নির্বাচনী মাঠে তৈমূর, লবিংয়ে কাজী মনির দিপু

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৭ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার



নির্বাচনী মাঠে তৈমূর, লবিংয়ে কাজী মনির দিপু

সারাদেশেই বইছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। আর এই নির্বাচনী হাওয়ায় নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে সরব রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। বিপরীতে বিএনপির দলীয় মনোনয়নের চিঠিপ্রাপ্ত অন্য দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ব্যাস্ত রয়েছেন লবিংয়ে। নিজেদের দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিতের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের দপ্তরে দপ্তরে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

জানা যায়, দুটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত এক সময়ের জামদানি শিল্প সমৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জ-১ (রুপগঞ্জ) আসনটি এখন শিল্পনগরী হিসেবে সুপরিচিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে শহরতলীর চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট। এতদিন নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা থাকলেও নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে সে অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। সর্বশেষ গত ১১ নভেম্বর দলটির কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তারা এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। সে সিদ্ধান্তের আলোকে তারা মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা শুরু করে।

যারা ধারাবাহিকতায় এ আসন থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছিলেন বিএনপির প্রায় ৫ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। এসকল মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বাছাই করে প্রাথমিক পর্যায়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়। তারা সকলেই নির্বাচন অফিসে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন এবং একই সাথে তিনজনই বৈধতা পেয়েছেন। এবার তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষার পালা।

এদিকে তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ প্রচার প্রচারণায় সরব থাকলেও বিএনপি ছিল পুরোপুরি নিশ্চুপ। দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবী আর মামলা গ্রেফতারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল নেতার্মীরা। একের পর এক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেও কার্যত কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদেরকে। সেখানে সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চেয়ে ব্যতিক্রম ছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি নিজের মতো করে নির্বাচনী এলাকায় সরব ছিলেন।

নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চেয়ে সার্বিক বিবেচনায় সবদিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। সকল বাধা বিপত্তির মুখে থেকে নারায়ণগঞ্জে সবার আগে সক্রিয় হয়েছেন তিনি। তিনি তার নিজ আসন রূপগঞ্জের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় কর্মীসভা ও উঠান বৈঠক শুরু করেছেন। তিনি সাথে নিয়ে এলাকার কোন কোন স্থান এখনও অবহেলিত আছে তার খোঁজ নিচ্ছেন।

আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় ও তিনি এমপি হলে এলাকার সমস্যা দূরীকরণের পাশাপাশি আধুনিক রূপগঞ্জ উপহার দেবার ও প্রত্যয় ব্যাক্ত করছেন জনে জনে। সর্বশেষ গত ৩ ডিসেম্বর সোমবার নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের বিএনপি দলীয় মনোনয়নের চিঠিপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার উঠান বৈঠক করতে গিয়ে পুলিশের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তারপরেও তিনি পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই নির্বাচনী এলাকায় সরব রয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রিয় মানুষ ও গণমানুষের নেতা হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তৈমুর আলম খন্দকারের। তিনি যেদিকেই যান সেদিকেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে। সংসদীয় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝেই তাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। আইনজীবী হিসেবে নেতাকর্মীদের বিপদ-আপদে সবসময় ছুটে আসেন তিনি। ফলে সকল দিক বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও