শেষ কুরবানীর অপেক্ষায় ধানের শীষের ৮

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪০ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার



শেষ কুরবানীর অপেক্ষায় ধানের শীষের ৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ইস্যুতে বিএনপি ও তাদের শরীক দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে কমন প্রতীক ধানের শীষে নির্বাচন করছে। এই দলটি প্রত্যেকটি আসনে একাধিক মনোনয়ন প্রতাশীকে মনোনয়নের চিঠি দেয়। এর মধ্যে বাছাই প্রক্রিয়া শেষে আগামী ৮ ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের দিন চূড়ান্ত মনোনয়ন বিষয়টি স্পষ্ট হবে। আর সেদিন বিএনপি দলটি প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকায় থাকা ৮ জনের মধ্যে ৫ জনকে কুরবানী হতে হবে। আর সেই বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের ৩ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুরবানীর মত ত্যাগের মধ্য দিয়ে বিএনপি ও তাদের শরীকদলগুলো যৌথ সিদ্ধান্তের ভিক্তিতে দলকে ক্ষমতায় ফেরানোর লক্ষ্যে দলের মধ্য থেকে সবচেয়ে বেশি যোগ্য নেতাকে বাছাই করে বাকিদের কুরবানী দিবে। আর সেই ত্যাগের মধ্য দিয়েই দলের প্রার্থীর বিষয়টি ষ্পষ্ট হবে।

এদিকে ঐক্যফ্রন্টের দলগুলো কমন প্রতীক হিসেবে ধানের শীষে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয় দলটি। আর মনোনয়ন ইস্যুতে সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রায় অর্ধশত মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ৫টি আসনে মোট ১৩ জনকে চিঠি দেয় দলটি। তবে এর মধ্যে একটি আসনে দুজনের মধ্যে একজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেনি। এতে করে সেই আসনে আপাতত কোন দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছেনা। আগামী ২ ডিসেম্বর প্রার্থী যাচাই বাছাই করা হবে। এবং ৮ ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিনই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। যেকারণে এ জেলার ৫টি আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়নের চিঠি পাওয়া নেতাদের আগামী ৮ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এ জেলার ৫টি আসনে বিএনপি দলটির ১২ জন এবং তাদের শরীক দল নাগরিক ঐক্যের একজন সহ মোট ১৩ জনকে দলটির কেন্দ্র থেকে মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সোনারগাঁ আসনের একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোনয়ন পত্র দাখিল না করায় ওই আসনে বাকি একজনের প্রার্থী হওয়ার পথ প্রায় সুগম হয়েছে। এদিকে নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন পত্র বাছাই পর্বে বিএনপি দলটির আরো কয়েকজন বাদ পড়ে যান। এতে করে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা আরো কমে এসেছে।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পত্রের চিঠি পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। মনোনয়ন বাছাই পর্বে এদের মধ্যে কেউ বাদ পড়েনি। এতে করে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় এরা সবাই লড়ছে। তবে কে টিকে থাকার হাসি হাসবে তা এখনো নিশ্চিত হয়। তবে কিছু সূত্র বলছে, এই আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেক্ষেত্রে বাকি দুজন কুরবানী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসন থেকে মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর ও বিএনপি নেতা মাহামুদুর রহমান সুমন। এই আসনে মনোনয়ন পত্র বাছাই পর্বে কেউ বাদ পড়েনি। তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন লড়াইয়ে আজাদ কিংবা আঙ্গুরের নাম আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যেকারণে এই আসনেও বাকি দুজনকে কুরবানী হতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসন থেকে  মনোনয়নের চিঠি  পেয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আবু জাফর। এই আসনে মান্নান মনোনযন পত্র দাখিল করলেও জাফর দাখিল করেনি। যেকারণে এই আসনে জাফর নিজে থেকেই কুরবানী হয়ে যাওয়ার ফলে মান্নান অনায়াসে প্রার্থী হতে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে  মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন জেলা বিএনপির সহ  সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি মো. শাহআলম ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। এই আসনে দুজনের মধ্যে মনোনয়নপত্র বাছাই পর্বে  মামুন মাহমুদ বাদ পড়ে যায়। যেকারণে শাহআলমের প্রার্থীতা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসন থেকে মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল কালাম ও মহানগর যুবদলের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। এবং শরীক দল নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরামকে চিঠি দেয়া হয়েছে। মনোনয়ন পত্র বাছাই পর্বে মহানগর যুবদলের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বাদ পড়ে গেছেন। আর বাকি দুজনের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরামের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। আর তাতে করে মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের কুরবানী হওয়ার সম্ভাবনা বেশ প্রকট হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিএনপি ও তাদের শরীক দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেন্দ্র থেকে চিঠি দেয়ার প্রেক্ষিতে মোট ১৩ জন মনোনয়নের প্রাথমিক তালিকায় ছিল। এর মধ্যে একজন মনোনয়ন পত্র দাখিল না করায় প্রথমেই একজন কমে যায়। আর মনোনয়ন পত্র বাছাই পর্বে আরো দুজন বাদ পড়ে যায় এতে করে ১০ জন হয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ জন। তবে দুটি আসনে একক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকার ফলে ওই দুটি আসনের আরো দুজনকে বাদ দিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন লড়াইয়ে মোট প্রতিযোগির সংখ্যা ৮ জন। এখন আগামী ৮ ডিসেম্বর ধানের শীষের প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। সেই দিন ৮জনের মধ্যে যে কোন ৩ জনকে প্রার্থী দেয়া হবে। আর তাতে করে মনোনয়ন রেসে ছিটকে পড়া বাকি ৫ জনের কুরবানী হবে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও