ইউটার্ন আওয়ামী লীগের, ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের পক্ষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৭ পিএম, ১ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার



ইউটার্ন আওয়ামী লীগের, ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের পক্ষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মহাজোটের একক প্রার্থী সেলিম ওসমানের পক্ষে মাঠে নামছেন মহানগর আওয়ামীলীগ। তাদেরকে পুনরায় উক্ত আসনে দেয়া প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানো হয়। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী সেলিম ওসমানের নির্বাচনের ক্যাম্পিংয়ের জন্য ৪ডিসেম্বর ১১ থেকে ১৮নং ওয়ার্ড ও ৮ডিসেম্বর ১৯ থেকে ২৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে সভা করবে মহানগর আওয়ামীলীগ। এর পাশাপাশি ৪ আসনের প্রার্থী শামীম ওসমানের ক্যাম্পিংয়ের জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নেতৃবৃন্দ সাথে আলোচনা করার জন্য মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি চন্দন শীলের নেতৃত্বে সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে।

১ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় নির্বাচন বিষয় জরুরী সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এগুলো বলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা।

তিনি আরো বলেন, দলীয় সভানেত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত । আমরা এই সিদ্ধান্ত মেনে মহানগর আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয়ে ও মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য আহ্বান করছি।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। তিনি দলীয় মনোয়নপত্র ক্রয় করে জমা দিয়েছিলেন। তিনিই জরুরী সভায় ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের পক্ষে সাফাই বক্তব্য দিয়েছেন বলে নেতারা জানান। তিনি সভায় বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আমি দলীয় মনোয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে ফরম ক্রয় করে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু দলের সভানেত্রী যেটা ভালো সেটা করে মহাজোটের প্রার্থী ঘোষনা করেছেন। তারই ঘোষনা করা প্রার্থীর বিজয়ে মহানগর আওয়ামীলীগকে নিয়ে মাঠে কাজ করবো।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সিনিয়র সহ-সভাপতি, চন্দন শীল, শেখ হায়দার আলী পুতুল, রোকনউদ্দিন আহমেদ, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, মাসুদুর রহমান খসরু, রবিউল হোসেন, কমান্ডার গোপীনাথ, ওসমান গনি, শাহাবউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবিব, জিএম আরমান, শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মাহমুদা আক্তার মালা , জিএম আরাফাত, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মীর আনোয়ার হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. আতিকুজ্জামান সোহেল, প্রচার সম্পাদক এড. হাবীব আল মোজাহিদ পলু , সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আতাউর রহমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক গাজী আব্দুর রশিদ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ পদে কামাল দেওয়ান, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন শিলু, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব আলম চঞ্চল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিক আছিয়া বেগম সুমী, দপ্তর সম্পাদক এড. বিদ্যুৎ কুমার সাহা। কার্যকরী সদস্য কামরুল হাসান মুন্না, নাজমুল আলম সজল, এহসানুল হাসান নিপু, আবেদ হোসেন, সোহরাব হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, শিখন সরকার শিপন,  পুলক কান্তি ঘোষাল, উত্তম কুমার সাহা, সাজ্জাদুর রহমান সুমন, এসএম পারভেজ,  সানোয়ার তালুকদার প্রমুখ।

সভাসূত্রে জানা গেছে, সভায় কয়েকজন নৌকা দাবীতে নিজেদের অবস্থান পুনব্যক্ত করলেও নেত্রীর প্রতি আনুগত্যতা প্রকাশ করে মহাজোটের পক্ষে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছিলেন ১০জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। আর এ আসনটি নৌকার জন্য চেয়ে গত এক বছর ধরেই উঠেপড়ে লেগেছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। বাদ পড়েননি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, মেয়র থেকে শুরু করে কেউ। তাদের ডাকে কেন্দ্র থেকেও ছুটে এসেছিলেন অনেকে। কিন্তু শেষতক আবারো মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিতে হয়েছে আসনি। ফের লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এমপি প্রার্থী হচ্ছেন সেলিম ওসমান।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, মূলত সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করবে।

২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল এমপি নাসিম ওসমানের মৃত্যু হলে ওই বছরের ২৬ জুন উপ নির্বাচনে প্রার্থী হন সেলিম ওসমান। এর আগে তাঁদের সঙ্গে বৈরিতা ছিল আনোয়ার হোসেনের। কিন্তু উপ নির্বাচনে সেলিম ওসমানের পক্ষেই চলে আসেন আনোয়ার হোসেন সহ অনেকে। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন মেয়র প্রার্থী হতে চাইলে সমর্থন দেন শামীম ওসমান। তবে প্রধানমন্ত্রী আইভীকে মনোনয়ন দিলে সম্পর্কে আবারো কিছুটা চিড় ধরে। এরই মধ্যে আনোয়ার হোসেনের পরিচালনাধীন মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কোটি টাকা অনুদান দেন সেলিম ওসমান। রাতের আধারে স্কুলের দেয়াল ভেঙে ফেলে সিটি করপোরেশন। এতে আনোয়ার হোসেনও মেয়রের সমালোচনা করেন। সৃষ্টি হয় নতুন মেরুকরণের।

জানা গেছে, নির্বাচনী বছরের শুরুতে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা জেলার ৫ টি আসনে নৌকা প্রতীকের দাবি জোরালো দাবি করে আসছেন। সেই দাবির প্রেক্ষিতে দলটির নেতাকর্মীরা বেশ সরব হয়ে উঠে। বিশেষ করে এই আসনে দীর্ঘীদিন যাবত জাতীয় পার্টির সাংসদ রয়েছে বলে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা এই আসনে কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেনা বলে অভিযোগও করেছেন।

আওয়ামীলীগে নেতাকর্মীরা বলে আসছেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত এই আসনে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা নৌকা মার্কায় ভোট দিতে পারেনা। তারা নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করতে চায়। কিন্তু তা দীর্ঘ এক যুগের ও বেশি সময় ধরে সম্ভব হয়নি। তাতে করে এই আসনে দলটির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, নিষ্পেষিত হয়ে আসছে। এর ফলে এই আসনে নৌকার জোড়ালো দাবি তুলে আসছে দলটির নেতাকর্মীরা।

নারায়ণগঞ্জ ৫ (সদর ও বন্দর) আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম জমা সংগ্রহ করেছিলেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, সহ সভাপতি আব্দুল কাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা সহ আরো অনেকে।

কিন্তু মহাজোট থেকে এখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেন সেলিম ওসমানকে। সে কারণেই মহানগর আওয়ামী লীগ নড়েচড়ে বসেছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও