নির্বাচনী লড়াই থেকে ছিটকে পড়ার অপেক্ষায় আরো ২১ প্রার্থী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১০ পিএম, ৫ ডিসেম্বর ২০১৮ বুধবার



নির্বাচনী লড়াই থেকে ছিটকে পড়ার অপেক্ষায় আরো ২১ প্রার্থী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে বাছাইপর্ব শেষে বৈধতা পেয়েছেন ৪৭জন। বাছাইয়ে বাদ পড়া ১৪ জনের মধ্যে ১০ জন ইতিমধ্যে বৈধতা ফিরে পেতে আপিল করার জন্য আবেদন করে মনোনয়ন বাতিলের ফরম তুলেছেন। ইতিমধ্যে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত মহাজোট ৫টি আসনে ৫ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। তবে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখনো ৩টি আসনে প্রার্থীতা চূড়ান্ত করতে পারেনি। তবে আগামী ৪ দিনের মধ্যেই নির্বাচনী যুদ্ধের জন্য মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীতা চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। আর সেক্ষেত্রে নির্বাচনী যুদ্ধ থেকে ছিটকে পড়তে পারে একডজনের বেশী প্রার্থী।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ১০জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তথ্যগত ভুল থাকায় বাতিল হয়েছে ২ জনের।  বৈধ হয়েছেন ৮ জন। তারা হলেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী, বিএনপি মনোনীত ৩ প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া ও কাজী মনিরুজ্জামান মনির, জাতীয় পার্টি দলীয় প্রার্থী আজম খান, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ইমদাদুল্লাহ হাসেমী, সিপিবির মোঃ মনিরুজ্জামান চন্দন, স্বতন্ত্র মোঃ হাবিবুর রহমান। তবে এর মধ্যে বিএনপির ৩ জন প্রার্থী থাকায় ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে যেকোন দুইজনকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া জাতীয় পার্টি দলীয় প্রার্থী আজম খানকেও মহাজোট ইস্যুতে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে হতে পারে। এতে করে রূপগঞ্জে যেকোন ৩ জনকে লড়াই থেকে ছিটকে পড়তে হবে।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে ৮ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে। বৈধ হয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, বিএনপি মনোনীত ৩ প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মাহমুদুর রহমান সুমন ও সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নাসির উদ্দিন, কমিউনিস্ট পার্টির হাফিজুল ইসলাম, জাকের পার্টির মোঃ মুরাদ হোসেন জামালের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে বিএনপির ৩ জন প্রার্থী থাকায় ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে যেকোন দুইজনকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া জাকের পার্টির মোঃ মুরাদ হোসেন জামালকেও মহাজোট ইস্যুতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হতে পারে। আড়াইহাজারে নির্বাচনী লড়াই থেকে ছিটকে পড়তে হবে কমপক্ষে ৩জনকে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে ১৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তার মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে ৫ জনের। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ১০ জনকে। তারা হলেন, জাতীয় পার্টি দলীয় বর্তমান সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজাহারুল ইসলাম মান্নান, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনিত আলহাজ্ব মোঃ সানাউল্লাহ নূরী, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান মানিক, জাকের পার্টির মোস্তফা আমির ফয়সাল, জাকের পার্টির মুরাদ হোসেন জামাল, সিপিবির আব্দুস সালাম বাবুল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির এএনএম ফখরুদ্দিন, কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস সোহেল মোল্লা। এর মধ্যে মহাজোট ইস্যুতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান মানিক, জাকের পার্টির মোস্তফা আমির ফয়সাল, জাকের পার্টির মুরাদ হোসেন জামালকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হতে পারে। অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ইস্যুতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির এএনএম ফখরুদ্দিন, কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস সোহেল মোল্লাকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হতে পারে। এতে করে সোনারগাঁয়ে নির্বাচনী লড়াই থেকে ছিটকে পড়তে হবে কমপক্ষে ৬জনকে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ১৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তার মধ্যে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে ৫ জনকে। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ১১ জনকে। তারা হলেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহআলম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতী মনির হোসেন কাসেমী, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম, বাসদের সেলিম মাহমুদ, সিপিবির ইকবাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতালীগের শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, ওয়ার্কার্স পার্টির হিমাংশু সাহা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মাহমুদ হোসেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশ ন্যাপ এর ওয়াজিউল্লাহ মাতব্বর অজু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোঃ জসিম উদ্দিন। এর মধ্যে মহাজোট ইস্যুতে ওয়ার্কার্স পার্টির হিমাংশু সাহাকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হবে। অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ইস্যুতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতী মনির হোসেন কাসেমী, কৃষক শ্রমিক জনতালীগের শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোঃ জসিম উদ্দিনকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হতে পারে। এতে করে অত্র আসনে নির্বাচনী লড়াই থেকে ছিটকে পড়তে হবে কমপক্ষে ৪জনকে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে ১২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তার মধ্যে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে ১ জনকে। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ১১ জনকে। তারা হলেন, জাতীয় পার্টি মনোীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সাবেক এমপি এস এম আকরাম, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল কালাম মুন্সী, সিপিবির অ্যাডভোকেট মন্টুঘোষ, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব, ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী, খেলাফত মজলিশের মনোনিত হাফেজ মোঃ কবির হোসেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মোঃ আল আফতাব, জাকের পার্টির মোর্শেদ হাসান। মহাজোট ইস্যুতে ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী, জাকের পার্টির মোর্শেদ হাসানকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হতে পারে। অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ইস্যুতে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী যেকোন একজনসহ সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, খেলাফত মজলিশের মনোনিত হাফেজ মোঃ কবির হোসেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মোঃ আল আফতাবকে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করতে হতে পারে। এতে করে অত্র আসনে নির্বাচনী লড়াই থেকে ছিটকে পড়তে হবে কমপক্ষে ৫জনকে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও