গাজীর মর্যাদার লড়াই, হাই রফিকের অস্তিত্বের

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৫ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার



গাজীর মর্যাদার লড়াই, হাই রফিকের অস্তিত্বের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-১ আসন এখন টালামাটাল। মনোনয়ন প্রাপ্তি বর্তমান এমপি গাজীর জন্য মর্যাদার লড়াই। আর অস্তিত্বের প্রশ্ন রফিকুল ইসলাম ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের। ফলে দিন দিন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সমীকরণ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এখানকার আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কয়েকটিভাগে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয় যাচ্ছেন। নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই দেখা দিয়েছে বহু কোন্দল-উপকোন্দল। তার সূত্র ধরে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই কোন্দলের সুযোগ নিতে পারে জাতীয় পার্টি।

ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

১৫ নভেম্বর এরশাদের যুব বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া এ মনোনয়নপত্রটি সংগ্রহ করেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমান এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী। আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই। জনপ্রতিনিধি হওয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া ও কায়েতপাড়ার চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের কোন সুযোগ নেই।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের সাথে জাতীয় পার্টির জোট থেকে যাচ্ছে। সে হিসেবে জাতীয় পার্টিও তাদের প্রত্যাশিত আসনের তালিকা তৈরি করছে। তবে দলীয় প্রর্থী নির্ধারণ করার ব্যপারে আওয়ামীলীগের শরিকদলগুলোর প্রথম টার্গেট হচ্ছে আওয়ামীলীগের কোন্দলপূর্ণ এলাকা। সে হিসেবে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দলের কারণে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনটি তাদের টার্গেটে পরার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে বলছে, প্রায় দুই যুগ ধরে কোন্দলে জর্জরিত জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ। আর এ কোন্দল এখন আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গসংগঠনের ভিতরেও। ছড়িয়ে পড়েছে থানা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগেও। ৮০ দশকের পর থেকে এ কোন্দল বেড়েই চলছে। কোন্দলের এই ঝড়ে বঙ্গবন্ধুর অনেক ত্যাগী সৈনিক অকালে ঝড়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) সংসদীয় এলাকায় আওয়ামীলীগই এখন আওয়ামীলীগের শত্রু হিসেবে পরিণত হয়েছে।

ইতোমধ্যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ও পুনরায় তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের সময় আগামী ৩০ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়েছে। আর নির্বাচনী বছরের শুরু থেকেই আওয়ামীলীগ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বেশ সরব হয়ে মাঠে নামে। এসময় তাদের মধ্যে তেমন দ্বন্দ্ব কোন্দলের চিত্র না দেখা গেলেও বর্তমানে মনোনয়ন ইস্যুতে দলের ভেতরে এক ধরণের চাপা দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। তবে রুপগঞ্জ আসনটিতে একেবারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।

জেলার অন্য আসনগুলোর তুলনায় এই আসনে প্রথম থেকেই সাংসদ গাজী ও কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকের মধ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীতা দেখা গেছে। এমনকি এসব দ্বন্দ্ব এক সময় কোন্দালে পরিণত হয়েছে। এরা দুজনই মনোনয়ন প্রত্যাশা করে পৃথক পৃথক গণসংযোগ করছেন। এদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল হাই, সাবেক এমপি মেজর জেনারেল (অবঃ) কে এম সফিউল্লাহ, রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়াও মনোনয়ন প্রত্যাশা করে গণসংযোগ চালিয়েছেন। এরা তিন জনই মনোনয় পত্র সংগ্রহ করেছেন।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম বারের মত নির্বাচিত হয়ে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য হন গোলাম দস্তগীর গাজী। এরপর ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে। সেই নির্বাচনেও অনায়াসে জয়লাভ করে পরপর দুই দফা ক্ষমতায় ছিলেন এই নেতা। ধীর্ঘ প্রায় ৮ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এই নেতা এখনো তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চান। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রার্থী হতে। কিন্তু এখনো তার মনোনয়ন নিশ্চিত হয়নি। আগামী ১৪ নভেম্বর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে সাক্ষাত করবেন। তারপরে কোন সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। দীর্ঘ ৮ বছরের সংসদ সদস্য স্বাদ পাওয়া এই নেতার কাছে মনোনয়ন ইস্যুটি বর্র্তমানে মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এই নেতা সরাসরি আইভী বলয়ের সাথে জড়িত। তিনি মনোনয়ন পেতে সব ধরনের লবিংয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তবে যদি কোন কারণে এই আসনে এবার এমপি গাজীর মনোনয়ন হাতছাড়া হয়ে যায় তাতে করে মর্যাদার লড়াইয়ে মুখ থুবড়ে পড়বেন এই নেতা।

অন্যদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই প্রবীণ নেতাদের তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন। আওয়ামীলীগের রাজনীতির শুরু থেকেই পথ চলা শুরু করে তিনি কেন্দ্রীয় পদও অর্জন করতে পেরেছেন। কিন্তু সাংসদ সদস্যের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি। এবার তিনি সেই স্বাদ গ্রহণের লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা নিয়ে অনেকট আলোচনা গুঞ্জন রয়েছে। কারণে এই আসনে কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা রয়েছে। তাদের মধ্যে সাংসদ গাজাী ছাড়াও আরো প্রায় হালি খানেক নেতা রয়েছে। তবে এই প্রবীণ নেতার বয়সের ভারে ন্যুব্জ প্রায়। এই নির্বাচনে যদি কোন কারণে মনোনয়ন না পায় তাতে করে আগামী ৫ বছর পরে তার মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি অনেকটাই অনিশ্চয়তার দিকে। এতে করে এই মনোনয়ন ইস্যুটি এখন তার জন্য অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

এছাড়াও রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান ও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এই নেতা প্রথম থেকেই বেশ আলোচনায় ছিলেন। আর তার পক্ষে এই আসনে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই সহ এমপি শামীম ওসমানকে দেখা গেছে। এই নেতা প্রথম থেকে সাংসদ গাজী বিরোধীতা করে মাঠে অবস্থান নেয়। তবে এই নেতা সম্প্রতি আলোচনায় উঠে আসলেও জোয়ার টানে জেগে উঠতে পারলেও আগামী ৫ বছর পর এই জোয়ারের ধারা কতখানি অব্যাহত থাকবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ রাজনীতিতে উথান পতনের অনেক সমীকরণ রয়েছে। একজন রাজনীতিবিদ না চাইলেও অনেকট সময় অনাকাঙ্খিতভাবে রাজনীতিকে সমীকরণের পরিবর্তন ঘটে। আর তাতে করে ভাটার টানে হারিয়ে যায় সেই নেতা। অথবা থেকে না থাকার মত অবস্থা তৈরি হয়। তাই এবারের মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়টি তার কাছে অনেকটা অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘রুপগঞ্জ আসনটিতে সাংসদ গাজী ও ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক কেন্দ্রীক হয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি ওই আসনে নতুন করে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই মনোনয়ন প্রত্যাশা করায় মনোনয়ন ইস্যুতে সমীকরণ ত্রিমুখী অবস্থান নেয়। তবে মনোনয়ন ইস্যুটি এখন কারো জন্য মর্যাদার আবার কারো জন্য অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এতে করে এই আসনের মনোনয়ন ইস্যুতে পরিবেশ পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও