আওয়ামী লীগ নেতাদের ক্ষোভ কমছে না

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২২ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার



আওয়ামী লীগ নেতাদের ক্ষোভ কমছে না

নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে দুটি আসনে জাতীয় পার্টির এমপি প্রার্থী চূড়ান্ত করায় এখনো ক্ষোভ কমছে না আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। তারা জানান, দুটি আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কারণে আওয়ামী লীগের নেতাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার পরেও জাতীয় পার্টির এমপিরা যদি আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বসে রাগ প্রমশিত করতে পারে তাহলে একটা ফলাফলে আসা সম্ভব হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা জানান, তাদের সঙ্গে সেলিম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকার মতবিনিময় করতে হবে। শুধু কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তই তারা মানবেন না। লোকাল প্রার্থীকেও বলতে হবে ফের এমপি হলে তারা আওয়ামী লীগের জন্য কি করবেন। কারণ বিগত দিনে ক্ষোভ ছিল যে আওয়ামী লীগ উপেক্ষিত। আবারো সেটার পুনরাবৃত্তি ঘটলে আওয়ামী লীগ মাঠে নামবে না।

সোনারগাঁও থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে মহাজোটের এমপি হওয়ার পর থেকে এখনো তিনি আওয়ামীলীগের সাথে যোগাযোগ করেনি। তার কাছ থেকে আগামীতে আওয়ামীলীগের কি পাবেন তা জানা নেই।

জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৫ আসনের নৌকা প্রার্থী দাবিতে জেলার অনেকে মনোয়ন প্রত্যাশী ছিলেন কিন্তু তাদের না দিয়ে মহাজোট থেকে প্রার্থী দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির মিলিত মহাজোট থেকে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তাই এ ব্যাপারে আরো আলোচনা করতে হবে। আগামী ৮ ডিসেম্বরের পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।

৩ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দুটি আসনের ব্যাপারে আলোচনা হয়।

মহানগর আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমাদের টার্গেট ছিল নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর জন্য। নেত্রী যেখানে দিয়েছে সেখানে তো আর কিছু বলার নাই। তার পরেও আমরা নেত্রীর কথা মেনেই কাজ করবো। তবে আমাদের আক্ষেপের জায়গাটি আরো বাড়লো।’

নির্বাচনী বছরের শুরুতে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা জেলার ৫ টি আসনে নৌকা প্রতীকের দাবি জোরালো দাবি করে আসছেন। সেই দাবির প্রেক্ষিতে দলটির নেতাকর্মীরা বেশ সরব হয়ে উঠে। বিশেষ করে এই আসনে দীর্ঘীদিন যাবত জাতীয় পার্টির সাংসদ রয়েছে বলে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা এই আসনে কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেনা বলে অভিযোগও করেছেন।

আওয়ামীলীগে নেতাকর্মীরা বলে আসছেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত এই আসনে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা নৌকা মার্কায় ভোট দিতে পারেনা। তারা নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করতে চায়। কিন্তু তা দীর্ঘ এক যুগের ও বেশি সময় ধরে সম্ভব হয়নি। তাতে করে এই আসনে দলটির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, নিষ্পেষিত হয়ে আসছে। এর ফলে এই আসনে নৌকার জোড়ালো দাবি তুলে আসছে দলটির নেতাকর্মীরা।

এদিকে সম্প্রতি বন্দর উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন এমপি সেলিম ওসমান যেখানে নেতাদের অনেকে কণ্ঠে উঠে আসে কঠোর সমালোচনার বাক্য। সেলিম ওসমানও এসব অভিযোগ শুনেন। নেতাদের অভিযোগ ছিল বিগত সাড়ে ৪ বছরে সেলিম ওসমান আওয়ামী লীগের নেতাদের ডাকে নাই। এ কারণেই তাদের মধ্যে অভিমান। সেলিম ওসমান এসব অভিমানের কথা শুনে সাফ জানালেন নিজের কথা। সেই সঙ্গে বন্দরে একটি পার্টি অফিস আওয়ামী লীগকে করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মান ভাঙ্গিয়েছেন। বন্দরে সেই ক্ষোভ মেটানোর চেষ্টা করা হলেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের ভেতরে রয়েছে চাপা ক্ষোভ।

আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা বলেছেন, অচিরেই তাদের সঙ্গে দুই এমপি না বসলে অনেক নেতাদের ভেতরে গোপন বিদ্রোহ হতে পারে। সেটাকে মিইয়ে দিতে হলে তাদেরকে সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করা দরকার।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও