকবে। আর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় ঐক্য জোটের মধ্যে বিএনপি ও নাগরিক ঐক্যের নেতা ছাড়া আর কোন প্রার্থী নেই। এর মধ্যে বিএনপি দলটি প্রথম থেকেই বেকায়দায় রয়েছে। তাছাড়া এই আসনটিতে বিএনপি প্রার্থীর চেয়েও নাগরিক ঐক্যের এস এম আকরামের জনপ্রিয়তা বেশি। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই নেতা তাদের মনোনয়নের তালিকাতে রয়েছে। এতে করে তার জনপ্রিয়তার বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট।

একাধিক সূত্র বলছে, ‘আওয়ামীলীগ দল ত্যাগ করা নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম বেশ জনপ্রিয়তার কুড়িয়েছেন। যেকারণে এই নেতার উপর আস্থার রাখতে শুরু করেছে বিএনপি দলটি। এদিকে সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্টের মিটিংগুলোতে এই নেতাকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী করার বিষয়টি অনেকট নিশ্চিত হয়ে আছে। এ নিয়ে যত আলাপ-আলোচনা হচ্ছে এই নেতার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি তত নিশ্চিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘জনপ্রিয়তা কুড়ানো হেভিওয়েট নেতা হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের উপদেষ্টা এস এম আকরামের উপর বিএনপি দলটি ভরসা করতে শুরু করেছে। আওয়ামীলীগ ত্যাগ করেও সরকার দলীয় গোয়েন্দা সংস্থার মনোনয়ন তালিকাতে এই নেতার নাম উঠে আসছে। তাছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও ক্ষমতাসীনদের ভীত কাপিয়ে দিয়েছিলেন। যেকারণে বিএনপি দলটির যদি সমর্থন এই নেতাকে দেয়া হয় তবে নির্বাচনে কঠিন পথও সুগম করতে পারবে এই নেতা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও