আকরাম ছাড়ে বিএনপিতে দ্বিমত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৩ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ রবিবার



আকরাম ছাড়ে বিএনপিতে দ্বিমত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও তাদের শরীক দল জাতীয় পার্টির বিপরীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। এই ঐক্যে বিএনপি, নাগরিক ঐক্য, জেএসডি, গণফোরাম সহ আরো কয়েকটি দল রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে যদি এই দলগুলো ঐক্যফ্রন্টে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তবে আসন বন্টনের বিষয় থাকবে। সেই আসন ভাগাভাগিতে নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন। ইতেমধ্যে নাগরিক ঐক্য দেশের ৩৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে যেখানে আকরাম রয়েছেন। এতে করে বিএনপি দলটির একটি অংশ এই নেতার সমর্থন দিলে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর সমর্থকরা তাকে ঘোর বিরোধীতা করছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রায় ঘনিয়ে এসেছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোট। অন্যদিকে বিএনপির সাথে ঐক্যের তলে থাকা নাগরিক ঐক্য সহ ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বেশ সরব হয়ে উঠেছে।

২০১৪ সালের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে লড়েন এস এম আকরাম।ওই নির্বাচনে এস এম আকরাম ৬৬ হাজার ১১৪ ভোট পেয়েছিলেন। অথচ ওই নির্বাচনে সেলিম ওসমান সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়েও পেয়েছিলেন ৮২ হাজার ৮৫৬ ভোট। তাই এই নেতা এই আসনে সকল প্রার্থীর চেয়ে জনপ্রিয়তার দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।

বিএনপি দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নাগরিক ঐকের এই নেতাকে কতটুকু মেনে নিবে তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। আর তাছাড়া বিএনপি নেতারা দলের ভেতরে একজন অন্যজনকে ছাড় দিতে নারাজ সেক্ষেত্রে বিএনপি দলটির বাইরের কোন নেতাকে তারা কতটুকু সমর্থন দিবে না নিয়ে অনেক ধোঁয়াশা রয়েছে। এ নিয়ে বিএনপি দলটির মধ্যে বিভক্তি দেখা দিচ্ছে। বিএনপি দলটির মধ্যে একটি অংশ এস এম আকরামকে সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আরেকটি অংশ এর বিরোধীতর করছে।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা গণফোরাম সভাপতি দেলোয়ার হোসেন চুন্নুর বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আকরামের ডাকে ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেকে সাড়াও দিয়েছেন। মহানগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামাল বলেন, ‘আসলে আমাদের কোন বৈঠক ছিল না। এমনিতে চা চক্র ছিল। আমি দীর্ঘদিন আমেরিকাতে ছিলাম। সম্প্রতি দেশে ফিরে আসার পর সৌজন্যবোধ মূলক আলোচনা হয়েছে।’

এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির একটি বড় গ্রুপ ইতোমধ্যে আগামী নির্বাচনে সাবেক এমপি কালামকে বাদ দিয়ে এ আসনে এস এম আকরামকে নিয়েই মাঠে কাজ করতে চায়। সেজন্যই বিএনপির ওই গ্রুপটি চাচ্ছে আকরামকে যেন মনোনয়ন দেওয়া হয়। এছাড়াও দলের সুচিন্তাকারী নেতাকর্মীরা দলের ভাল দিকগুলো বিবেচনা করে এই আসনে বিএনপি দলটির ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে এস এম আকরামকে সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ এর ঘোর বিরোধীতা করতে শুরু করেছে।

এই আসনে এস এম আকরাম ছাড়া বিএনপির মনোনয়ন তালিকায রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

এই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সাবেক সাংসদ ও মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম গ্রুপটি আকরামের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে ঘোর বিরোধীতা করছে। এতে করে দলের ভেতরে কয়েকদফা মিটিংও হয়েছে। এমনকি এ নিয়ে এই গ্রুপটির মধ্যে নানা গুঞ্জনও চলছে। এতে করে দলের ভেতরে ফের দ্বন্দ্ব বিভক্তির চিত্র দেখা যাবে। তবে দলের স্বার্থে দলকে প্রার্থী দেয়ার ব্যাপারে বেশ ভেবে চিন্তে নিতে হবে। কেননা এই আসনটিকে কোন ভাবেই ছাড় দেয়া চলবেনা। আর এই আসনে ঝুঁকিছাড়া জয় পেতে চাইলে এস এম আকরামের কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও