অর্থহীন হবে বিএনপির নির্বাচন!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫০ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ সোমবার



অর্থহীন হবে বিএনপির নির্বাচন!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। তবে এখনও পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত হতে পারছে না বিরোধী দল বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় তাদের নেতাকর্মীরা হামলা-মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে এসেও বিএনপি সেই বিপর্যয় এখনও কাটিয়ে উঠতে পারছে না। আর তাই নেতাকর্মীদের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় পুরোপুরি স্বাধীনতা দিতে না পারলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, সে নির্বাচন হবে অর্থহীন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ক্ষমতা হারানোর পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়ের করা একের পর এক মামলায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরাসহ নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে সরবতা দেখাতে পারছেন না। তাদের বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে গায়েবী ককটেল কিংবা পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ। যেসব মামলায় আসামী হচ্ছেন প্রবাসী কিংবা মৃতব্যক্তিরাও। আর এসব মামলায় ফেরারী আসামী হয়ে একাদশ জাতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদেরকে যাযাবরের মতো দিন যাপন করতে হচ্ছে। আবার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দু’জন রয়েছেন কারাগারে। ফলে অনেকদিন ধরেই নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে না।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে নারায়গঞ্জ সদর থানায় ৩টি, সোনারগাঁয়ে ৩টি, রূপগঞ্জে ১টি, সিদ্ধিরগঞ্জে ২টি ও ফতুল্লা থানায় ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৩ শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। আর গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন অর্ধশতাধিক।

এর আগে গত কয়েক মাসের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় মোট ৪৫টি মামলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছিল। গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে। একই সাথে নির্বাচনী বছরের শুরুতে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নাশকতার আশঙ্কায় মামলা দিয়ে বিএনপি দলের নেতাকর্মীদের জেলে ঢুকানো হয়। এ সময় জেলার ৭ টি থানায় ১৩টি মামলায় বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়। এরপর শুরু হয় ধরপাকড়। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে অনেক নেতাকর্মীকে জেলে পাঠানো হয়।

ফলশ্রুতিতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে রয়েছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তাদেরকে বেশিরভাগ সময়েই আদালতে বারান্দায় কিংবা সংসদীয় এলাকার বাইরে সময় পার করতে হচ্ছে। সেই সূত্র ধরে সংসদীয় এলাকার নেতাকর্মীদের সাথেও তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে না। এমনকি অনেক সময় তাদের পরিবারের সাথেও যোগাযোগ হচ্ছে না।

এদিকে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর। তফসিল ঘোষণার পরে বিএনপির মনোনয়ন বিক্রি জমা হলেও আতংক কাটছে না কারোই।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, গায়েবী মামলার জন্য কেউ নির্বাচনী কর্মকান্ড করতে পারছে না। দিনরাত বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশী করছে পুলিশ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এরই মধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমও চলছে। তারপরেও গ্রেফতার অভিযান বন্ধ হচ্ছে না। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে হাত-পা বেঁধে সাঁতার কাটতে দেয়ার মতো অবস্থা হবে। সুতরাং নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যদি নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার অভিযান থেকে মুক্তি দেয়া যায় তাহলে এই নির্বাচন অর্থবহ নির্বাচন হিসেবে পরিণত হবে।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, পুলিশের একের পর এক গায়েবি মামলা ও বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশীর ফলে কেউ নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করতে পারছে না। রাস্তায় বের হলে গ্রেফতার করে নিয়ে কোন ঘটনা ছাড়াই নাশকতা মামলা দেয়। এভাবে তো নির্বাচন কার্যকম পরিচালনা করা যাবে না।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও