শরীক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এগিয়ে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৭ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ রবিবার



শরীক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এগিয়ে

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিএনপি দলটির শরীক দল নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে অনেকটা এগিয়ে আছে। অন্যদিকে এই আসনের ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলটির শরীক দল জাতীয় পার্টি এই আসনের বর্তমান সাংসদ  সেলিম ওসমান মহাজোটের অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় মনোনয়ন রেসে অনেকটা এগিয়ে আছেন। এতে করে মূল দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের এই আসনের মায়া ছাড়তে হতে পারে। তাতে করে এই আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দল দুটো তাদের শরীক দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নামতে হবে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দলগুলোর শরীক দলেরাও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের কার্য সম্পন্ন করছে। এতে করে খুব শিঘ্রই দলগুলো তাদের শরীক দলগুলোর সাথে আসন বন্টন সহ নিজ দলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে।

আওয়ামীলীগ দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দুই এক দিনের মধ্যে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী চূড়ান্ত করা হবে। অন্যদিকে আওয়ামীলীগের শরীক দল জাতীয় পার্টি দলটি এখনো জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবে বিএনপি দলটি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তারা আওয়ামীলীগে সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। আর বিএনপি দলটির মনোনয়ন ফরম বিক্রির কাজ এখনো শেষ হয়নি।

সম্প্রতি বিএনপি, নাগরিক ঐক্য, গণফোরম সহ আরো বেশ কটি দলের সংমিশ্রনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দল গঠিত হয়। এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। ৭ বছর আগে আওয়ামীলীগ দল ত্যাগ করা ক্লিন ইম্যোজধারী নেতা আকরাম নানা কারণে এই আসনের মনোনয়ন লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন।

জানা গেছে, ‘এস এম আকরাম ১৯৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর ) আসন থেকে আওয়ামীলীগের টিকেটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট সরকার গঠনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েও দলীয় নির্দেশে তাকে সরে দাড়াতে হয়। এরপর ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের নানা নাটকীয়তার কারণে তিনি রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে শামীম ওসমানকে সমর্থন দিলেও জেলা আওয়ামীলীগের হিসেবে তার সমর্থন ছিল মেয়র নির্বাচিত হওয়া আইভীর প্রতি। ওই নির্বাচনের পরদিনই আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকদের প্রতি বিরাগভাজন হয়ে আওয়ামীলীগ থেকে সরে দাড়ান এস এম আকরাম। যোগ দেন মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যে।

২০১৪ সালের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে লড়েন এস এম আকরাম। ওই নির্বাচনে এস এম আকরাম ৬৬ হাজার ১১৪ ভোট পেয়েছিলেন। অথচ ওই নির্বাচনে সেলিম ওসমান সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়েও পেয়েছিলেন ৮২ হাজার ৮৫৬ ভোট। তাই এই নেতা এই আসনে সকল প্রার্থীর চেয়ে জনপ্রিয়তার দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।

এদিকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই নেতার নাম সরকারী ও বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থার মনোনয়ন তালিকার রয়েছে। এতে করে যদি এই নেতা ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দল ত্যাগ না করতো তবে ফের এই আসনে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে তার জনপ্রিয়তারও বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট হচ্ছে। কারণ গত ৭ বছর আগে আওয়ামীলীগ দল ত্যাগ করে রাজনীতি থেকে অনেকটা সরে দাঁড়ানো এই নেতার জনপ্রিয়তার এখনো সবার শীর্ষে রয়েছে।

তাছাড়া এই আসনে বিএনপি দলটির ৬ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও জনপ্রিয়তার দিকে দিয়ে এই নেতা কাছেও ঘেঁষতে পারবেনা বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ আকরামের জনপ্রিয়তার কাছে অন্য সব নেতাদের জনপ্রিয়তা অনেকটা ফিকে পড়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সাংসদ সেলিম ওসমান ২০১৪ সালের উপ নির্বাচনে সর্বদলীয় সমর্থনে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে সব দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে এই নেতা পথ চলতে শুরু করেন। এছাড়া উন্নয়নের নানা কর্মকান্ডেও এগিয়ে আছেন তিনি। তার মধ্য এই আসনটিতে আওয়ামীলীগের সাথে আসন বন্টনের বিষয় রয়েছে। যদি আসন বন্টন হয়ে তবে এই নেতার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

প্রভাবশালী দৈনিক কালের কণ্ঠের একটি সংবাদে বলা হয়, ‘মহাজোট থাকলে আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে দুটি আসনের বর্তমান এমপি সেলিম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকা আবারও মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন। সেই হিসেবে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অনেকটা বেকফুটে চলে গেলেও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা থেকে পিছু হাটেনি। আর জাতীয় পার্টির দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বেশ সরব হয়ে উঠে।

এই আসনে মহাজোটের অন্যতম প্রধান দল আওয়ামীলীগের প্রায় ১০ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও কৌশলী সেলিম ওসমানের কাছে তারা অনেকটা ধরাশায়ী হয়ে পড়ছেন। কারণ আসন বন্টনের হিসেবে এই আসনেটি অনেক আগে থেকেই জাতীয় পার্টির পকেটে চলে গেছে। আর সেলিম ওসমান জাতীয় পার্র্টির সাংসদ হলেও আওয়ামীলীগ সহ অন্য সব দলের মন জয় করে বেশ সুকৌশলে এগিয়ে চলছেন। এতে করে এই নেতাও মনোনয়ন ইস্যুতে অনেকটা এগিয়ে আছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও