দুটি আসনে নৌকা প্রতীক আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৪৭ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার



দুটি আসনে নৌকা প্রতীক আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ

পুনরায় ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। এরপূর্বে ২৮ নভেম্বর মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করার কিছু নেই খুব শীঘ্রই বিজয়ের হাসি হাসতে পারেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। আবার পরাজয়ের গ্লানিতেও ভাসতে পারেন তারা।

সচেতন মহল বলছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের জয় পরাজয় এবার নির্ভর করছে ‘লাঙল নাকি নৌকা’ নারায়ণগঞ্জ ৩ ও ৫ আসনে এবার কে নির্বাচন করছেন, তার উপর। কারণ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫ টি আসনেই নৌকা প্রতিকে ভোট দেয়ার অধিকার চায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এটিই বর্তমানে হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রথম এবং প্রধান দাবি।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগেও ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী আমেজ। অনেকটাই সাজ সাজ রবে এই মহাউৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ক্ষমতাসীন এই দলটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। আর এই উৎসবের জোয়ারে নারায়ণগঞ্জের ৫ টি আসন থেকে ইতোমধ্যেই অর্ধশতাধিক মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ১ আসন থেকেই আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৩১ জন। তবে তার কারণ এই আসনের স্থানীয় আওয়ামীলীগের অন্তঃকোন্দল। এর পরপরই যে দুটি আসনে সর্বোচ্চ মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে সে আসনগুলো হলো নারায়ণগঞ্জ ৩ ও নারায়ণগঞ্জ ৫। যে দুটি আসনই মহাজোটের শরিকদল জাতীয় পার্টির জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ছেড়ে দিয়েছিলো আওয়ামীলীগ।

আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় একাধীক নেতৃবৃন্দ বলছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ ৫ আসন জেলার প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘ সময় যাবৎ আসনটি জাতীয় পার্টির জন্য ছেড়ে দেওয়ার ফলে তার রেশ পড়েছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ এমনকি পুরো জেলার আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের মাঝেও।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনটিকে যেটি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রথমবার ছেড়ে দেয়া হয় জাতীয় পার্টিকে। সে অঞ্চলটি নারায়ণগঞ্জ তথা দেশ জুড়ে প্রসিদ্ধ একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল। যেখানে গত ৫ বছরে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কাঠামোটুকুও ভেঙে পরেছে। তাই নারায়ণগঞ্জের মতো একটি জেলা যেখানে আওয়ামীলীগের জন্ম হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সে জেলার প্রতিটি আসনেই আমরা নৌকার প্রার্থী দাবি করছি।

এ দুটি আসন মিলিয়ে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন প্রায় ২৪ জন। যারা সকলেই কথা বলছেন একই সুরে। প্রার্থী যাকেই করা হোক না কেনো দুটি আসনেই আওয়ামীলীগের প্রার্থী চান তারা। ৩০ তারিখ নির্বাচনের দিন শেষে তারা নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ের হাসি হাসতে চান। এটাই নেত্রীর কাছে তাদের আকুতি।

অন্যদিকে জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই বর্তমানের রাজনীতি ক্ষমতা কেন্দ্রীক। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাংসদ সে দলের হয় সে দলটিই লাভবান হয়। সেটা আর্থিক ভাবেও হতে পারে। সাংগঠনিক ভাবেও হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সাংসদ থাকাটা জরুরী। আর অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ রাজধানী ঢাকার পাশ্ববর্তী জেলা হওয়ার ফলে এই অঞ্চলের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত থাকা যে কোনো দলের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। তাই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের দাবিটি এ সময়ের জন্য খুবই যৌক্তিক বলে মনে করছেন তারা। আর তাই এ দুটি আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারাটাই নারায়গঞ্জ আওয়ামীলীগের বিজয় হবে বলে মনে করছেন জেলার রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলের কেউ কেউ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও