মনোনয়ন দৌড়ে সংস্কারপন্থী বনাম সুবিধাবাদীদের লড়াই

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১৬ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার



মনোনয়ন দৌড়ে সংস্কারপন্থী বনাম সুবিধাবাদীদের লড়াই

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি দলটির মধ্যে ৩জন মনোনয়ন প্রত্যাশীকে মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে। তবে এই ৩ জনের মধ্যে সংস্কারপন্থীদের তালিকায় একজন রয়েছে সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সাথে আতাঁত করে সুবিধাভোগী নেতাদের তালিকায় থাকা মাহমুদুর রহমান সুমনও চিঠি পেয়েছে। তবে এই দুই সংস্কারপন্থী ও সুবিধাবাদীদের মাঝে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদও চিঠি পেয়েছে। যদিও এই আসনে সুমনের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই এখন সংস্কারপন্থী ও সুবিধাবাদীদের মধ্যে থেকে কোন একজনকে বেছে নিবে দল।

২৭ নভেম্বর বিএনপি দলটি ঢাকা বিভাগের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একাধিক জনকে মনোনয়নের চিঠি দেয়। আগামী ৮ ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের দিন এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসন থেকে মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর ও বিএনপি নেতা মাহামুদুর রহমান সুমন।

বিএনপি দলটিতে একদিকে রয়েছে সংস্কারপন্থী নেতারা। এছাড়াও দলের ভেতরে সুবিধাবাদী নেতাও রয়েছে। এসব নেতাকর্মীদের জন্য দল সাংগঠনিক দিক দিয়ে অনেকটা দুর্বল হয়ে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। এরুপ বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে দলটি বেশ বিপাকে পড়েছে। এর মধ্যে হামল, মামলার মধ্য দিয়ে দলটি এমনিতে বেশ বেকায়দায় রয়েছে। এতে করে দলটি দলের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব কোন্দল সৃষ্টি করতে চাইছেনা। তবে দলের ত্যাগী নেতাদের হাতে দলের হাল তুলে দেয়া ছাড়া কোন উপায়ও নেই। কিন্তু এরই মধ্যে এই নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে দলটির দুজন এমন নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যাদের একজন সংস্কারপন্থী; অন্যজন রয়েছে সুবিধাবাদীদের তালিকায়।

এই আসনে যোগ্য নেতাদের তুলনায় বিতর্কিত নেতাদের ছাড়ছড়ি বেশি। সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর সংস্কারপন্থী নেতাদের দলে ভিড় করে এখন বিতর্কিত নেতাদের তালিকায় রয়েছেন।

জেলার মধ্যে বিগত দিনের সংস্কারপন্থীদের তালিকায় কয়েকজন নেতার নাম রয়েছে যারা বিগত দিনে ওয়ান ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থীদের দলের ভিড় করে ললাটে কালিমা লেপন করেছেন। আর বিতর্কিত অবস্থানে চলে গেছেন। এতে করে কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত অনেকটা আড় চোখে দেখে তাদের। তাই দলের নেতাকর্মীদের অনেকে তাদের বিরোধীতা করতে একটুও পিছপা হয়না।

এই কলঙ্কের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন এ আসনের মনোনয়নের প্রথমিক পর্যায়ে থাকা সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর।

দলের এই বিতর্কিত সংস্কারপন্থী নেতাদের নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে সমালোচনার অন্ত নেই। তাদের পক্ষে সমর্থক নেই বললেই চলে। কারণ এসব সুবিধাবাদী নেতাদের মুখোশ তৃণমূলের কাছে উন্মোচিত হয়েছে। তাছাড়া সম্প্রতি নির্বাচনী বছরের শুরু থেকে দলের দুঃসময়ে এসব নেতাদের দলীয় কোন আন্দোলনে দেখা যায়নি। দলের হাল ধরে নিজেদের ফের ত্যাগী নেতাদের কাতারে নিয়ে যেতে পারেনি তারা। উল্টো এসব নেতার পুলিশের ঝামেলা এড়াতে দলীয় কর্মসূচি বিমুখ ছিল; যেকারণে তাদেরকে সংস্কারবাদী পাশাপাশি সুবিদাবাদীর তাকমাও লাগে।

এই নেতার সুবিধাভোগী স্বভাবের কোন পরিবর্তনই দেখা যায়নি। সংস্কাপন্থী হওয়ার পর দল থেকে অনেকটা ছিটকে পড়ে। কিন্তু পরবর্তীতে নানা বিবেচনায় দলের এসব সংস্কারপন্থীদের ক্ষমা করে দেয় কেন্দ্র। এতে করে দলে ভিড় করার সুযোগ পায় এই নেতা। তবে দলে ভিড় করেও এই নেতাদের সেই সুবিধাবাদীতার স্বভাব পরিবর্তন হয়নি যা ২০১৮ সালে দলের দুঃসময়ে প্রমাণিত হয়েছে। এই সময়ে দলের দুঃসময়ে বিতর্কিত এই নেতা পুলিশি ঝামেলা এড়াতে নিজেকে সেফ সাইডে রেখে সুবিধাবাদীদের দলে নাম লেখান। এতে করে তাদের বিরুদ্ধে থাকা সংস্কারপন্থীতার তাকমা কিছুছেই মুছা গেলনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি দলটির ফের ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করতে দলের মধ্যকার ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করার কোন বিকল্প নেই। তবে দলের প্রাথমিক তালিকায় এমন অনেক নেতার নাম রয়েছে তারা বিগত দিনে দলের সংস্কারপন্থী ও সুবিধাভোগীদের দলে ভিড় করেছেন। এতে করে দলের অবস্থান কোনদিকে যাচ্ছে তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিচ্ছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও