‘কবরী ৫ টাকার কাজও করেনি, সব টাকা খেয়ে ফেলেছেন’

ফতুল্লা করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৯ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ রবিবার



‘কবরী ৫ টাকার কাজও করেনি, সব টাকা খেয়ে ফেলেছেন’

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আজ বক্তব্য দিবো না। কিন্তু এখানে উপস্থিত আছেন আমার বড় ভাই যিনি কিছু কথা বলেছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বক্তব্য রাখতে এলাম। সাধারণ বিষয় হলো আপনার কাছে আমার ভোট চাওয়া উচিত না। কারো কাছেই কারো ভোট চাওয়া উচিৎ নয়। এই সিস্টেমটাই উঠে যাওয়া উচিত। আমি এখন পর্যন্ত কারো কাছে ভোট চাইনি। শেষ পর্যন্ত চাইবো না। কারণ সমস্যাটা আমার নয়। সমস্যা আপনার।’

তিনি বলেন, ‘দেখুন, আমার একটা ছেলে আছে আমার একটা মেয়ে আছে, আমাদের সকলেরই সন্তান আছে। আপনি যখন আপনার ছেলের বিয়ে দেন। আপনি চেষ্টা করের একটা ভালো মেয়ে খোঁজার। কারণ আপনি চান একটা ভালো মেয়ে ঘরে আসলে ঘরে শান্তি থাকবে। আবার একটি বাবার দুটি সন্তান যদি দুই রকম হয় তবে দুজনেই বাবার সমান আদরের হতে পারে না। কারণ খারাপ সন্তানটির জন্য বাবা মায়ের জীবন নষ্ট হয়। ঠিক তেমনি একজন খারাপ জনপ্রতিনিধির জন্য দেশ নষ্ট হয়। দেশের উন্নয়ন নষ্ট হয়। তাই সমস্যা আপনার, আমার না। আমি জনপ্রতিনিধি না হলে সেলিম ভাই জনপ্রতিনিধি না হলে আপনার ক্ষতি।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি বলছি না নৌকা হলেই সবাই ভালো হয়ে যাবে। আমার আগেও আমার চাচী কবরী এমপি ছিলেন তিনি ৫ টাকার কাজও করেননি। শুনেছি সব টাকা খেয়ে ফেলেছেন। মোহাম্মদ আলী ভাই বললেন আমার পকেট থেকে টাকা খসে না। অতো টাকা থাকলে আমি অনেক দিতাম ইনশাআল্লাহ। আজকেও আমি এক জায়গায় দিয়ে আসছি ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। আমি বলি না। কারণ আমার টাকার অঙ্ক অনেক কম। সেলিম ভাইয়ের অঙ্কটা অনেক বেশি।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতি অনেকে কাছে ব্যবসা হতে পারে। কিন্তু আমাদের পরিবারের কাছে এটা এবাদত। কারণ নারায়ণগঞ্জবাসী আমাদের অনেক রিটার্ন দিয়েছেন। আমি অবাক হই আপনাদের অনেক ব্যাবসায়ী জেলার উন্নয়নের স্বার্থে এগিয়ে আসেন না। আপনারা শিল্পাঞ্চল করেছেন। কিন্তু সন্তানকে পড়াশোনা করাবেন কোথায়? তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন কোথায়? সেই বিষয়টাও একটু ভাববেন। আমি চাই আমাদের নদীর পাড়গুলোকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেস্ট মেডিক্যাল হাব করবো। নম্বর ওয়ান মেডিক্যাল কলেজ। হোক সে বিদেশি মেডিক্যাল কলেজ। কিন্তু আমরা শহরটাকে গড়ে তুলতে চাই। আমরা এভাবে গড়ে তুলতে চাইছি যে দেশের যে কোথাও কোনো রোগীর চিকিৎসা প্রয়োজন হলে। তার প্রথম চয়েজ হবে নারায়ণগঞ্জ। আমরা এমনভাবে কল্পনা করছি যে, দেশের যে কোনো বাবা মা যদি ভাবে আমার সন্তানকে একটা ভালো স্কুলে পড়াবো। তাহলে সে নারায়ণগঞ্জের কথা ভাববে। সন্তানের জন্য অনেকে বলে নিজের সন্তানকে নিজ পায়ে দাঁড় করিয়ে রেখে যেতে হবে। কিন্তু আমি বলি তাকে প্রকৃত শিক্ষাটা দিয়ে যান। টাকা দিয়ে গেলে না নষ্ট করে ফেলবে। শিক্ষা আর চিকিৎসা আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তারপরে প্রয়োজন শান্তি। এখন নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টগুলোতে চাঁদাবাজি হয় না। নামধারী কিছু শ্রমিক নেতা করত পারে। কিন্তু আমরা প্রশ্রয় দেই না। আমরা যতোটা পেরেছি আপনাদের দিয়ে গেছি। নারায়ণগঞ্জকে দিয়ে গেছি। তার বিনিময়ে কখনও ভোট ভিক্ষা চাইনি, চাইবো না। ভিক্ষা চাইবো একমাত্র আল্লার কাছে। শুধু চাই আমরা মারা গেলে যেনো আপনাদের চোখ দিয়ে দু ফোঁটা পানি পরে। আপনারা বলেন আল্লাহ মানুষটাকে ক্ষমা করে দিও।’

নীট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ ২০১৬-২০১৮ সালের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও বিশেষ সাধারণ সভা শেষে সংগঠনটির ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সদস্য প্রতিষ্ঠানের পুর্নমিলনী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে শামীম ওসমান এসব কথা বলেন।

১৭ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটের সস্তাপুর এলাকায় অবস্থিত নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কের অভ্যন্তরের সংগঠনটির প্রায় ১হাজার সদস্যের উপস্থিতিতে উক্ত ইজিএম ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এজিএম অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও