শতাধিক প্রার্থীর কুরবানীর সময় সন্নিকটে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪১ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার



শতাধিক প্রার্থীর কুরবানীর সময় সন্নিকটে

সংসদ নির্বাচন মানে ক্ষণে ক্ষণে নাটকীয়তা। আর সেই নাটকীয়তার মূল আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে মনোনয়ন টিকিট ও ভোটের লড়াই। এদিকে এখনো পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বাছাই কার্য সম্পন্ন হয়নি। রাজনীতিক দুটি বড় দল আওয়ামীলীগ-বিএনপি ও তাদের শরীক দলগুলো মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জে ১২৭ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন।

খুব শীঘ্রই সেই মনোনয়নের টিকিট খ্যাত সোনার হরিণ পেতে যাচ্ছে জেলার ৫টি আসনের দুই দল তথা দুই জোটের ১০ জন প্রার্থী। আর বাকি শতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী বাদ পড়বে। এতে করে যেভাবে কুরবানীর মত প্রিয় জিনিসটি উৎসর্গের মধ্য দিয়ে ত্যাগের মহিমায় মহিমান্নিত হয় ঠিক সেভাবেই বাদ পড়ে যাওয়ার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ত্যাগের মধ্য দিয়ে দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষ হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করবে। এর ফলে দলের প্রয়োজনে কুরবানী হতে হবে প্রায় শতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীকে। ঘনিয়ে আসছে সে মহেন্দ্রক্ষণ।

জেলার ৫টি আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৬৭, বিএনপি ও তার শরীক দলগুলো ৫০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ও আওয়ামীলীগের শরীক দল জাতীয় পার্টির ১০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামীলীগ ও তার শরীক দল জাতীয় পার্টির মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে নানা সমীকরণ রয়েছ। আর সেই সমীকরণে জাতীয় পার্টি দলটি একাধিক আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি দলটির শরীক দল নাগরিক ঐক্য কয়েকটি আসনে চমক দেখাতে পারে। এ নিয়ে বেশ আলোচনা গুঞ্জন চলছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মোট ৩২ জন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বর্তমান আওয়ামীলীগ দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, আওয়ামীলীগ নেতা ও রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাজাহান ভূইয়া সহ আরো অনেকে।

অপরদিকে অত্র আসনে বিএনপির মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু সহ প্রমুখ।

অত্র আসন থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহের খবরটি ছিল নেতাকর্মী তথা সাধারণ মানুষের মধ্যে চমক। এছাড়াও উপজেলা জাপা নেতা জয়নাল আবেদীন মোল্ল¬া ও সাইফুল ইসলাম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। মহাজোটের সমীকরণে এবার অত্র আসনে আওয়ামীলীগের কপাল পুড়তে পারে বলে অভিমত অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের।

এই আসনে আওয়ামীলীগ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে বিএনপিতে তিনজন হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে কেউ একজন মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা হল, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। যার মধ্যে তারুন্যদীপ্ত নেতা দিপু ভূইয়াকেই চায় দলটির নেতাকর্মীরা।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক রাষ্ট্রদূত মমতাজ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল পারভেজ সহ আরো অনেকে।

অত্র আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৪ জন। তারা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ, মাহমুদুর রহমান সুমন, সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদউল্লাহ।

এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী জাপার কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটন।

এই আসনে আওয়ামীলীগের বর্তমান সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ এ দিক থেকে এগিয়ে আছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন ১৫ জন প্রত্যাশী। তারা হলেন নারায়ণগঞ্জের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হোসনে আরা বাবলী, সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সোনারগাঁও আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল হক ভূইঁয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম সহ আরো অনেকে।

অত্র আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন ২০ জন। তারা হলেন, সাবেক এমপি অধ্যাপক রেজাউল করিম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সোনারগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সোনারগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান, কেন্দ্রীয় নেতা অলিউর রহমান আপেল সহ আরো অনেকে।

এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এবং এরশাদের পালিত কন্যা ও জাতীয় মহিলা পার্টির সেক্রেটারী অনন্যা হুসেইন মৌসুমী।

এই আসনটি মূলত আওয়ামীলীগের শরীক দল জাতীয় পার্টির সাথে আসন বন্টনের সম্ভাবনা রয়েছে। আর সে হিসেবে বর্তমান জাতীয় পার্টির সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার মনোনয়ন প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি ছিটকে পড়লে আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক সাংসদ আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত কিংবা মাহফুজুর রহমান কালাম পেতে পারে। অন্যদিকে বিএনপি দলটিতে সাবেক এমপি অধ্যাপক রেজাউল করিম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সোনারগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সোনারগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান বেশ আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে বর্তমানে অধ্যাপক রেজাউল করিম ও আজহারুল ইসলাম মান্নান আলোচনায়।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য কামাল মৃধা, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হালিম শিকদার, সরকারী মহিলা কলেজের সাবেক ভিপি নাহিদা হাসনাত।

অপরদিকে অত্র আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ (বর্তমানে নাশকতা মামলায় কারাগারে), জেলা বিএনপির সহ সভাপতি পারভেজ আহমেদ, জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার সহ অনেকে।

অত্র আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা। এছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনির হোসেন কাসেমী সক্রিয় রয়েছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইস্যুতে কাদের সিদ্দিকীর দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় সংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সভাপতি সফিকুল ইসলাম দেলোয়ারও পেতে পারেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন।

এই আসনে আওয়ামীলীগের বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি ও তার শরীক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাথে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আসন ভাগাভাগি না হলে বিএনপির সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিনের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।

নারায়ণগঞ্জ ৫ (সদর ও বন্দর) আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন ১০ জন। তারা হলেন, কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত সহ আরো অনেকে।

অত্র আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৭ জন। তারা হলেন, মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর যুবদলের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ সহ আরো অনেকে।

অত্র আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের পত্মী পারভীন ওসমান ও বিতর্কিত জয়নাল আবেদীন।

এই আসনটিতে আওয়ামীলীগের শরীক দল জাতীয় পার্টির সাথে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা খুবই বেশি। যদি তেমনটি ঘটে তবে বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমানের সম্ভাবনা খুবই বেশি। আর যদি কোন কারণে ফঁসকে যায় তবে আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতাদের দ্বার খুলে যাবে। অন্যদিকে বিএনপি সাথে শরীক দল নাগরিক ঐক্যের আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা খুবই বেশি। তেমনটি হলে নাগরিক ঐক্যের নেতা এস এম আকরামের মনোনয়ন পাবে। আর যদি এর ব্যাত্যয় ঘটে তবে বিএনপির নেতাদের সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে।

এদিকে গত ১৪ নভেম্বর আওয়ামীলীগের ৬৭ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার পর্ব হলেও আগামী ২০ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির ১০ জন ও ২১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ৪৪ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। তবে মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমীকরণে প্রার্থীতায় আসতে পারে চমক এমনটিই মনে করছেন সকলে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও