ফুটো বেলুন হয়ে গেল শ্রমিক নেতা পলাশের স্ট্যান্টবাজি

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১১ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ সোমবার



ফুটো বেলুন হয়ে গেল শ্রমিক নেতা পলাশের স্ট্যান্টবাজি

নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে অন্যতম আলোচিত একটি আসন হলো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। এই আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য হচ্ছেন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা ও ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের সদস্য শামীম ওসমান। একই সাথে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেরও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী। শামীম ওসমানের এই আসনে আওয়ামীলীগের কোন নেতাকে সচরাচর প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে দেখা যায় না।

তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের শামীম ওসমানের প্রতিদ্বন্দী হিসেবে আবির্ভাব হন কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগের শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার স্ট্যান্টবাজিও ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে এসে ফুটো বেলুনের মতো হয়ে গেল তার স্ট্যান্টবাজি। দলীয় প্রার্থী হিসেবে শামীম ওসমানেরই নাম ঘোষণা আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, ফতুল্লার ৬টি ইউনিয়ন এবং সিদ্ধিরগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ ৪-আসনটিতে অন্যান্য আসনের চেয়ে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে। ১৯৯৬ সালে এ আসনটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী শামীম ওসমান। এরপর ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এ আসনটি ফের দখলে নেন তিনি। যার ধারাবাহিকতায় এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী।

নারায়ণগঞ্জের এই আসনটিতে প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা শামীম ওসমানের সাথে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে সাহস করেন না। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামীম ওসমানের বিপরীতে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আবির্ভাব ঘটে বিতর্কিত শ্রমিকলীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আবির্ভাব হওয়ার পর থেকেই সংসদীয় এলাকা জুড়ে চলে তারা রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি।

বিভিন্ন সভা সমাবেশে বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দিকে ইঙ্গিত করে তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে থাকেন। একই সাথে বলে বেড়ান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হওয়াটাকেও তিনি ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করতেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তিনি ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে বেড়াতেন। একই সাথে কেন্দ্রীয় নেতাদের সুনজরে রয়েছেন বলেও তিনি প্রচার করতেন।

এরই মধ্যে গত ৮ নভেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন। সেই তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সেই সময় পিছিয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। একই সাথে মনোনয়পত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করেছেন ২৮ নভেম্বর।

সেই তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকেই আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রয় করা শুরু করে। তার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য কামাল মৃধা, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হালিম শিকদার, সরকারী মহিলা কলেজের সাবেক ভিপি নাহিদা হাসনাত।

এদিকে এসকল মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সূত্র ধরে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী বাছাই শুরু করে। বাছাইপবের্র শুরুতে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সাথে মনোনয়ন প্রত্যাশী দেখা করেছেন। যেখানে নেত্রী বলে দিয়েছেন মূলত দলের ত্যাগী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যার যোগাযোগ বেশি সেই হবেন আগামী নির্বাচনে নৌকার মাঝি। দল যাকে ঘোষণা দিবে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। বিরুদ্ধে গেলে আজীবন দল থেকে বাদ। তাই সবাইকে দলের পক্ষে কাজ করতে হবে।

এর পরপরই দেশের একটি প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিকে বিভিন্ন আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নাম রয়েছে। ফলে শ্রমিক নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের স্ট্যান্টবাজি যেন ঠিক ফুটো বেলুনের মতোই হয়ে গেল। একই সাথে তাকে শামীম ওসমানের পক্ষেই কাজ করতে হবে। অন্যথায় দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে মাশুল দিতে হবে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও