ফতুল্লায় শ্রমিকদের তাণ্ডব, পলাশের দাবী তিনিই অদ্বিতীয় শ্রমিক নেতা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৮ পিএম, ৩ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার



ফতুল্লায় শ্রমিকদের তাণ্ডব, পলাশের দাবী তিনিই অদ্বিতীয় শ্রমিক নেতা

‘শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের দাবী ফতুল্লার আলীগঞ্জ থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত তিনি ছাড়া অদ্বিতীয় কোন শ্রমিক নেতা নাই। সেহেতু এ এলাকায় কোন শ্রমিক নেতার নাম উচ্চারিত হলেই কাউসার আহমেদ পলাশের নামটি উচ্চারিত হয়।’ এ অবস্থায় ৩ ডিসেম্বর ফতুল্লার বিসিক শিল্প নগরীতে ঘটে গেছে লংকাকান্ড। পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি সহ অন্তত অর্ধশত। সংশ্লিষ্টর অভিযোগ, এর পেছনে শ্রমিক নেতার ইন্ধন রয়েছে যিনি বিসিকে প্রবেশ করতে পারে না।

ফলে পলাশের ভাষ্যমতেই অভিযোগের তীর যাচ্ছে তার দিকেই। কারণ ইতোমধ্যে পলাশ আদালতে দাঁড়িয়ে জবানবন্দী প্রদান করে বলেছেন, তিনি ছাড়া আর কোন শ্রমিক নেতা ফতুল্লা এলাকাতে নাই। বিশেষ করে আলীগঞ্জ হতে মুক্তারপুর পর্যন্ত। আর সোমবারের ঘটনাটি ঘটেছে বিসিক শিল্প নগরীতে যেটা পলাশের দেওয়া জবানবন্দীর এলাকার ভেতরেই অবস্থিত।

নাম প্রকাশে একজন আইনজীবী জানান, যদি মামলার আবেদনে কেউ উল্লেখ করে থাকেন তিনি অদ্বিতীয় শ্রমিক নেতা সেহেতু কোন ঘটনায় শ্রমিক নেতা হিসেবে তাকে দোষারোপ করা অমূলক না।

এ ব্যাপারে কাউসার আহমেদ পলাশ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলায় আমার যা লেখা ও শ্রমিক নেতা ইস্যুতে আমি কোন বক্তব্য দিব না। আপনাদের যা খুশী লিখেন। আর শ্রমিকেরা আমার কাছে এসেছিল। আমি একটু ব্যস্ত থাকায় তাদের এখন আন্দোলন করতে না করেছি। বলেছি যাতে মঙ্গলবার যে বৈঠক হবে সেখানে থেকে সমঝোতা করতে।’

এদিকে ফতুল্লার বিসিকে ফকির অ্যাপারেলসের ১৪ জন শ্রমিকের মুক্তি ও ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন। সোমবার ৩ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের মহানগর শাখার সভাপতি নাজমুল হাসান নান্নুর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আল আমিন।

এসময় বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, আমরা শুনেছি বহিরাগত শ্রমিক নেতা সমস্যা সমাধানের নামে মালিক পক্ষের হয়ে শ্রমিকদেরকে উল্টা হুমকি দিচ্ছে এমনটা শুনেছি। তারা সরকার দলীয় আর কিছু বলব না।

তিনি আরো বলেন, কাশিপুরে পূর্ব গোপনগরে একটি টেক্সটাইলে সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় সাজ্জাদ নামে এক শ্রমিক ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। পুলিশ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে পারছে না। পুলিশ নিরীহ শ্রমিকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ধরছে। সন্ত্রাসী যারা এদের নাকি খুঁজে পাচ্ছে না। পুলিশ যদি সন্ত্রাসী খুঁজে না পায়, শ্রমিক ধরে নিয়ে আসে তাহলে এই পুলিশের গুরুত্ব কিভাবে থাকে। আমরা চাই যে ন্যায়ের স্বাশন এবং বিচার সুষ্ঠু হওয়া উচিত। যারা সন্ত্রাসী ওদেরকে আগে গ্রেফতার করুক। শ্রমিক যদি কোনো অন্যায় করে থাকে তাহলে গ্রেফতার করবে। শ্রমিকতো কোনো অন্যায় করে নাই। বেতন কমিয়ে দিয়েছে, হেলপার বাদ দিছে শ্রমিকদের চায়না সিস্টেম চালু করেছে। এই জন্য শ্রমিকরা প্রতিবাদ করেছে।

এসময় বক্তারা আরো বলেন বলেন, ২০০৩ সালেও ফকির গার্মেন্টে এর মালিক পক্ষ শ্রমিকদের বেতন কমিয়ে দিয়ে প্রতিবাদি শ্রমিকদের উপর হামলা করেছিল। যার কারণে ভয়াবহ শ্রমিক আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছিল।

বিকেএমইএ এর সাবেক সহ সভাপতি ও বিসিক গার্মেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বিসিকের ফকির অ্যাপারেলস কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ প্রসঙ্গে বলেছেন, পেছন থেকে কেউ ইন্ধন না দিলে আজ এভাবে ভাংচুর হতোনা। কেউ না কেউ এটার সাথে জড়িত। যেসব শ্রমিক নেতার বিসিকে প্রবেশ করা নিষেধ তারাই এখানে হামলা করেছে। কোন শ্রমিক বা শ্রমিক নেতা বলতে পারবেনা এ পর্যন্ত আমার কাছে কোন অভিযোগ নিয়ে আসছে যে অন্যায়ভাবে কোন ফ্যাক্টরী তাদেরকে মজুরি না দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে বা অন্য কিছু। আমাকে জানালেই আমি সমাধান করে দেই। তাই তাদেরকে জানানো হয়েছে যেন তারা আমার বিসিকে প্রবেশ না করে এবং কোন সমস্যা হলে আমাকে জানায়। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যারা ভাংচুর করেছে তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেব।

পুলিশ ও শিল্প মালিকেরা জানান, উৎপাদন মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে বিসিকে অবস্থিত ফকির অ্যাপারেলস কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে গত তিনদিন ধরে শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। কারখানাটিতে ১০ হাজার শ্রমিক কাজ করে। মালিকপক্ষ মজুরি বৃদ্ধি করলেও দাবী অনুযায়ী বৃদ্ধি না হওয়ায় শ্রমিকেরা রোববার কারখানাটির অভ্যন্তরে বিক্ষোভ করে। এ অসন্তোষ নিরসনে কারখানাটির মালিকপক্ষ সোমবার সকালে বিসিক কর্তৃপক্ষ, বিকেএমইএ কর্তৃপক্ষ ও শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। তারা মঙ্গলবার বিভিন্ন কারাখানার মালিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের সাথে উৎপাদন মজুরি সমন্বয় করার আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা মেনে না নিয়ে বিসিকের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ শুরু করে। সকাল সাড়ে ১০টায় কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরিত দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। ওই সময়ে বহিরাগত শতাধিক যুবক এসে শ্রমিকদের সাথে যোগ দেয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও