‘অকুতোভয়’ এটিএম কামাল আবারও বঞ্চিত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০২ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার



‘অকুতোভয়’ এটিএম কামাল আবারও বঞ্চিত

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির ব্যানারে হরতাল সমর্থনে ২০১২ সালের ১৭ মে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মন্ডলপাড়া ব্রীজের নিচে আসা মাত্র এতে বাধা দেয় পুলিশ। এক পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও পরবর্তীতে লাঠিচার্জ করতে শুরু করেন পুলিশ। সেই সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে প্রথম তিনদিন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া), পরবর্তীতে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) হাসপাতালে এক মাস ও সব শেষে আরেকটি প্রাইভেট হাসপাতালে আরো এক মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন এটিএম কামাল। আর সেই ঘটনার ভিডিও দৃশ্য এখনও অনলাইনে (ইউটিউব) এটিএম কামাল লিখে খুঁজলেই পাওয়া যায়। তবে এ ভিডিও চিত্রটি ছাড়াও অনেক জুলম, নির্যাতন, মামলার স্বাক্ষী হয়ে আছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মামলা নির্যাতনের মধ্যেও দলীয় কর্মসূচি পালনে অকুতোভয় এক সৈনিকের নাম এটিএম কামাল।

এটিএম কামাল ছিলেন আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিলুপ্ত নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে সামাজিক ও অরাজনৈতিক পরিবেশবাদী মানবাধিকার সংগঠন ‘নির্ভীক’ এর প্রধান সমন্বয়ক।

এসব ছাড়াও আরেকটি পরিচয় হলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের তালিকায় সর্বাধিক মামলার আসামী বিএনপি নেতা এটিএম কামাল। যার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার সাতটি থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু হাজিরা নয় এসব মামলায় একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে কারাগারেও ছিলেন দীর্ঘদিন।

২৭ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে চিঠিতে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মনোনয়ন পত্রের চিঠি পাঠানো হয় প্রত্যাশীদের মধ্যে। একটি আসনে তিনজনকে দিলেও অন্য আসনগুলোতে দুইজনকে চিঠি পাঠানো হয়। আগামী ৮ ডিসেম্বর সেখান থেকে একজনের হাতে তুলে দেয়া হবে ধানের শীষ প্রতীক। কিন্তু সে তালিকাতেও স্থান পাননি দলের জুলুম নির্যাতনের শিকার অকুতোভয় সৈনিক এটিএম কামাল। একই ভাবে বাদ দেয়া হয় ২০১৬ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী থেকেও। এভাবে বার বার বঞ্চিত হলেও দলের প্রতি ভালোবাসা কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে কোন ভাবেই থেমে যাননি।

বিএনপির আইনজীবীদের সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ ও ২০১৪ আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে রাজনৈতিক ভাবে ৩০ এর অধিক মামলায় আসামী হয়েছেন এটিএম কামাল। এছাড়া রাজনৈতিক জীবনে এখনও পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মামলায় আসামী হয়েছেন তিনি। এসব মামলার মধ্যে বেশ কয়েকটির খারিজ হয়ে গেলেও এখন তিনি বাকি মামলায় হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলায় চার্জশীট হয়ে গেছে আবার কিছু মামলায় চার্জশীট হওয়ার পক্রিয়ায় আছেন। তবে এসকল মামলাগুলো সবই রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হয়েছে। আর কারাগারে ছিল ১০ বারে দুই বছরেরও বেশি সময়। বিভিন্ন মামলায় রিমা- ও কারাগারে থেকে অসুস্থ্য হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এখনও।

এটিএম কামালের ছেলে নাহিন মোস্তবা সোহান বলেন, সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার ছাড়া বাকি ৫দিনই সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত আদালতে বিভিন্ন মামলায় হাজিরা দিতে হয়। একদিনে একাধিক মামলায়ও হাজিরা দিতে হয়। তারপরও তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এজন্য দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এখনও চিকিৎসাধীন আছেন। সব শেষে তিনি বিদেশ থেকেও চিকিৎসা নিয়ে দেশে এসেছেন। এসেই তিনি জাতীয় নির্বাচনের কাজে গ্রামে গ্রামে মানুষের কাছে ধীনের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

মনোনয়ন না পেলেও কোন রাগ বা দুঃখ নেই এটিএম কামালের। বরং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সহ মনোনয়ন বোর্ডের সকল সম্মানিত সদস্যবৃন্দদের কৃতজ্ঞতা ও যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল।

এটিএম কামাল নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় মৃত্যুর মুখোমুখী হয়েছি। কিন্তু পিছু হটে যায়নি। আজ মনোনয়নের জন্য রাগ করে থাকবো? দলকে ভালোবাসি দলের জন্য কাজ করবো।

তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্র মুক্তির এই লড়াইয়ে ব্যাক্তি নয় ধানের শীষই আমাদের প্রার্থী। ধানের শীষ এখন কোন দলের প্রতীক নয়, ধানের শীষ এখন জাতির মুক্তির প্রতীক। শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ বিপন্ন গণতন্ত্র ধ্বংসের পথে। জনগণের বাক স্বাধীনতা নাই, ভোটাধিকার নাই। ভিন্ন মতালম্বিদের দমনে গুম-খুন এখন নিত্য দিনের ঘটনা। নব্য বাকশালী কায়দায় একনায়কতন্ত্র চালিয়ে সারাদেশকে কারাগারে পরিনত করা হয়েছে। কোন সভ্য দেশে এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। এথেকে মুক্তির একটিই পথ, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আরো একটি মুক্তিযুদ্ধে ঝঁপিয়ে পড়তে হবে। গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হলেই এদেশের গণতন্ত্র মুক্তি পাবে।

প্রসঙ্গত কেন্দ্রীয় ও দলীয় কর্মসূচির বাইরেও এটিএম কামালের দলীয় কর্মসূচির মধ্যে আলোচিত হলো, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও মরহুম আরাফাতক রহমান কোকোর মুক্তির দাবিতে টানা ১২ দিনের অনশন, সুন্দরবন বাঁচাও-বাংলাদেশ বাঁচাও  আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ থেকে পায়ে হেঁটে রামপাল পদযাত্রা। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর এটিএম কামাল কাফনের কাপড় পরে আন্দোলনে নামা। অপহরণ, গুম ও নৃশংস হত্যাকা-ের স্বীকার হবে না মানুষ থাকবে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি দাবিতে কর্মসূচি। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনেও ছিল সক্রিয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও